ঢাকার আসে পাশে একদিনে ঘুরে আসার মত ৮টি দর্শনীয় স্থান
This page was last updated on 04-May-2026 03:59pm , By Arif Raihan Opu
আমরা বাইকাররা ট্যুর করতে ভালবাসি। তবে আমাদের ব্যস্ত জীবনে সব সময় ট্যুর করা হয়ে ওঠে না। তাই ছুটির দিন গুলোতে আমরা ঢাকা এবং এর আসে পাশে ভ্রমণ করে আসি। আজকে আমরা আপনারদের জন্য নিয়ে এসেছি ঢাকার আসে পাশে এমন ৮টি জায়গার খোজ যেখানে একদিনেই আপনি ঘুরে আসতে পারবেন।


এক দিনে ভ্রমণ করার জন্য ৮টি দর্শনীয় স্থান
বালিয়াটি জমিদার বাড়ি
মানিকগঞ্জ জেলার সাটুরিয়া উপজেলার বালিয়াটি গ্রামে অবস্থিত বালিয়াটি জমিদার বাড়ি সাতটি ঐতিহ্যবাহী স্থাপনা নিয়ে মাথা তুলে দাঁড়িয়ে আছে। দৃষ্টিনন্দন এই জমিদার বাড়ির জমিদার বাড়ির কেন্দ্রীয় ব্লকে জাদুঘর গড়ে তোলা হয়েছে।.

বালিয়াটি প্যালেস নামেও পরিচিত এই জমিদার বাড়ির কক্ষ সংখ্যা ২০০ টি এবং প্রতিটি কক্ষেই সুনিপুণ কারুকাজ লক্ষ্য করা যায়। চুন-সুরকি, লোহার পাত আর কাদামাটিতে নির্মিতর্মি বালিয়াটি জমিদার বাড়ী তৎকালীন জমিদারদের অভিজাত্যকেই ফুটিয়ে তোলে।


মহেরা জমিদার বাড়ি
টাঙ্গাইল সদর থেকে প্রায় ১৮ কিলোমিটার দূরেদূ ৮ একর জায়গা নিয়ে মহেরা জমিদার বাড়ি বিস্তৃত। প্রাচীন সভ্যতা ও ঐতিহ্যের নিদর্শনর্শ মহেড়া জমিদার বাড়ির সাথেই মিনি পার্ক, চিড়িয়াখানা, পিকনিক স্পট ও বোট রাইডের ব্যবস্থা রয়েছে। রাজধানী ঢাকার বেশ কাছে হওয়ায় সকালে যেয়ে এক দিনেই জমিদার বাড়ি থেকে ঘুরে আসা যায়।
বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্ক
গাজীপুর জেলার শ্রীপুর উপজেলার মাওনা ইউনিয়নে অবস্থিত বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্ক প্রায় ৩,৬৯০ একর জায়গা জুড়ে বিস্তৃত। থাইল্যান্ডের সাফারী ওয়ার্ল্ড এর অনুকরণে তৈরি সাফারী পার্কটি ২০১৩ সালে চালুকরা হয়। বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্কে কোর সাফারিতে বনের উন্মুক্ত পরিবেশে বাঘ, সিংহ, জিরাফ, জেব্রা, হরিণের দর্শন যেন জীবনের এক অনন্য অভিজ্ঞতার সঞ্চয়।

গাজীপুর চৌরাস্তা অতিক্রম করে আরো কিছুটা সামনে গেলে বাঘের বাজারে সাফারি পার্কের বিশাল সাইনবোর্ড দেখতে পাওয়া যায়। আপনি চাইলে সকালে রওনা দিয়ে সারাদিন পার্কে ঘুরে আবার ঢাকায় ফিরে আসতে পারবেন
পানাম নগর ও সোনারগাঁও জাদুঘর
ঢাকার পার্শবর্তী নারায়ণগঞ্জ জেলার সোনারগাঁ থানার প্রায় ২০ বর্গ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে ঐতিহাসিক পানাম নগর। পানাম নগর বা পানাম সিটি বাংলাদেশীদের কাছে “হারানো নগরী” হিসাবে সুপরিচিত। ১৫ শতকে ঈশা খাঁ সোনারগাঁয়ে বাংলার প্রথম রাজধানী স্থাপন করেন।

২০০৬সালে ওয়ার্ল্ড মনুমেন্ট ফান্ডের তৈরি বিশ্বের ধ্বংসপ্রায় ১০০টি ঐতিহাসিক স্থাপনার তালিকায় পানাম নগর স্থান পায়। পানাম নগরের কাছেই আছে সোনারগাঁও লোকশিল্প জাদুঘর। একদিনে দুইটি জায়গা সহজেই ঘুরে দেখা যায়।
শালবন বৌদ্ধ বিহার
কুমিল্লা জেলার কোটবাড়িতে অবস্থিত শালবন বৌদ্ধ বিহার বাংলাদেশের প্রাচীন সভ্যতার নিদর্শন গুলোর মধ্যে অন্যতম। তৎকালীন সময় এই অঞ্চলে শাল ও গজারির বন ছিল বলে বিহারটি শালবন বিহার নামে পরিচিতি লাভ করে।

শালবন বিহারটি অনেকটা পাহাড়পুর বৌদ্ধ বিহারের মতো তবে আকারের দিক দিয়ে পাহাড়পুর বৌদ্ধ বিহার থেকে কিছুটা ছোট। এই স্থানটিও ঢাকার কাছাকাছি হওয়াতে আপনি সহজেই একদিনে ঘুরে আসতে পারবেন।
আরও পড়ুনঃ বাংলাদেশে মোটরসাইকেলে ভ্রমণের জন্য ৪টি সুন্দর রোড
নুহাশপল্লী
প্রয়াত লেখক হুমায়ুন আহমেদের ভালবাসায় লালিত নুহাশ পল্লী নন্দন কাননটি গাজীপুর জেলা সদর থেকে ২৫ কিলোমিটার দূরত্বে পিরুজালী গ্রামে অবস্থিত। নুহাশ পল্লীর বর্তমান আয়তন প্রায় ৪০ বিঘা।

১৯৮৭ সালে ২২ বিঘা জমিতে হুমায়ূন আহমেদ তাঁর স্বপ্ন বাস্তবায়ন শুরু করেন। বিভিন্ন নাটক, সিনেমার শুটিং এর পাশাপাশি নুহাশ পল্লীতেই হুমায়ূন আহমেদ তার জীবনের অনেকটা সময় কাটিয়েছেন। ঢাকার খুব কাছে হওয়ায় একদিনে নুহাশ পল্লী হতে ঘুরে আসা যায়।

জল ও জঙ্গলের কাব্য
জল ও জঙ্গলের কাব্য মূলত একটি অবকাশযাপন কেন্দ্র। গাজীপুর জেলার টংগীর পুবাইলে ৯০ বিঘা জমির ওপর গড়ে তোলা হয়েছে এটি। প্রকৃতিকে অবিকৃত রেখে বাঁশ ও পাটখড়ি দিয়ে সুনিপুণ নকশায় তৈরি জল ও জঙ্গলের কাব্য। বিলের ওপর অপার্থিব জোছনা দেখতে চাইলে জল ও জঙ্গলের কাব্য থেকে ঘুরে আসতে পারেন।

জিন্দা পার্ক
নারায়ণগঞ্জ জেলার দাউদপুর ইউনিয়নে প্রায় ১৫০ একর এলাকা জুড়ে অবস্থিত জিন্দা পার্কে ২৫০ প্রজাতির দশ হাজারের বেশি গাছ, ৫টি জলাধার এবং অসংখ্য পাখি রয়েছে। পার্কের ভেতরে আছে মার্কেট, লাইব্রেরি, ক্যান্টিন ও চিড়িয়াখানা। এ ছাড়া নৌ-বিহারের জন্য পার্কের লেকে আছে ৮টি সুসজ্জিত নৌকা।
এছাড়া মোটরসাইকেল সম্পর্কিত টিপস, এবং আপডেট পেতে আমাদের ওয়েবসাইট ভিজিট করুন। ধন্যবাদ।