বর্ডারক্রস বাইক – প্রতারণা বনাম বৈধতা
This page was last updated on 30-Mar-2026 05:41pm , By Badhan Roy
একটা সময় ছিলো যখন বাংলাদেশে বর্ডারক্রস বাইক চলতো প্রচুর। সেই সময় এদেশে আপডেটেড বাইক মডেলগুলো সময়মত না আসার কারনে ও তুলনামূলক কম দাম হওয়ার কারনে সাধারণ বাইকারতো বটেই অনেক পরিচিত মুখচেনা শখের বাইকারও বর্ডারক্রস বাইক চালিয়েছেন। তাই এখনো প্রতিদিন অনেক বাইকারই আমাদের ফেসবুক গ্রুপে বর্ডারক্রস বাইকের বিষয়ে জানতে চান। তো সেই সূত্রেই আজকের লেখায় আমরা বর্ডারক্রস বাইক এবং এদের বৈধতা সম্পর্কে জানার চেষ্টা করব।

বর্ডারক্রস বাইক কি?
প্রথমে বর্ডারক্রস বাইক আসলে কি সেই সম্পর্কে একটু জানা যাক। বর্ডার ক্রসবাইক বিষয়টি নিয়ে আমাদের রয়েছে মিশ্র ধারণা। সাধারণত পাশ্ববর্তী দেশ থেকে অবৈধভাবে দেশে অনুপ্রবেশকারী বাইকগুলোই বর্ডারক্রস হিসেবে বেশি পরিচিত। দেখা গেছে অধিকাংশ সময়ে পার্শবর্তী দেশের চোরাই বাইকগুলো যে কোন ভাবে সীমান্ত পেরিয়ে বিক্রি করে দেওয়া হয়। পরবর্তী একটা সময়ে দেশের ভিতরে চুরি হওয়া বাইকগুলোও চোরাই বাজারে বর্ডারক্রস নামে বিক্রি হতে শুরু করে।

বর্ডারক্রস বাইক ও প্রতারণা
বর্ডারক্রস বাইকের ক্ষেত্রে বেশির ভাগ সমেই অনলাইন ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আকর্ষণীয় ও চটকদার বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে ক্রেতাদের এই ধরণের বাইকের প্রতি আকৃষ্ট করা হয়। নতুন বাইকের মূল্যের প্রায় অর্ধেক দাম এবং রেজিস্ট্রেশনের গ্যারান্টি দেখে অনেকেই এই ধরণের বাইকের প্রতি আকৃষ্ট হয়। কিন্তু বাস্তবতা আসলে ভিন্ন।
বেশিরভাগ সময়ে দেখা গিয়েছে এই ধরণের প্রতারক চক্র ক্রেতাদের কাছে বর্ডারক্রস বাইক পৌছে দেওয়া ও রেজিস্ট্রেশন করে দিবে বলে অগ্রিম অর্থ দাবি করে থাকে। ক্রেতা টাকা পাঠানোর পর তাদের সাথে আর যোগাযোগ সম্ভব হয়ে ওঠে না।

অগ্রিম অর্থ চাওয়া ব্যাতিত কোন বিক্রেতা যদি বাইক বিক্রি করেও থাকে তবে পরবর্তীতে দেখা যায় ক্রেতাকে বিভিন্ন রকম আইনি জটিলতায় পড়তে হয়। এই ধরনের বাইকগুলো কোন অবস্থাতেই বৈধভাবে রেজিস্ট্রেশন হওয়ার সম্ভাবনা নেই। এই ক্ষেত্রে প্রতারক চক্র ভুয়া রেজিস্ট্রেশন নাম্বার বা ডকুমেন্ট করে ক্রেতাকে বাইক বুঝিয়ে দিয়ে থাকে।
সম্প্রতি এরকম একই রেজিস্ট্রেশন নাম্বারের দুইটি ভিন্ন বাইক বিআরটিএ এর অনুসন্ধানে ধরা পড়ার বিষয়টি সংবাদমাধ্যমে বেশ আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। তাছাড়াও বর্তমানে আইন ও রাষ্ট্রবিরোধী কাজে জড়িত থাকার পরে এই ধরনের চোরাই বা বর্ডারক্রস নাম দিয়ে বাইক হাতবদল হওয়ার সম্ভাবনাও ব্যাপক আকারে বেড়ে গিয়েছে যা সাম্প্রতিক ঘটনা গুলো পর্যালোচনা করলে বোঝা যায়।
তবে কি বর্ডারক্রস বাইক বৈধভাবে ক্রয় করা যায় না?
ক্ষেত্রবিশেষে বর্ডারক্রস বাইকগুলো বৈধভাবেও ক্রয় করা যায়। শুধুমাত্র কাস্টমস কতৃপক্ষের জব্দ করা বা বন্দরে আটক হওয়া কিংবা আমদানীকৃত অথচ সময়মত খালাস না হওয়া গাড়ি বা বাইকগুলো যদি পুনরায় রেজিস্ট্রেশনের অনুমোদন সাপেক্ষে নিলাম করা হয় কেবল তখনই এসব বাইক বৈধভাবে ক্রয় করা সম্ভব।
এছাড়া যদি স্ক্র্যাপ ভা ভাঙাড়ি হিসেবে নিলাম অনুষ্ঠিত হয় তবে ক্রেতাগণ বাইকগুলো বৈধভাবে সড়কে চালাতে পারবেন না কেবল যন্ত্রাংশগুলো কাজে লাগাতে পারবেন মাত্র।
এই দুই ধরনের নিলাম ব্যাতিত কোন প্রকার বর্ডারক্রস বা অনুনোমোদিত বাইক বা গাড়ি বৈধভাবে রাস্তায় চলার কোন সুযোগ নেই। তাই যদি কেউ কম দামে বা বৈধ রেজিস্ট্রেশন করে বর্ডার ক্রস বাইক দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে থাকে তবে অবশ্যই সতর্ক থাকুন এবং আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীদের অবহিত করুন।
অতএব, বাইকারদের প্রতি আমাদের আহবান নিজের কষ্টার্জিত অর্থ দিয়ে এই ধরনের বাইক কিনে হয়রানি বা আইনি জটিলতার শিকার হওয়া থেকে বিরত থাকুন।
বাইক বিষয়ক সকল জানা ও অজানা তথ্যের জন্য বাইকবিডির সাথেই থাকুন।