ব্যবহৃত ইলেকট্রিক বাইক কিনবেন কি না? পূর্ণ গাইড
This page was last updated on 13-Apr-2026 03:03pm , By Rafi Kabir
তেলের দাম বাড়ার কারণে অনেকেই এখন ইলেকট্রিক বাইকের দিকে ঝুঁকছেন। নতুন বাইকের দাম একটু বেশি হওয়ায় অনেকেই ব্যবহৃত বা সেকেন্ড হ্যান্ড ইলেকট্রিক বাইক কেনার কথা ভাবছেন। কিন্তু পুরনো ই বাইক কেনা কি আসলেই বুদ্ধিমানের কাজ হবে। চলুন আজ একদম বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকে জেনে নিই পুরনো ইলেকট্রিক বাইক কেনার আগে কোন কোন বিষয়গুলো মাথায় রাখা উচিত।

ব্যাটারির আসল অবস্থা জানা
পুরনো ইলেকট্রিক বাইক কেনার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় ঝুঁকি হলো ব্যাটারি। একটি ই বাইকের দামের প্রায় অর্ধেকই হলো এর ব্যাটারির দাম। তাই কেনার আগে অবশ্যই ব্যাটারির হেলথ চেক করে নিতে হবে। বাইকটি ফুল চার্জ হতে কত সময় নেয় এবং একবার চার্জে কত কিলোমিটার চলে সেটা বিক্রেতার কাছ থেকে পরিষ্কারভাবে জেনে নিন। ব্যাটারিটি যদি লিথিয়াম আয়ন হয় এবং বয়স এক বছরের কম হয় তবে সেটি বেশ ভালো সার্ভিস দেবে। কিন্তু ব্যাটারি যদি লিড এসিড হয় এবং অনেক পুরনো হয় তবে কেনার পর পরই ব্যাটারি বদলানোর একটা বড় খরচ আপনার ঘাড়ে চাপতে পারে।
মোটরের শক্তি ও শব্দ পরীক্ষা

ব্যাটারির পরেই আসে মোটরের কথা। হাব মোটর ঠিকমতো কাজ করছে কি না তা বুঝতে বাইকটি চালিয়ে দেখা খুব জরুরি। চালানোর সময় মোটরে কোনো অদ্ভুত শব্দ হচ্ছে কি না বা পিকআপ দিলে বাইকটি কাঙ্ক্ষিত গতিতে টানতে পারছে কি না তা খেয়াল করুন। অনেক সময় জমানো পানিতে বাইক চালানোর কারণে মোটরে পানি ঢুকে জং ধরে যায়। তাই মোটরের বাইরের অংশে কোনো ড্যামেজ বা জং আছে কি না তা ভালোভাবে দেখে নিন।
কন্ট্রোলার ও ইলেকট্রিক তারের অবস্থা
ইলেকট্রিক বাইকের ব্রেন হলো এর কন্ট্রোলার। বাইকের ডিসপ্লে সেন্সর হেডলাইট ও ইন্ডিকেটর ঠিকমতো কাজ করছে কি না তা খুব মনোযোগ দিয়ে চেক করুন। তারের জয়েন্টগুলোতে কোনো পোড়া দাগ বা টেপ প্যাঁচানো থাকলে বুঝতে হবে সেখানে আগে কোনো শর্ট সার্কিট বা সমস্যা হয়েছিল। এসব ছোটখাটো সমস্যা পরে বড় ভোগান্তির কারণ হতে পারে।
বাইকের বডি ও সাসপেনশন
বাইকটি এর আগে কোনো বড় দুর্ঘটনার শিকার হয়েছিল কি না তা বডি এবং চেসিস দেখলেই অনেকটা বোঝা যায়। চাকা ঠিকমতো ঘোরে কি না ব্রেক ধরলে বাইক কাঁপে কি না বা সাসপেনশন থেকে কোনো আওয়াজ আসে কি না এসব বিষয় নিজে চালিয়ে পরীক্ষা করে নেওয়া উচিত। প্লাস্টিকের বডি পার্টস ভাঙা থাকলে সেগুলো বদলাতে বেশ ভালোই টাকা খরচ হয়।
চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত কীভাবে নেবেন
সবকিছু মিলিয়ে যদি দেখেন বাইকটির ব্যাটারি ও মোটর ভালো অবস্থায় আছে এবং নতুন বাইকের তুলনায় দাম বেশ অনেকটাই কম তবে পুরনো ই বাইক কেনাটা আপনার জন্য লাভজনক হতে পারে। তবে দাম যদি নতুন বাইকের কাছাকাছি হয় তবে ঝুঁকি না নিয়ে নতুন বাইক কেনাই সবচেয়ে ভালো সিদ্ধান্ত। কেনার আগে অবশ্যই একজন অভিজ্ঞ মেকানিক দিয়ে বাইকটি চেক করিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করবেন। এতে আপনার ঠকে যাওয়ার সম্ভাবনা একেবারেই থাকবে না।