CFMOTO Bangladesh - Cool Life Cruising
Our Partners:
Lifan Advertisement
CFMoto Advertisement
BikeBikroy Advertisement
ELF Advertisement

লিফান কেপিআর ১৫০ ওনারশীপ রিভিউ - অসীম নাফিস

লিফান কেপিআর ১৫০ ওনারশীপ রিভিউ - অসীম নাফিস
0 Add us on
Md Kamruzzaman Shuvo
0 Followers
Published: October 29, 2016
Add on
No audio available

বাংলাদেশের  এযাবৎকালের মোটামুটি সবচেয়ে  আলোচিত ও বিতর্কিত বাইক লিফান কেপিআর ১৫০ কে আট মাসে বিশ হাজার  কিলোমিটার  টর্চার করার পর  নানান  বিতর্কিত  তথ্য  নিয়ে আমাদের বিস্তারিত আয়োজন।

লিফান কেপিআর ১৫০ ওনারশীপ রিভিউ

ঢাকা মেট্রো  ল-২৪৭৯৫৯ কালার লাল ওডিও ২০,০০০কিমি

Lifan KPR 150 এর ভিডিও রিভিউ

আমি ফেব্রুয়ারি মাসে রাসেল ইন্ডাসট্রীজ থেকে Lifan KPR 150 টি কিনি। ব্রেক-ইন এর নির্দেশনা  ছিল  ৩ হাজার  কিলোমিটার। আমি ১৫০০ কিলোমিটার  এ ব্রেক-ইন এর সমাপ্তি  দেই নিজ দায়িত্বে। প্রথম ৩০০ কিলোমিটারে প্রথম  ইঞ্জিন লুব ড্রেইন, পরবর্তীতে  ১০০০ কিলোমিটারে  ইঞ্জিন  লুব ড্রেইন। ১৫০০ কিলোমিটারে  সিন্থেটিক Mobil 1 Racing 4T.  প্রতি ১৫০০ কিলোমিটারে  ও চেঞ্জ  করতাম। পরবর্তীতে  Motul 7100 10w40 তে সিফট করে  প্রতি ২৫০০ তে  ড্রেন দিচ্ছি।

১৫১০ কিলোমিটার  থেকে লিফান কেপিআর ১৫০ টি নিয়ে হাইওয়ের যাত্রা শুরু  এখনও  চলছে। যাওয়া  হয়েছে  বান্দরবান, আলিকদম, কক্সবাজার, সিলেট, বরিশাল, বরগুনা, পটুয়াখালী, রায়েন্দা, শরণখোলা, সাজেক, নোয়াখালী,  চিটাগাং, কুমিল্লা, ময়মনসিংহ, নেত্রকোনা, সুনামগঞ্জ, খুলনা, বাগেরহাট আরও অনেক.......... মোট ২০ হাজার  কিলোমিটারে  ১৪ হাজার  কিলোমিটার চলেছে হাইওয়েতে আর বাকি ৬ হাজার সিটিতে ।

লিফান কেপিআর ১৫০ এর বিস্তারিত দোষ-গুন

এইবার  আসি আমার এই ২০,০০০কিমি এর লম্বা  যাত্রায়  কিভাবে  লিফান কেপিআর ১৫০ থেকে সাপোর্ট  পেয়েছি   আর কি কি  পাইনি ।

লিফান কেপিআর ১৫০ এ আমার কিছু টেকনিক্যাল অভিজ্ঞতা

লিফান কেপিআর ১৫০ নিয়ে বিশ হাজার  কিলোমিটার  চালানোর  মধ্যে  সাজেক  টুর‌্ এর পর পনের  হাজার  কিলোমিটার  এ  টেবিট-টাইমিং মেলানোর  জন্য  শুধু  একবার  হেড কাভার খোলা  ছাড়া  কোন  নাটে রেঞ্জ  ও ধরাতে হয়নি । এখানোও ক্লাচ পেল্ট সম্পূর্ণ  সুস্থ  আছে ।

গিয়ার শিফটিং 3000-5000 কিলোমিটার  পর্যন্ত হার্ড ,  এর পর  সামান্য  সফট হয়ে অনেকটা IPL HUNK এর মত হয়েছে । পরবর্তীতে  খেয়াল  করলাম  শিফটার রডে একটা  এডজাস্টার আছে,  এডজাস্টার  টা টাইট দেয়ার পর  গিয়ার ফুল স্মুথ হয়ে গিয়েছে । আমার  মতে  এটা  রাসেল  ইন্ডাস্ট্রিড এর এসেম্বলি লাইনের ভুল,  তারা  এই বিষয় টি মোটেও  মনে হয়  খেয়াল করে না,  অযথাই  হার্ড শিফটিং নিয়ে অনেক  দিন  কষ্ট  করলাম ।

লিফান কেপিআর ১৫০ এর ইঞ্জিন  পারফরমেন্স  একেবারে  ক্ষুধার্ত  জানোয়ার  এর মত ।  থ্রোটল টুইস্ট করতে দেরি  সাড়ে তিন  হাত  গেপে ও.টি. মারা  যায়  চোখের  পলকে । বাংলাদেশে  লিগেল 150 সেগমেন্টের  কোন  এয়ার  কুল্ড ইন্ডিয়ান/চাইনিজ  বাইক কেপিআর  এর টেইল লাইট দেখতেও সক্ষম  নয় । 3RD গিয়ারেই নক আউট  হয়ে যায়,  শুধুমাত্র  পালসার  এস টাফ কম্পিটিশন দেয় ।  উভয়ের  টপ 137/137 . কম্প্রেশন ও BHP  রেশিও এর কারণে  টাফ কম্পিটিশন এর সৃষ্টি হয় ।  উক্ত  বিষয়ে  কোন  প্রকার  সন্দেহ নেই  এবং আমি  নিজে  প্রমাণিত।

এছাড়া  সিবিআর , R15 ও অন্যান্য  150 সিসি হাই পারফরমেন্স  বাইককে টপে অভারটেক করা  যায় না,  এমন কি 120 এর পর সমান  সমান  ও থাকা  যায় না । যদি  এতে  কেউ  দ্বিমত পোষণ করে  তাহলে  সেটা চরম মিথ্যা কথা । তবে  130 পর্যন্ত  এদের  পেছনে  পেছনে  আরামে  থাকা  যায় । পিস্টনের ঠিক  কানেক্টিং এর পাশ দিয়ে  একটা  ইঞ্জিন  লুব ইনজেকটর আছে  যেটা  হাইয়ার আরপিএম এ কোনাকুনি  পিস্টনের  নিচে  লুব স্প্রে  করে । এছাড়াও আরো কিছু অভিজ্ঞতা:

লিফান কেপিআর ১৫০ এ অন্যান্য কিছু বৈশিষ্ট্য

কুলিং সিস্টেম: লিফান কেপিআর ১৫০ এর ডুয়েল  পার্ট রেডিওটর । সিঙ্গেল পেনাসোনিক এর  ফ্যান ।  সারা  বাইকে  এক মাত্র  পার্টস যেটা মেড ইন জাপান ।   কুলিং সিস্টেম  পারফেক্ট  কাজ করে । রিজার্ভ  ট্যাংক  পিলিওন  সিটের  নিচে । কিন্তু  অনেক  সময়  একাধারে  জ্যামের রোডে চালালে  অনবরত 15 সেকেন্ড  এর বিরতিতে  কুলিং  ফ্যান  চলে  ইঞ্জিন  তাপমাত্রা  সহনীয়  হলেও  ট্যাংক  গরম হয়ে যায় । যেটা  আবার  2 মিনিটের  ফ্রি রোড  পেলে সেই গরম ভাপ টা চলে যায় ।  হাইওয়েতে একটানা  260 কিলোমিটার  চালানোর পরও ইঞ্জিন হাত দিয়ে  ধরে দেখছি,  হাতে  সহনীয়  তাপমাত্রা ।

ওয়ারেন্টি এন্ড  রিপ্লেসমেন্ট: ওয়ারেন্টি এন্ড রিপ্লেসমেন্ট  নিয়ে  রাসেল ইন্ডাসট্রীজ  বেশ একটিভ । এতে  কোন  সন্দেহ নেই । যে কোন  ওয়ারেন্টি  ক্লেইম করার  পর গ্রেন্টেড/যুক্তিযুক্ত হলে  সর্বোচ্চ  পরের  দিনের  মধ্যেই  রিপ্লেস  পেয়েছি । অনেক  দেখলাম  সেই দিনই পেয়ে  গেছে। আমি  দুটি ওয়ারেন্টি  ক্লেইম  করে  ছিলাম  1. মিটার ,  1800 কিলোমিটারে  আরপিএম  মিটার   হঠাৎ  হঠাৎ  আটকে যেত 2. পেছনের  ডিস্ক , একটু  এক জায়গায়  একটা কাট ঠিক ছিল না  আওয়াজ  করত । দুটোই  পরের  দিন  চেঞ্জ ।

লিফান কেপিআর ১৫০ সার্ভিস এন্ড  স্পেয়ার্স

রাসেল  ইন্ডাসট্রীজ  এর লালমাটিয়ায় লিফানের মেইন সার্ভিস  সেন্টার। চোখে  আঙুল দিয়ে  দেখিয়ে  দেখিয়ে  বলতে  পারবো  বাংলাদেশের  অনেক অনেক  বড় বড়  বাইক  কোম্পানির  এমন একটা  রেসপন্সসিভ ,  একটিভ ও এক্সপার্ট  সার্ভিস  টিম নেই । অন্যদের মত অনেক  আধুনিক  যন্ত্রপাতি নেই  কিন্তু  এর পরেও  ঐসব আধুনিক  যন্ত্রপাতি  ওয়ালা  বড় বড়  কোম্পানি  এদের  কাজ ও কাজের  গতি  ও পারফেকশন দেখলে লজ্জা  পাবে।

মাঝে  মেকানিক্সরা বেশ  গা -ছাড়া  ভাবে  কাজ করত,  আমিও দু  দিন  ভুগেছি । এনিয়ে  বেশ হৈ হুল্লোড়  পর এখন  দেখলাম  আবার  মেকানিক্স  রা  পুরোপুরি  সোজা  হয়ে  গিয়েছে  মেনেজমেন্ট এর চাপে। প্রয়োজন  ছাড়া  অযথা  সস্পেয়ার্স  চেঞ্জ  করার  ডিমান্ড  করে না ।  বাহির থেকে  ব্রেক সু কিনে তাদের  কাছে  চেঞ্জ করতে  গেলেও কোন  চার্জ  নেই। সার্ভিস  চার্জ  ফ্রি । আঁটটি ফূল সার্ভিস  ফ্রি।

এরা কাস্টমার  এর জবকার্ড কমপ্লেইন  অনুযায়ী  কাজ করে। সিরিয়াল  অনুযায়ী  ও ছোট  বড় কাজ অনুযায়ী  কাজ করে । যেমন ব্রেক পেড ফিল্টার,  চেক আপ  আগে ছাড়ে । ইঞ্জিন  ঘটিত বিষয়  ধীরে সুস্থে সময়  নিয়ে  করে ।

লিফান কেপিআর ১৫০ এর স্পেয়ার্স  এভেলেবল।  হঠাৎ  কখনো  সর্ট পরলেও পরবর্তী  দিনই ফেক্টরি থেকে  বেক আপ এর ব্যাবস্থা করে ।  কোন  স্পেয়ার্স  পরিবর্তন  এর প্রয়োজন  হলে,  সার্ভিস  টীম ইঞ্জিনিয়ার  এর পরামর্শ  নেয়। স্পেয়ার্স  এর দাম  আকাশ  চুম্বি না । অন্যান্য  বাইকের  মত নরমাল  দাম ।

আমার নিজের কিছু বিবেচনা ও পরামর্শ

লিফান কেপিআর ১৫০ বাইকটি এপর্যন্ত চালানোর পর আমার কাছে মনে হয়েছে  ব্রেক -প্যাড ও টায়ার  বাদে অন্যান্য  সমস্যা  গুলো আমার  কাছে  তুচ্ছ  বিষয়। যে গুলো  কে সমস্যার  কাতারে  ধরা  যায়  না  কারণ  এই ধরনের  লেকিংস্ সব বাইকেই কম  বেশি  থাকে ।  থাই সিবিআর  এর ও চেইন  কিট সেট আমাদের  দেশের  জন্য  ভালো  না,  সবাই  নিজে আপগ্রেড  করে  নেয় ।

ব্রেক পেড ও টায়ার  আপগ্রেড  করার  পর এই মূল্যে এই ধরণের  শক্তিশালী  ইঞ্জিন  ও অসাধারণ  পারফরমেন্স  এর জন্যে  সামান্য  কমফোর্ট  আমি বিসর্জন  দিতে  রাজি ।  তবে  গিয়ার  শিফটিং  নিয়ে  রাসেল  ইন্ডাস্ট্রীজ  কে একটা  R&D করার  এবং আফটার  এসেম্বলি Q&C কে  আরেটু কঠোর অবস্থানে নেয়ার জন্য  অনুরোধ করছি।

তাহলে লিফান কেপিআর ১৫০ যে সমস্ত  খুঁটিনাটি  বিষয়  গুলো  আমি  ঠিক  করে  নিয়েছি  সে গুলো নিয়ে  পরবর্তী  ক্রেতাদের কোন  ঝামেলায়  জড়াতে  হবে না,  কোন  কমপ্লেইন  ও থাকবে না । আমি  লোকাল  মেকানিক্স  এর সাহায্যে দশ মিনিটে  গিয়ার  শিফটিং  এর সমস্যার সমাধান করতে  পারলে  তারা  এটা  আরও স্মুথ  করতে  পারবে ।

লিফান কেপিআর ১৫০ এর গুরুত্বপূর্ণ কিছু সমস্যা, প্রশ্ন  ও তার  সমাধান

তো বন্ধুরা আমার এটুকু অভিজ্ঞতায় আমি যতটুকু পেরেছি বিস্তারিত আলোচনা করলাম। আশা করি কিছুটা হলেও বিষয়গুলো পরিস্কার করতে পেরেছি। আজ এতোটুকই।

সবাই  সাবধানে  বাইক  চালাবেন । লেন চেঞ্জ  এর  আগে  লুকিং গ্লাস  ও ইন্ডিকেটর ব্যবহার  করুন । সবসময়  সামনের  থাকা  যানবাহনের  দিকে  তীক্ষ্ণ নজর  রাখুন । শুধু  হেলমেট  পরিধান  করবেনই না  হেলমেট এর স্ট্রাইপ/বেল্ট লক করুন ।

ধন্যবাদ : অসীম নাফিস আদর :)

  আপনিও আমাদেরকে আপনার বাইকের মালিকানা রিভিউ পাঠাতে পারেন। আমাদের ব্লগের মাধ্যেম আপনার বাইকের সাথে আপনার অভিজ্ঞতা সকলের সাথে শেয়ার করুন! আপনি বাংলা বা ইংরেজি, যেকোন ভাষাতেই আপনার বাইকের মালিকানা রিভিউ লিখতে পারবেন। মালিকানা রিভিউ কিভাবে লিখবেন তা জানার জন্য এখানে ক্লিক করুন এবং তারপরে আপনার বাইকের মালিকানা রিভিউ পাঠিয়ে দিন articles.bikebd@gmail.com - এই ইমেইল এড্রেসে।

বাইক রিভিউ মোটরসাইকেল মালিকানা রিভিউ লিফান স্পোর্টস বাইক ১৫০সিসি

Discussion 8 Comments