পুরাতন মোটরসাইকেল কেনাবেচার ক্ষেত্রে বাংলাদেশে একটি বিষয় এখনও বেশ অবহেলিত একটি বিষয় মালিকানা পরিবর্তন। অনেক ক্রেতা বাইক কেনার পর বছরের পর বছর সেটি ব্যবহার করলেও নিজেদের নামে মালিকানা পরিবর্তন করেন না। এতে শুধু আইনের লঙ্ঘনই হয় না, একই সাথে আর্থিক ও প্রশাসনিক ঝামেলার মুখে পড়তে হয় বিক্রেতাকে।
এমন পরিস্থিতিতে মোটরযানের মালিকানা পরিবর্তন নিয়ে সতর্কতামূলক বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)। সংস্থাটি জানিয়েছে সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮-এর ২১ ধারা অনুযায়ী কোনো মোটরযান বিক্রির পর মালিকানা পরিবর্তন বাধ্যতামূলক। অর্থাৎ শুধু বাইক বা গাড়ি বিক্রি করলেই দায়িত্ব শেষ হয়ে যায় না, নতুন মালিকের নামে মালিকানা পরিবর্তন নিশ্চিত করাও আইনগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ।


কেন উদ্বিগ্ন বিআরটিএ?
বিআরটিএর ভাষ্য অনুযায়ী, সম্প্রতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে যে অনেক ক্রেতা মালিকানা পরিবর্তনের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন না করেই মোটরযান সড়ক ও মহাসড়কে ব্যবহার করছেন। কিন্তু সরকারি রেকর্ডে অনুযায়ী পুরোনো মালিকের নামে বাইকটি বহাল থাকে।
এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে কর ও সারচার্জ পরিশোধের ক্ষেত্রে। কারণ নিবন্ধিত মালিক হিসেবে পুরোনো মালিকের নাম থাকায় যানবাহনের বিপরীতে নির্ধারিত অগ্রিম আয়কর তাকেই পরিশোধ করতে হচ্ছে। শুধু তাই নয়, কিছু ক্ষেত্রে প্রযোজ্য ১৫০ শতাংশ অগ্রিম আয়কর এবং পরিবেশ সারচার্জের বোঝাও বহন করতে হচ্ছে বিক্রেতাকে। অর্থাৎ আপনি যদি কয়েক মাস বা কয়েক বছর আগে নিজের মোটরসাইকেল বিক্রি করে দিয়ে থাকেন, কিন্তু মালিকানা পরিবর্তনের কাজ সম্পন্ন না হয়ে থাকে তাহলে সেই বাইকের কর–সংক্রান্ত দায় এখনো আপনার কাঁধেই থেকে যেতে পারে।
এছাড়াও সাম্প্রতিক সময়ে আইন শৃঙ্খলা ও রাষ্ট্রবিরোধী কাজে এই ধরনের মোটরযান জড়িত থাকার ঘটনা সামনে এসেছে যেখানে পুরাতন মালিক নাম পরিবর্তন না করার কারনে আইনি জটিলতা ও হয়রানির শিকার হচ্ছেন। তাই বিষয়টি যথেষ্ট উদ্বেগ এর।

মালিকানা পরিবর্তন এখন আগের চেয়ে সহজ
মালিকানা পরিবর্তনের জটিলতা কমাতে ইতোমধ্যে বিভিন্ন ডিজিটাল সেবা চালু করেছে বিআরটিএ। সংস্থাটি জানিয়েছে, বর্তমানে BSP পোর্টালের মাধ্যমে অনলাইনে মালিকানা পরিবর্তনের আবেদন করা যায়। অনলাইনে আবেদন জমা দেওয়ার পর বিক্রেতার উপস্থিতিতে বায়োমেট্রিক (আঙুলের ছাপ) যাচাই করা হয়। যাচাই সম্পন্ন হলে একই দিনেই মালিকানা পরিবর্তনের কার্যক্রম শেষ করা সম্ভব হচ্ছে।
এর পাশাপাশি নতুন মালিকও একই দিনে ডিজিটাল রেজিস্ট্রেশন সার্টিফিকেটের জন্য বায়োমেট্রিক তথ্য প্রদান করতে পারছেন। ফলে আগের মতো দীর্ঘ সময় অপেক্ষা বা একাধিকবার অফিসে যাওয়ার প্রয়োজন অনেকাংশে কমে এসেছে।

ক্রেতা ও বিক্রেতা উভয়েরই দায়িত্ব
ব্যবহৃত মোটরসাইকেল কেনাবেচার ক্ষেত্রে অনেক সময় দেখা যায় উভয় পক্ষ একটি স্ট্যাম্পে চুক্তি করে বা টাকা লেনদেন সম্পন্ন করেই বিষয়টিকে শেষ বলে ধরে নেন। কিন্তু বিআরটিএর মতে মালিকানা পরিবর্তন না হওয়া পর্যন্ত সরকারি নথিতে মালিকানা অপরিবর্তিত থেকে যায়।
তাই বাইক বিক্রির পর বিক্রেতার উচিত মালিকানা পরিবর্তনের অগ্রগতি নিশ্চিত করা এবং ক্রেতার উচিত যত দ্রুত সম্ভব নিজের নামে রেজিস্ট্রেশন স্থানান্তরের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা। এতে ভবিষ্যতে কর, সারচার্জ কিংবা অন্যান্য প্রশাসনিক জটিলতা এড়ানো সম্ভব হবে।
আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি
সম্প্রতি সংবাদপত্রে প্রকাশিত গণবিজ্ঞপ্তিতে বিআরটিএ সংশ্লিষ্ট সকলকে দ্রুত মোটরযানের মালিকানা পরিবর্তন সম্পন্ন করার অনুরোধ জানিয়েছে। একই সঙ্গে সংস্থাটি স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, মালিকানা পরিবর্তনের বাধ্যবাধকতা উপেক্ষা করা হলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
যারা সম্প্রতি কোনো মোটরসাইকেল বা অন্যান্য মোটরযান কিনেছেন কিংবা বিক্রি করেছেন, তাদের জন্য এখনই বিষয়টি যাচাই করার উপযুক্ত সময়। কারণ একটি বাইকের মালিকানা পরিবর্তন না হওয়ার খেসারত অনেক ক্ষেত্রে বছরের পর বছর গুনতে হতে পারে পুরোনো মালিককেই। তাই নিজেদের স্বার্থেই মালিকানা পরিবর্তন করে নেওয়ার আহবান থাকলো ক্রেতা ও বিক্রেতা উভয়ের প্রতিই।
বাইক বিষয়ক সকল তথ্য ও আপডেট এর জন্য বাইকবিডির সাথেই থাকুন।




























Discussion 8 Comments