CFMOTO Bangladesh - Cool Life Cruising
Our Partners:
Lifan Advertisement
CFMoto Advertisement
BikeBikroy Advertisement
ELF Advertisement

আপনার বাইকে কত প্রকার অয়েল ব্যবহার করবেন? জানুন বিস্তারিত

আপনার বাইকে কত প্রকার অয়েল ব্যবহার করবেন? জানুন বিস্তারিত
0 Add us on
Ashik Mahmud Bangla
2 Followers
Published: February 10, 2020
Add on
No audio available

প্রতিটি যন্ত্রের জন্য লুব্রিক্যান্টের বা অয়েল এর গুরুত্ব অপরিসীম। আপনার মোটরযানে ব্যবহৃত লুব্রিকেন্ট পরীক্ষার মাধ্যমে আপনি আপনার মোটরযানের যন্ত্রাংশের অবস্থা বুঝতে পারবেন। যদি একটু সহজ করে বলতে হয় তাহলে, আমাদের শরীরে যেমন রক্তের ভূমিকা বলে শেষ করা যাবে না ঠিক তেমনি যন্ত্রাংশে লুব্রিক্যান্টের ভূমিকা বলে শেষ করা যাবে না।

Know-how-much-type-of-oil-to-use-in-your-bike-in-detail

সময়ের সাথে লুব্রিক্যান্টের চাহিদা বৃদ্ধি পাচ্ছে তাই প্রচুর নতুন ইঞ্জিন অয়েল বাজারে আসছে। আমাদের মোটরসাইকেলেরও লুব্রিক্যান্টের প্রয়োজন যাতে বিভিন্ন যন্ত্রের সাব-সিস্টেমগুলি সঠিকভাবে কাজ করতে পারে। আপনি কি লক্ষ্য করেছেন আপনার বাইকে কয় ধরনের লুব্রিক্যান্টের বা অয়েলের ব্যবহার করা হয়? মবিল ছাড়াও আপনার বাইকে আরো কিছু অয়েলের ব্যবহার করা হয়। চলুন সেগুলো নিয়ে জেনে নেয়া যাকঃ

[su_button url="https://www.bikebd.com/bike-price-in-bd/" target="blank" style="stroked" background="#3ca539" size="8" center="yes" text_shadow="0px 0px 0px #000000"]আরও পড়ুন > বাংলাদেশের সব বাইকের বর্তমান দাম[/su_button]

ইঞ্জিন অয়েলঃ

মোটরসাইকেলের ইঞ্জিনের মধ্যে অনেকগুলি চলন্ত অংশ রয়েছে, মূলত এই অংশগুলোই আপনার যন্ত্রকে চলতে সহায়তা করে। এর মধ্যে রয়েছে পিস্টন, ভালব,টাইমিং চেইন ইত্যাদি। ইঞ্জিন অয়েল ইঞ্জিনের যন্ত্রাংশগুলোর ঘর্ষণের সময় তাপ নিয়ন্ত্রনে বিশেষ ভূমিকা রাখে। ইঞ্জিন অয়েল   আপনি আপনার মোটরযানে যেই ইঞ্জিন অয়েলের ব্যবহার করেন না কেনো সেগুলোর অবশ্যই কিছু গুন থাকতে হবে। 

জারা প্রতিরোধী - তেলের সাথে প্রলেপ যুক্ত ধাতব অংশগুলি অক্সিজেনের সংস্পর্শে আসতে বাধা দেয়, যা উচ্চ অপারেটিং তাপমাত্রায় জারণ রোধ করে এবং এর ফলে ক্ষয় রোধ করে। জারা প্রতিরোধকারী অ্যাডিটিভগুলি ইঞ্জিন তেলেও যুক্ত হতে পারে। 

উচ্চ তাপ ক্ষমতা - আপনি যেই ইঞ্জিন অয়েল ব্যবহার করেন না কেনো সেটাতে অবশ্যই উচ্চতাপ সহ্য করার ক্ষমতা থাকতে হবে। কোন ইঞ্জিন যখন চলন্ত অবস্থায় থাকে তাতে প্রচুর তাপ উৎপন্ন হয়, আর ইঞ্জিন অয়েলের অবশ্যই তাপ হ্রাসের ক্ষমতা থাকতে হবে।। 

লুব্রিকেশন – প্রতিটা ইঞ্জিন অয়েলের লুব্রিকেশন ক্ষমতা থাকতে হবে। আমরা জানি ইঞ্জিনের সাব-সিস্টেমগুলোর মধ্যে ঘর্ষণের সৃষ্টি হয় হয় আর ইঞ্জিন অয়েলের লুব্রিকেশন এই তাপমাত্রাকে নিয়ন্ত্রন করে। যেই ইঞ্জিন অয়েলের লুব্রিকেশন ক্ষমতা বেশি সেই ইঞ্জিন অয়েল থেকে আপনি ফালো ফলাফল পাবেন। 

পরিষ্কারের ক্ষমতা- আপনি কি জানেন আপনার বাইকের ইঞ্জিন অয়েল আপনার বাইকের ইঞ্জিনটিকে পরিষ্কার রাখতে রাখতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে? অনেক ইঞ্জিন অয়েলের মধ্যে ডিটারজেন্ট দেয়া হয়ে থাকে যাতে আপনার ইঞ্জিনটি পরিষ্কার থাকে। তবে সব ইঞ্জিনের ইঞ্জিন অয়েল গ্রেড কিন্তু এক না। আপনি যেই যন্ত্রটি ব্যবহার করেন না কেনো আপনার অবশ্যই আপনার যন্ত্রের ইঞ্জিন অয়েল গ্রেড ঠিক রাখতে হবে। সোসাইটি অফ অটোমোটিভ ইঞ্জিনিয়ার্স (SAE) ইঞ্জিন অয়েলের ভিসকোসিটি বৈশিষ্ট্য অনুসারে ইঞ্জিন অয়েলের গ্রেডিংয়ের জন্য একটি কোড সিস্টেম ব্যবহার করেছে।

আমার বাইকে কোন গ্রেডের ইঞ্জিন অয়েল ব্যবহার করবো?

আপনার বাইকে কোন গ্রেডের ইঞ্জিন অয়েল ব্যবহার করবেন সেটা বাইকের ইউজার ম্যানুয়ালে দেয়া থাকে। ইঞ্জিন অয়েল ব্যবহারের সময় একটা জিনিস অবশ্যই মাথায় রাখবেন গাড়ির ইঞ্জিন অয়েল কখনো বাইকে ব্যবহার করবেন না এটি আপনার বাইকের ইঞ্জিনের জন্য অনেক বেশি ক্ষতিকর।

বাইকের ইঞ্জিন অয়েল কিভাবে চেনা যায়?

আমাদের দেশে যে সকল ইঞ্জিন অয়েলগুলো বাইকের জন্য ব্যবহার করা হয় অধিকাংশ ইঞ্জিন অয়েলের বোতলের গায়ে 4T লেখাটি উল্লেখ থাকে, এটি দেখলে আপনি খুব সহজে বুঝতে পারবেন ইঞ্জিন অয়েলটি বাইকের। গাড়ির ইঞ্জিন অয়েলগুলোতে 4T লেখা থাকে না।

কতদিন পর পর বাইকের ইঞ্জিন অয়েল পরিবর্তন করা উচিত?

আপনি যদি আপনার বাইকে মিনারেল ইঞ্জিন অয়েল ব্যবহার করেন তাহলে সেটা ১০০০ কি.মি এর মধ্যে পরিবর্তন করা উত্তম। আর আপনি যদি সিন্থেটিক ইঞ্জিন অয়েল ব্যবহার করেন তাহলে সেটা ২০০০ থেকে ২৫০০ কি.মি পর পর চেঞ্জ করা উত্তম।

আমার বাইকে কি পরিমান ইঞ্জিন অয়েল লাগবে?

আপনি যেই বাইকটি ব্যবহার করছেন বাইকটির ইউজার ম্যানুয়ালে দেয়া আছে আপনার বাইকের জন্য কতটুক ইঞ্জিন অয়েল প্রয়োজন। অনেক বাইকের ক্ষেত্রে ইঞ্জিন অয়েল চেম্বারের পাশে উল্লেখ করা থাকে আপনার ইঞ্জিনের জন্য কতটুকু অয়েল প্রয়োজন। ব্রেক অয়েল

ব্রেক অয়েল অথবা হাইড্রোলিক অয়েলঃ

আমরা যারা হাইড্রোলিক ব্রেকযুক্ত বাইক ব্যবহার করি তারা সবাই কম বেশি হাইড্রোলিক অয়েলের সাথে পরিচিত। খুব সহজভাবে বলতে গেলে হাইড্রোলিক অয়েল এমন এক রাসায়নিক দ্রব্য যা আপনার হাইড্রোলিক ব্রেককে কার্যকর রাখতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে। ব্রেক অয়েল চাপকে শক্তিতে রূপান্তর করে এবং ব্রেকিং শক্তিকে বৃদ্ধি করতে ব্যবহৃত হয়। ব্রেক ফ্লুইড কোন সাধারণ ইঞ্জিন অয়েলের মত মিনারেল লিকুইড নয়। এটি মূলত এলকোহলের জটিল যৌগ উপাদান দিয়ে তৈরি। আমরা সবাই এটাকে অয়েল হিসেবে চিনলেও এটি মূলত একটি ফ্লুইড। এটাকে ফ্লুইড” বলার কারণ হচ্ছে এটি প্রচণ্ড পরিমাণে পানি শোষণ করে যা কোন অয়েল করতে পারে না। ব্রেক ফ্লুইডের কিছু গুণ রয়েছে সেগুলো জেনা নেয়া যাক: 

বয়েলিং পয়েন্টঃ ব্রেক ফ্লুইডের কিছু ইউনিক বৈশিষ্ট রয়েছে,এর মধ্যে একটি হচ্ছে হাই বয়েলিং পয়েন্ট। হাই বয়েলিং পয়েন্টের অর্থ উচ্চ তাপ সহ্য ক্ষমতা। ব্রেক ফ্লুয়েডের কাজ রাবারকে শক্ত হতে না দিয়া,নষ্ট না হতে দেয়া, ধাতুর ক্ষয় না করা, ইত্যাদি। এদের মধ্যে “হাই বয়েলিং পয়েন্ট” গুণটা সবচেয়ে বেশিগুরুত্বপূর্ণ। এটার ওপর ভিত্তি করেই এর গ্রেড নির্ধারণ করা হয়। যেমনঃ DoT-3, DoT-4, DoT-5 ইত্যাদি। 

আমি কোন গ্রেডের ব্রেক অয়েল ব্যবহার করবো? 

বাজারের প্রায় সব বাইকে রিজার্ভারের গায়ে DoT-3, DoT-4 গ্রেডের ব্রেক ফ্লুইড ব্যবহার করার নির্দেশনা দেয়া থাকে। একেক গ্রেডের ফ্লুইডের বয়েলিং পয়েন্ট এবং গঠন আলাদা, তাই অবশ্যই মনে কখনোই দুই গ্রেড-এর ফ্লুইড এক সাথে মেশানো যাবে না। ব্রেক ফ্লুইড চেঞ্জ করার আগে থেকে জেনে নিন আপনার বাইকে কোন গ্রেডের ফ্লুইড দেয়া আছে। আর যদি না জানা থাকে পুরো ফ্লুইডটাই পরিবর্তন করে নিন। 

কত কিলোমিটার পর পর ব্রেক অয়েল পরিবর্তন করা উচিৎ? 

প্রতি ২ বছর অথবা ৩০ হাজার কি.মি পর পর ব্রেক ফ্লুইড সম্পূর্ণ বদলে ফেলতে হয়। 

ব্রেক ফ্লুইড পাল্টানোর সময় বিশেষভাবে লক্ষনীয়ঃ 

ব্রেক ফ্লুইড ড্রেইন করার সময় সতর্ক থাকুন। কোনভাবে এটি বাইকের কোন রং করা অংশ এর ওপর না পড়ে। তা না হলে উক্ত স্থানের রং উঠে যেতে পারে।

কুলেন্টঃ

কুলেন্ট শব্দটার সাথে আমরা অনেকেই পরিচিত আবার অনেকেই পরিচিত না। এর অন্যতম প্রধান কারন হচ্ছে আমাদের দেশে এয়ার কুলড ইঞ্জিনের বাইক বেশি চলে। লিকুইড কুলড অথবা ওয়াটার কুলড ইঞ্জিন মূলত হাইসিসির বাইকে ব্যবহার করা হয়। বর্তমান সময়ে আমাদের দেশেও লিকুইড কুলড ইঞ্জিনের ব্যবহার হচ্ছে। এই বাইকগুলোতে মূলত কুলেন্টের ব্যবহার করা হয়।যদি সহজভাবে বলতে হয়, কুলেন্ট হল এমন একটি তরল যা ইঞ্জিনের চারপাশে প্রবাহিত হয়ে আপনার বাইকের ইঞ্জিনকে ওভারহিট হওয়া থেকে রক্ষা করে। কুলেন্টের কিছু গুণাগুণ রয়েছে, সেগুলো হচ্ছেঃ

Coolant

  1. কুলেন্টের অবশ্যই উচ্চ তাপ হ্রাস করার ক্ষমতা থাকতে হবে। আমরা সবাই জানি চলন্ত ইঞ্জিনে বিভিন্ন অংশের মধ্যে ঘর্ষণের ফলে প্রচুর তাপ উৎপন্ন হয়। কুলেন্টের এই তাপ নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষমতা থাকতে হবে।
  2. কুলেন্টের কাজ ইঞ্জিনের পার্সগুলোর চারপাশে ঘুরে ইঞ্জিনের তাপমাত্রা হ্রাস করা। তাই কুলেন্টকে অবশ্যই কম ভিস্কোসিটিযুক্ত হতে হবে।
  3. কুলেন্টের মধ্যে অবশ্যই এমন কিছু রাসায়নিক গুনাগুণ থাকতে হবে যাতে এটি ইঞ্জিনের কোন ক্ষতি না করে।

বাইকে কুলেন্ট চেঞ্জ করার সময় একটা জিনিস অবশ্যই লক্ষ রাখবেন আপনার বাইকের সাথে যে রঙের কুলেন্ট দেয়া থাকবে সব সময় সেই কালারের কুলেন্ট ব্যবহারের চেষ্টা করুন। বাইকের এই অয়েল গুলো প্রতিটা বাইকের জন্য খুব বেশি গুরুত্বপূর্ণ। তাই নিরাপদে চলাচলে করার জন্য আপনার বাইকের অয়েল গুলোর দিকে বিশেষ খেয়াল রাখুন। সব সময় আসল লুব্রিক্যান্ট ব্যবহার করার চেষ্টা করুন।

টেকনিক্যাল বিষয় টিপস খবর

Discussion 8 Comments