CFMOTO Bangladesh - Cool Life Cruising
Our Partners:
Lifan Advertisement
CFMoto Advertisement
BikeBikroy Advertisement
ELF Advertisement

হিরো হাঙ্ক ১৫০ মালিকানা রিভিউ - আহাদ বিন জাহিদ

হিরো হাঙ্ক ১৫০ মালিকানা রিভিউ - আহাদ বিন জাহিদ
0 Add us on
Saleh Bangla
0 Followers
Published: April 28, 2018
Add on
No audio available

প্রথমেই ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি যারা টেকনিক্যাল ভঙ্গিমার রিভিউ পরে অভ্যস্ত তাঁদের জন্য এই লিখা না। ইঞ্জিনের কাঠামো – কাজের মাত্রা বা খুঁটিনাটি নিয়ে বিশেষজ্ঞ পর্যায়ের রিভিউ দেয়া আমার ক্ষমতার বাইরে। আমি মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার না বা হিরো কোম্পানির মোটরসাইকেল প্ল্যান্টের থেকেও বলছি না। আমি আজ আমার হিরো হাঙ্ক ১৫০ এর রিভিউ লিখতে যাচ্ছি। আমি হিরো হাঙ্ক ১৫০ কিনি ২০১৭ সালের অগাস্ট মাসের ২০ তারিখ। প্রথমে ইচ্ছা ছিল ১০০ সিসির কিছু নেবার। কারণ আমি মূলত কমিউটার রাইডার। শহরের মাঝেই চলাফেরা আর দৈনন্দিন অফিস যাতায়াত করার জন্যই বাইক কেনার চিন্তা করছিলাম। পরে দাম কমের দিকে থাকায় নতুন বাজারে আসা ব্র্যান্ড “হিরো অ্যাচিভার” আমার দৃষ্টি কাড়ে। হাঙ্কের ইঞ্জিন – মোটামুটি বিগ বাইক ফীল – ডিউরেবিলিটি – স্পেয়ার পার্টস সবদিক মিলিয়ে আমার কাছে মডেলটা বেশ ভালো ভালোই লাগে। তাছাড়া ১৫০ সিসির সেগমেন্টে সবথেকে কমদামী মডেল। বাজেট কিছুটা বাড়িয়ে চিন্তা করি অ্যাচিভার নেবার। সমস্যা হয় মডেলটা সরাসরি দেখার পর। ওভারঅল ফিনিশিং আর ফিচার দেখে আগ্রহ হারিয়ে ফেলি। সবথেকে বেশি দৃষ্টিকটু লাগে আমার কাছে পিছনের চাকার মাপ। হ্যা ... এটা ঠিক যে মোটরসাইকেলে এফজেডএস বা জিক্সার এর মতন মোটা চাকা থাকতেই হবে নাইলে হবে না, বিষয়টা এমন না কিন্তু ১৫০ সিসির একটা মাস্কুলার মোটরসাইকেলে যদি পিছনের চাকার মাপ হয় 80/100-18 54P তাহলে সেটা শুধু দৃষ্টিকটুই না, কিছুটা ঝুঁকিপূর্ণও মনে হয়। সবকিছুর একটা পরিমিত মাত্রা থাকে। আমার কাছে একদমই খাপছাড়া লেগেছে মডেলটা শুধু এই চাকার কারণে।

Also Read: বাংলাদেশে হিরো এক্সট্রীম স্পোর্টস এর রিলিজ হচ্ছে খুব দ্রুতই

মজার বিষয় হল, শোরুমে ঠিক পাশেই রাখা ছিল হিরো হাঙ্ক ১৫০ এর ডাবল ডিস্কের একটা মডেল। দুইটাকে পাশাপাশি দেখে যে কারো পক্ষেই অ্যাচিভার পছন্দ করা কঠিন। তবে আমার ঐ মুহূর্তে হাঙ্কের মত বাজেট ছিল না। হাঙ্ক তখন ডাবল ডিস্ক ভার্সন বিক্রি হচ্ছিল ১,৬৯,৯৯০/= দামে। অ্যাচিভার এর সাথে প্রায় ৩০/৩৫ হাজারের ব্যবধান দামে, কিন্তু তুলনায় অনেক এগিয়ে হাঙ্কhunk-price-in-bangladesh আমি কিছুটা কনফিউজড হয়ে যাই। আমাকে এই দোটানা থেকে উদ্ধার করেন আমার সাথে থাকা কলিগরা। তাঁদের দুইজনের কথামতো হাঙ্ক নেবার জন্যই মনস্থির করি। এখানে একটা বিষয় সত্যি, যে মনে মনে আমি নিজেও হাঙ্কের প্রতি সাংঘাতিক দুর্বল। আর এই দুর্বলতা হাঙ্ক দেশে প্রথম আসার সময় থেকেই। তরুন জেনারেশনের কাছে একসময়ের ক্রেজ পালসার, পরের জামানায় এফজেডএস বা জিক্সার হয়ে “সিবিআর”/”ইয়ামাহা আর ১৫” হলেও আমার কাছে হিরো হাঙ্ক পছন্দের তালিকায় শীর্ষেই ছিল। আর দাম ২,০৪,০০০/= টাকা থেকে এক ধাক্কায় ১,৬৯,৯৯০/=  টাকায় নেমে আসায় সেই ইচ্ছা এইবার আরও বেশি। যদিও এখন দাম আরও ১০,০০০/= কমে নিতে পারবেন আপনারা যারা কিনবেন।hero-honda-hunak-price-in-bangladesh - Copy বর্তমানে হাঙ্ক ডাবল ডিস্ক ১,৫৯.৯৯০ দামে বিক্রি হয় আমি যতটুকু জানি। তবে ডিলারদের থেকে নিলে ৪/৫ হাজার কমেই পাওয়া যায়। যেমন আমি কেনার সময় বাংলামটরের এক ডিলারের থেকে নিয়েছিলাম। কেনার আগের দিন শুভ্র সেন দাদাকে মেসেঞ্জারে ফোন দিয়ে তার মোবাইল নাম্বার নেই, তারপর ফোন দিয়ে তার থেকে মতামত চাই। দাদার আন্তরিক পরামর্শে হাঙ্ক নেয়ার প্রতি ভরসা পাই। অসংখ্য ধন্যবাদ এই মানুষটাকে। বাইক কেনার পর একদিন ইঞ্জিন ওয়েলের মত তুচ্ছ বিষয়ে জিগ্যেস করলেও উনি সুন্দর করে উত্তর দেন। তার প্রতি কৃতজ্ঞতা থাকল। আমার কেনার সময় হিরো সেন্টারে হাঙ্কের দাম ১,৬৯,৯৯০/= ছিল। আমি ডিলারের থেকে নেই ১,৬৪,০০০/= দিয়ে। তখন সবথেকে বেশি চাহিদা ছিল “আর্মি গ্রিন” কালারের। ব্রাউন বা ব্ল্যাক তখন ছিল না। আমাকে এই আর্মি গ্রিন কালার নেবার জন্য প্রায় ২/৩ দিন ঘুরতে হয়। তবে আমি খুশিমনেই একটু দেখেশুনে নিতে চাচ্ছিলাম। তেজগাঁও শোরুম থেকে ফেরত যাবার ৫/৭ দিনের মাঝেই বাজেট বাড়িয়ে আর ডিলারকে কনফার্ম করে আমি হাঙ্ক নেই ২০১৭, অগাস্টের ২০ তারিখ।Hero-Hunok-Price-Big একটা কথা বলার লোভ সামলাতে পারছি না, মনেপ্রানে যে হার্ডকোর বাইকার... তার সামনে যখন তার নতুন কেনা বাইক রেডি করা হতে থাকে, সেই সময়টুকুর মূল্য কেউ কোনদিন লিখে বোঝাতে পারবে না। কোন চিত্রকরের সাধ্য নেই সেই সময়কে চিত্রায়ন করে। এটা একটা অসাধারণ অনুভুতি। আর যদি সেই বাইকের দামের প্রতিটা টাকা নিজের রক্ত পানি করা হালাল উপার্জন হয়ে থাকে তাহলে সেই বাইকারের ভিতর কি অনুভুতি থাকে সেটা আমি এখন উপলব্ধি করতে পারি। কেন হিরো হাঙ্ক ১৫০? প্রথমেই বলবো, এই দামে চলতি বাজারে হিরো হাঙ্ক ১৫০ সেরা। এর কাছাকাছি মানের আর দামের মাঝে বাজারে থাকা মডেলগুলোর সাথে তুলনায় আমি হাঙ্ককে এগিয়ে রাখব। কিছু মডেল ধরে বরং তুলনাটা করি।

প্রথমেই বলবো, পালসারের তুলনায় হাঙ্কে আছে ডাবল ডিস্ক। চালিয়ে আরাম বেশী হাঙ্কে, হাইওয়েতে হাঙ্ক বেশী কার্যকর। ২০১৭ মডেলের পালসারের একটা বদনাম অনেকে করে যে, ইঞ্জিনের শব্দ নষ্ট হয়ে যায় যদিও আমি নিজে ব্যবহার করিনি পালসার... তবে হাঙ্ক নিয়ে এমন কমপ্লেইন শুনিনি কারো থেকে। মাইলেজে ২০১৭ হাঙ্ক এগিয়ে। যাঁদের উচ্চতা ৫ ফিট ৮ এর উপর এমন যে কেউ হাঙ্কে বেশী সুবিধা বোধ করার কথা পালসারের চেয়ে। আমার উচ্চতা ৫ ফিট ১০, তাই স্বভাবতই হাঙ্ক আমার কাছে স্বাচ্ছন্দ্যজনক।

ব্রেকিং নিয়ে অ্যাপাচির বদনাম কমবেশি অনেকেই করে, যেটা হাঙ্ক নিয়ে প্রায় নেই। মাইলেজে দুই বাইক সমান প্রায়, কন্ট্রোলিং এর ক্ষেত্রে আমি অবশ্যই হাঙ্ককেই এগিয়ে রাখবো। রাইডিং পজিশন হিসাব করলেও হাঙ্ক ভালো। তবে জ্যামের মাঝে দুই গাড়ির চিপা দিয়ে নাক ঢুকিয়ে আচমকা টান দেওয়ার জন্য অ্যাপাচি বেটার।

পুরোই আলাদা ঘরানার মডেল, ক্রুজার বেসড, যদিও ইঞ্জিন পালসারের।hero-hunk-150-bad-priceহিরো হাঙ্ক ১৫০ এবং হিরো হোন্ডা হাঙ্ক ১৫০ এর মাঝে পার্থক্য কি আদৌ আছে? আমার মতে হ্যা। আছে। আগের হাঙ্কের তুলনায় বর্তমানের মাইলেজ বেশী। তবে টপ স্পীড ৫/১০ কিলো কম উঠে। শাড়ি গার্ডের উপরে আগে একটা হেলমেট লকার থাকতো, যেটা নতুনগুলোয় নেই। এখনকারগুলোর ইঞ্জিন অনেক রিফর্ম করা, তাই স্মুথনেস বেশী, তবে আগেরগুলোর থ্রটোল রেসপন্স (রেডি পিকআপ) বেশী ছিল। আগেরগুলোর থেকে এখনকারগুলোয় উন্নত অ্যায়ারিং আছে। তবে চাকার রিম আমার কাছে পুরনোগুলোর বেশী শক্তিশালী মনে হয়েছে যদিও ব্রেকিং এখনকারগুলোয় বেশী স্মুথ। নাইট্রো পাওয়ার্ড শক অ্যাবজারভার নতুনগুলোয় উল্টো করে লাগানো, এটা ঝাঁকিরোধে কার্যকরীতা বাড়িয়েছে। সবদিক মিলিয়ে আমি নতুন ভার্সনের পক্ষে। তবে আসল তুলনা করা যাবে নতুনগুলো ৪০/৫০ হাজার কিলোতে যখন আসবে তখন।কি সুবিধা/অসুবিধা হিরো কোম্পানির? ৫ বছর বা ৭০০০০ কিলো ইঞ্জিন ওয়ারেন্টি, স্পেয়ার পার্টসের সহজলভ্যতা, দেশব্যাপী হিরোর সার্ভিস সেন্টার এইগুলো বেশ পজিটিভ। আমার কাছে মনে হয়েছে স্পেয়ার পার্টসের দাম তুলনামুলক বেশী। তবে হিরোর সার্ভিস সেন্টারের ব্যবহার বেশ সন্তোষজনক। আর ঢাকা বা বাইরের থানা সদরেও সার্ভিস সেন্টার আছে, এই সুবিধা এখনও চায়নার থেকে আনা বাইকগুলোর পরিবেশকরা দিতে পারেনি। হিরো হাঙ্ক ১৫০ - লুকস ও ডিজাইন হাঙ্ক যথেষ্ট পুরুষালী এবং মাস্কুলার লুকের। ৩৬০ ডিগ্রি ভিউতে কোন দিক থেকেই কমতি চোখে পড়ে না। বসার জায়গায় পিলিওন আর রাইডার সিট দুইটার মাঝে ঢেউ খেলানো পার্থক্য আছে। বাইকের ডিজাইনার বাইকে একটা ষাঁড়ের গঠন দিতে চেয়েছিল এবং তাতে সে সফল। তবে হেড লাইটের ডিজাইনে আরও উন্নত কিছু করার অবকাশ ছিল। বাইকে অ্যারো ডাইন্যামিক শেপ ভালমতো মানা হয়েছে। এর মিটারের গঠন অ্যানালগ আর ডিজিটাল মিলিয়ে। ডিসপ্লেতে ঘড়ি আছে। স্পিডোমিটার ডিজিটাল তবে আরপিএম এনালগ।hero-hunk-speedometer - Copyফুয়েল ট্যাংকের ধারণ ক্ষমতা ১২.৪ লিটার সাথে ২.২ লিটার রিজার্ভ। বাইকের ড্রাই ওয়েট ১৪৬ কেজি। ডাবল ডিস্কের বাইকটির দুটি চাকাই টিউবলেস। বাইকে কিক বা সেলফ দুইভাবেই স্টার্ট দেবার ব্যবস্থা আছে। ১২ ভোল্টের ব্যাটারি দেয়া আর পিছনের টেল লাইট এলইডি। পিছনের নাইট্রো পাওয়ার্ড সাস্পেনশন এর সাথে সামনে টেলিস্কোপিক সাস্পেনশন। সবকিছু মিলিয়ে বেশ আকর্ষণীয় একটা মডেল। হিরো হাঙ্ক ১৫০ - মাইলেজ হাঙ্কে ২০১৬/১৭ মডেল গুলোতে নতুন একটা জিনিস যোগ হয়েছে, তা হল বেটার মাইলেজ। আমি ব্যক্তিগতভাবে হাঙ্কে ৪২/৪৫ মাইলেজ পাচ্ছি। আর পুরনো হিরো হোন্ডা মডেলের ব্যবহারকারীরা যতদূর জানি ৩২/৩৫ এর মতন পান। তবে মাইলেজ বেশ কিছু বিষয়ের উপর নির্ভর করে যেমনঃ

Hunak-150k-price

 আমার মতে ১৫০ সিসির একটা বাইকে যদি ৪০ এর উপরে মাইলেজ থাকে তাহলে সেটাকে সন্তোষজনক ধরা উচিৎ। কেননা আমাদের দেশের অধিকাংশ পাম্পের তেলে মাপে এবং মানে সমস্যা আর তেলের মান বা “রন” আন্তর্জাতিক মানের থেকে বেশ নিচে। এই কারণে এমনিতেই ১০/২০ ভাগ পারফর্মেন্স কম দেয় বাইকগুলো। হিরো হাঙ্ক ১৫০ - ব্রেকিং হাঙ্কে আছে নিসিন কোম্পানির বানানো ডাবল ডিস্ক ব্রেক। যারা নিসিন সম্পর্কে জানেন না, তাঁদের জন্য সংক্ষেপে বলি... নিসিন হল পৃথিবীর অন্যতম সুনামধারী এক ব্রেক প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান। হাঙ্কে আছে সামনে ২৪০ মিলি এবং পিছনে ২২০ মিলির ডিস্ক ব্রেক। ব্যক্তিগতভাবে আমার কাছে হাঙ্কের ব্রেকিং খুবই ভালো লেগেছে। দুই ব্রেক একসাথে ধরলে খুব সুন্দর রেসপন্স পাওয়া যায়। তবে নতুন রাইডারদের এই কম্বিনেশন হাতে আসতে কিছু

হিরো হাঙ্ক ১৫০ - সুবিধা

hero-hunc-150k-price-to18হিরো হাঙ্ক ১৫০ -  অসুবিধা

হিরো হাঙ্ক ১৫০ - মডিফাই

মোটরসাইকেল মালিকানা রিভিউ হিরো

Discussion 8 Comments