বিশ্ববাজারে কেটিএম নিয়ে আসতে যাচ্ছে লিমিটেড এডিশনে KTM 1390 Super Duke RR
This page was last updated on 20-Apr-2026 10:37am , By Arif Raihan Opu
পৃথিবীর বিখ্যাত মোটরসাইকেল ব্র্যান্ড হচ্ছে কেটিএম এবং এবার তারা তাদের KTM 1390 Super Duke R V-twin সুপার নেকেড বাইকটিকে সম্পূর্ন নতুন ভাবে বাজারে নিয়ে আসতে যাচ্ছে। এই বাইকটির মাত্র ৩৫০ ইউনিট পুরো বিশ্ব জুড়ে বিক্রয় করা হবে বলে জানা গিয়েছে। লিমিটেড এই এডিশনটি হচ্ছে KTM 1390 Super Duke RR।


কেটিএম বাজারে নিয়ে এসেছে নতুন KTM 1390 Super Duke RR
নতুন এই Super Duke RR অস্ট্রিয়ায় নির্মিত কেটিএম মোটরসাইকেল এর ফ্ল্যাগশীপ সুপার নেকেড মোটরসাইকেল, তবে বাজারে বর্তমানে এর প্রতিদ্বন্দ্বী Ducati Streetfighter V4 SP2 যার দাম বর্তমানে ৩১,২৯৫ পাউন্ড এবং Triumph Speed Triple 1200RX, এর দাম ১৮,৯৯৫ পাউন্ড থেকে শুরু হয়। দাবি করা হচ্ছে এই বাইকটি সর্বোচ্চ ১৮০.৫ শক্তি উৎপাদন করতে সক্ষম।
আরও পড়ুনঃ বাংলাদেশ সকল মোটরসাইকেলের দাম
কেটিএম এই বাইটিতে ২০০ বিএইচপি পাওয়ার দেয়ার চেষ্টা করেনি বরং তারা বাইকটিতে নতুন প্রযুক্তি ও এর পারফমেন্স উন্নত করা চেষ্টা করেছে। আর এ কারনেই তারা বাইকটির প্রায় ১১ কেজি ওজন কমিয়ে ফেলেছে।


যার কারনে বাইকটি পারফমেন্স আরও বেড়ে গিয়েছে। এ কারনে ১৭.৫ লিটারের ট্যাংকে তেল ছাড়া বাইকটির ওজন দাবি করা হচ্ছে ১৮৯ কেজি।
কেটিএম থেকে জানানো হয়েছে যে ওজন কমে যাবার অন্যতম কারণ হচ্ছে কার্বন ফাইবার যার মধ্যে যথাক্রমে রেয়ার সিট সংযোজন, ফ্রন্ট স্পোক্রেট কভার এবং আপগ্রেডেট গ্রীল রিসেট রয়েছে।
KTM 1390 Super Duke RR সামনের দিকেও ফ্রন্ট মাডগার্ডে কার্বন ফাইবার দিয়ে তৈরি করা হয়েছে যার সাথে স্পেশাল কুলিং ডাক্ট দেয়া হয়েছে, এখানে আরও যুক্ত করা হয়েছে Brembo Hypure radial calipers, যা ২০২৫ সালে Ducati Panigale V4S বাইকটিতে ব্যবহার করা হয়েছিল।

মুলত আগের সুপার ডিউক মডেলে চার পিস্টনের ব্রিমবো স্টাইলিমা ক্যালিপারের পরিবর্তে নতুন এই ক্যালিপার যুক্ত করা হয়েছে। কিন্তু আগের মতই সামনের দিকে ৩২০ মিমি এবং পেছনে ২৪০ মিমি ডিস্ক যুক্ত করা হয়েছে।
বাইকের স্ট্যাবিলিটি বাড়ানোর জন্য ফুয়েল ট্যাঙ্কের ঠিক নিচের দিকে উইংলেট ব্যবহার করা হয়েছে যা এর স্ট্যান্ডার্ড মডেল থেকেই নেয়া হয়েছে। অপর দিকে টায়ারের ক্ষেত্রে Michelin Power GP এর পরিবর্তে ট্র্যাক ওরিয়েনটেড Michelin Power Cup 2 ব্যবহার করা হয়েছে।
এছাড়া টায়ার ও ব্রেকের সাথে সাথে WP Pro ক্লোজ কার্টিজ ফ্রন্ট ফর্ক সাসপেনশন ব্যবহার করা হয়েছে। এই সাসপেনশনটিতে প্রিলোড, কম্প্রেশন এবং রিবাউন্ড ম্যানুয়েলি সেট করা যায়।

পেছনের দিকে মানে রেয়ারও দেয়া হয়েছে WP মনোশক যা পুরোপুরি ভাবে ম্যানুয়ালি এডজাস্ট করা যায়। এতে হাই স্পিড ও লো স্পিড কম্প্রেশনও রয়েছে। এর সাথে সাথে সামনের দিকের সাসপেনশন ১৩০মিমি এবং পেছনের দিকের সাসপেনশন ১৪০মিমি ট্রাভেল করতে সক্ষম।
এই বাইকটিতে EVO ভার্সনের ইলেকট্রনিক্স কম্পাউন্ড গুলো যুক্ত করা হয়নি। তাই এর ওজন অনেকখানি কমে গিয়েছে। তবে রেয়ার সেকশনে রেয়ার মনোশক সহজে এক্সেস করা যায়, যা একটি কার্বন ফাইবার রেয়ার হ্যাগারের পেছনে সুন্দর ভাবে বসানো।
সবচেয়ে বড় পরিবর্তন Super Duke RR এ হচ্ছে এই ইলেকট্রনিক্স। আগের ৫ ইঞ্চি TFT ড্যাশবোর্ড এর বদলে এবার তারা যুক্ত করেছে ৮ ইঞ্চির টাচস্ক্রিন ড্যাশবোর্ড। যেটা আপনি গ্লাভস পরা থাকা অবস্থাতেও নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন।

এই বাইকটির দাম অনুযায়ী এতে স্ট্যান্ডার্ড সকল “টেক প্যাক” দেয়া হয়েছে। এতে যেমন আপ/ডাউন কুইক শিফটার, এডাপটিভ ব্রেক লাইট, ক্রুজ কন্ট্রোলসহ মোটরস স্লিপ রেগুলেশন – যা এগ্রেসিভ রাইডিং এর সময় রেয়ার চাকা লক হয়ে যাওয়া থেকে রক্ষা করে, সকল প্রযুক্তি দেয়া হয়েছে।
এর সাথে সাথে আপনি যদি বাইকটি ট্র্যাক মুড অন করে রাইড করে থাকেন তবে ল্যাপ টাইমার এবং টেলিম্যাট্রি স্ট্যাটাসও দেখতে পাবেন।
সবশেষে এতে একটি “বিস্ট মোড” দেয়া হয়েছে – যা এর সিরিজটিকে সবার কাছে পরিচিত করে তুলেছে। এই মোড শুধু মাত্র স্পিড দেখানো হয়, এছাড়া এই মোডে বাকি সব কিছু লোয়েস্ট সেটিং করা থাকে।

জানুয়ারিতে কেটিএম একটি প্রেস রিলিজ ইস্যু করেছিল যেখানে ২০২৬ এ কি কি আসতে পারে তার একটি ধারণা দেয়া হয়েছে। সেই সূত্র ধরে তারা নিয়ে এসেছে KTM 1390 Super Duke RR সুপার নেকেড, এবং আরও নতুন কিছু আশার কথা শোনা যাচ্ছে।
তাই বিস্তারিত জানতে এবং সর্বশেষ আপডেট পেতে আমাদের ওয়েব সাইটে চোখ রাখুন। ধন্যবাদ।