টিভিএস এর মোটরসাইকেল উৎপাদন ও সংযোজন করবে প্রাণ-আরএফএল

This page was last updated on 14-Feb-2026 12:49pm , By Arif Raihan Opu

টিভিএস মোটরসাইকেল প্রেমীদের জন্য সুখবর। প্রাণ-আরএফএল এবার টিভিএস মোটরসাইকেলের সাথে চুক্তি বদ্ধ হয়ে বাংলাদেশেই তৈরি করবে টিভিএস এর মোটরসাইকেল। টিভিএস এর সকল মোটরসাইকেল বাংলাদেশে এখন উৎপাদন বিপণন করবে প্রাণ-আরএফএল। 

টিভিএস এর মোটরসাইকেল উৎপাদন করবে প্রাণ-আরএফএল

টিভিএস এর মোটরসাইকেল উৎপাদন করবে প্রাণ-আরএফএল

সিলেটের হবিগঞ্জ ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্কে মোটরসাইকেল সংযোজন এবং উৎপাদনের জন্য কারখানা স্থাপনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

সুত্র থেকে জানা গিয়েছে যে শুরুর দিকে কারখানাতে প্রায় ৫ হাজার ইউনিট মোটরসাইকেল উৎপাদন সক্ষমতা থাকবে। আর এজন্য প্রায় ৪০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করা হবে।

রাজধানীর বাড্ডায় প্রাণ-আরএফএল এর প্রধান কার্যালয়ে আরএফএল গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আরএন পাল সাংবাদিকদের এই তথ্য জানান। তিনি এই সময়ে আরও জানান, “এক সময় টিভিএস তরুণদের কাছে অনেক জনপ্রিয় একটি মডেল ছিল।

সময়ের সাথে প্রতিযোগীতায় কিছুটা পিছিয়ে পরেছিল ব্র্যান্ডটি। আমরা আবার সেটিকে ফিরিয়ে আনতে চাই। আর সেজন্য শীঘ্রই মোটরসাইকেল তৈরির কাজ শুরু হবে।”

বাংলাদেশের মোটরসাইকেল বাজার বর্তমানে প্রায় ৭ থেকে ৮ হাজার কোটির টাকার। আর বছরে তা বেড়ে চলছে ১৬-১৭ শতাংশ হারে। টিভিএস মোটরসাইকেল একটা সময় বাংলাদেশের মোটরসাইকেল মার্কেটের বড় একটা শেয়ার দখল করে রেখেছিল। 

আরও পড়ুনঃ বাংলাদেশে সকল মোটরসাইকেলের দাম

যদিও সাম্প্রতিক সময়ে টিভিএস এর বিক্রি অনেক কমতির দিকে। এই অবস্থায় আগামী ৫ বছরের ব্র্যান্ডটিকে আবারও শীর্ষে নিয়ে যাওয়ার কথা জানান আরএন পাল। 

বর্তমানে আরএফএল রাইডো নামে একটি বিদ্যুৎ চালিত স্কুটার উৎপাদন ও বিপণন করে চলেছে। হবিগঞ্জের কারখানায় প্রতি মাসে ৫০০ ইউনিট বিদ্যুৎ চালিত স্কুটার উৎপাদিত হচ্ছে। 

ভবিষ্যতে মাসে তিন হাজার ইউনিট উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানো হবে। কারখানাটির উৎপাদন ক্ষমতা বাড়াতে ইতিমধ্যে ৫০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করা হয়েছে। ভবিষ্যতে আরও ৫০কোটি বিনিয়োগ করা হবে। 

সব মিলিয়ে গ্রুপটিতে ৫০০ কোটির মত বিনিয়োগ করা হবে বলে আরএন পাল জানিয়েছেন। 

আরএফএল গ্রুপের এমডি জানিয়েছে, স্কুটার-মোটরসাইকেল উৎপাদন ও বিপণন এর কারণে ইতিমধ্যে প্রায় ১ হাজারের বেশি কর্মসংস্থান হয়েছে। কারখানা পুরোদমে চালু হলে আরও এক হাজার কর্মসংস্থান তৈরি হবে। এছাড়া পরিবেশক, সার্ভিস নেটওয়ার্কসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে আরও প্রায় তিন হাজার মানুষের কর্মসংস্থান তৈরি হবে। 

এছাড়া বিদ্যুৎ চালিত গাড়ির ব্যবসা শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে বলে আরএন পাল জানিয়েছেন। আরএফএল গ্রুপ চীনের একটি শীর্ষ স্থানীয় কোম্পানির কাছ থেকে নিজস্ব নেক্সো ব্র্যান্ডের বিদ্যুৎ চালিত গাড়ি আমদানী করবে।

আরও পড়ুনঃ সকল টিভিএস মোটরসাইকেলের দাম

শুরুতে মুলত ২০ গাড়ি আমদানী করা হবে। যা তারা নিজেরা ব্যবহার করবেন। ব্যবহারের পর যদি তারা সন্তুষ্ট হন তবেই পরবর্তিতে বড় আকারে আমদানি করা হবে। শুরুর দিকে সেডান কার ও এসইউভি গাড়ি আনবেন তারা। 

তিনি আরও জানিয়েছেন যে, বৈদ্যুতিক স্কুটার এবং গাড়ি চার্জের জন্য আরএফএল গ্রুপের বিভিন্ন ডিপোতে চার্জিং স্টেশন স্থাপন করা হবে। সেখান থেকে চার্জিং সুবিধা পাবেন। এছাড়া আরএফএল এর খুচরা বিক্রয় কেন্দ্র গুলোতেও চার্জিং স্টেশন স্থাপন করা হবে। 

আরএন পাল আরও জানিয়েছেন যে, “আমরা এখন নিজেদের ব্র্যান্ডের গাড়ি সম্পূর্ন প্রস্তুত আকারে নিয়ে আসব। আগে সংযোজন এবং পরে উৎপাদনে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। 

সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে আরও উপস্থিত ছিলেন আরএফএল গ্রুপের বাইক ব্যবসার প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা মাহমুদুর রহমান, উপমহাব্যবস্থাপক তৌহিদুজ্জামান প্রমুখ।