CFMOTO Bangladesh - Cool Life Cruising
Our Partners:
Lifan Advertisement
CFMoto Advertisement
BikeBikroy Advertisement
ELF Advertisement

Bajaj Discover 125 ৫০০০ কিলোমিটার মালিকানা রিভিউ - জুনাঈদ

Bajaj Discover 125 ৫০০০ কিলোমিটার মালিকানা রিভিউ - জুনাঈদ
0 Add us on
Md Kamruzzaman Shuvo
0 Followers
Published: July 20, 2023
Add on
No audio available

আমি আলশাহরিয়া জুনাঈদ। ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার সুলতানপুর গ্রামের বাসিন্দা। আমি বর্তমানে Bajaj Discover 125 বাইকটি ব্যবহার করি । আমি একজন ডিপ্লোমা কৃষিবিদ। ডিপ্লোমা শেষ হওয়ার পরই মার্কেটিং চাকরিতে যাওয়ার ইচ্ছে ছিলো যার জন্য মোটরসাইকেল চালানো শিখা।


তবে বাড়ি থেকে নিষেধ ছিলো মোটরসাইকেল দিয়ে চাকরি করা লাগবে নাহ । মোটরসাইকেল চালাতে দিবে নাহ, এটা জীবনের রিস্ক । রাস্তাঘাট ভালো নাহ। তারপরও বাড়িতে একটু একটু করে বুঝাতে থাকি। কিছুদিন পর ধীরে ধীরে মোটামুটি সবাই রাজি হয়।

আমার কাকার একটা টিভিএস মেট্রো বাইক ছিলো এটা দিয়েই কাকার সাহায্যে মোটরসাইকেল চালানো শেখা। এরমধ্যে আমার ডিপ্লোমা শেষ। আল্লাহর রহমতে ডিপ্লোমার শেষ হওয়ার আগেই ছোটখাটো একটা চাকরি ব্যবস্থা হয়,কথা ছিলো যে ডিপ্লোমা শেষ হলেই জয়েন করবো। যেই কথা সেই কাজ ০১/০১/২০২৩ এ চাকরিতে জয়েন করি ।

Bajaj Discover 125 ৫০০০ কিলোমিটার মালিকানা রিভিউ - জুনাঈদ

শর্ত ছিলো মটরসাইকেল থাকতে হবে, তখন আমি কাকার টিভিএস মেট্রো শো করে চাকরিতে জয়েন করি । এটা দিয়ে ১৯ দিন ডিউটি করি, হুট করে ১৯/০১/২০২৩ তারিখ দুপুর বেলা খাওয়ার সময় কাকা ফোন দিলো, দিয়ে বলতেছে আয় মোটরসাইকেল কিনতে যাবো, আমি বললাম টাকা তো নাই, কাকা বললো টাকা লাগবে নাহ তুই আয়।

তখন ঘরে শুধুমাত্র ২০০০০ টাকা ছিলো সেটা নিয়ে গেলাম,পথিমধ্যে কাকার টিভিএস মেট্রো ৫৫,০০০ টাকায় বিক্রি করলাম, মাথায় হেলমেট ছিলো ওইটা হাতে নিয়ে ব্যাংকে গিয়ে কাকার একাউন্ট থেকে আরও কিছু টাকা তুলে। সেখান থেকে চলে যাই  বাজাজ এর শোরুম বাজাজ ইলেকট্রো ফেয়ার কাউতলী শোরুমে।

গিয়ে আমার সেই পছন্দকরা বাজাজ ডিসকভার ১২৫ সিসি ক্রয় করি। এরপর ওখানে বসেই লার্নার করি এবং ওনাদের মাধ্যমেই মোটরসাইকেল রেজিস্ট্রেশনের জন্য টাকা জমা দিই।


বাইকিং করে নিজে স্বাছন্দ্যবোধ করি যার জন্য বাইকিং ভালোবাসি, বাইক নিজের ইচ্ছেমতো কন্ট্রোল করতে পারা, বাহিরের পরিবেশকে উপভোগ করতে পারা বাইকিং ভালোবাসার অন্য একটি কারণ।

বাইক ব্যবহারের কারণে মনে হয় রাস্তার দুরুত্ব এবং খরচ অনেকটাই কমে আসে, হাইওয়ে থেকে শুরু করে গ্রামের মেঠো পথ ধরে বাইক চালানো যায়,
আমার কাছে বাইকিং এর সবচেয়ে ভালো লাগার এবং রোমাঞ্চকর বিষয় হচ্ছে আমি আমার জন্মদাত্রী মাকে প্রথম আমার পিলিয়ন হিসেবে নিই।

আমি ভাবিনি আমি নিজেও কখনো বাইক কিনবো, যেদিন আমি বাইক কিনবো সেদিনও জানতাম যে আমার বাইক কেনা হবে। তবে বাইক চালানো শেখার পর থেকে প্রতিদিন ইউটিউভে অসংখ্য বাইকের ভিডিও দেখতাম। প্রথম থেকেই আমার বাজাজ ডিসকভার ১২৫ সিসি বাইকটা ভালো লাগতো, কেন জানিনা যখনই ডিসকভার বাইক আমার সামনে দিয়ে যেতো আমি তাকিয়ে থাকতাম,যখন কেউ আমার সামনে ডিসকভার পার্ক করতো তখন জিজ্ঞেস করতাম ভাই মাইলেজ কেমন পান,বাইকের অন্যান্য বিষয় নিয়ে কথা বলতাম তাদের সাথে।

ইউটিউভে আমি বাংলাদেশের ১২৫ সিসি সব বাইকের পার্থক্যগুলা খুজতাম এবং ডিসকভারের ফিচারগুলা দেখতাম। পরে মনস্থির করলাম কখনও বাইক কিনলে ডিসকভার ১২৫ সিসি বাইকটাই নিবো। ডিসকভার ১২৫ সিসি বাইকটা নেওয়ার পিছনে অনেক কারণ রয়েছে তারমধ্যে অন্যতম হচ্ছে এটা আমার মা নিজে পছন্দ করেছিলো, টিভিতে ডিসকভারের একটা এড হয় এটা দেখে আমার মা বলেছিলো বাইক যেহেতু কিনবিই লাল কালো রংয়ের এই বাইকটা কিনে নিস।

১২৫ সিসি অনুযায়ী ডিজি অ্যানলগ মিটার আমার মন কেড়েছে, লং লাস্টিং এর ক্ষেত্রে ডিসকভারের জুড়ি নেই এটার লুকস এবং কালার এক কথায় অসাধারণ। ১২৫ সিসি বাইকের পিছনের টায়ার তুলনা করলে এটা একটু মোটা ১০০/৯০-১৭ সাইজের টায়ার যার কারণে কন্ট্রোলিং করতে সুবিধা হয়।

এটা যুবক থেকে বৃদ্ধ সব বয়সের মানুষের সাথে মানায়। সবচাইতে বড় কথা হচ্ছে এটার মাইলেজ, আপোষেই এটা সিটিতে ৫০-৫২ কিলোমিটার মাইলেজ দেয় এবং মেইটেনেন্স খরচও সাধ্যের ভিতরে।

একটা প্রবাদ আছে অভাগা যেদিকে যায় সাগরও শুকিয়ে যায়। যখনই আমি বাইক চালানো শিখতে শুরু করলাম, বাইক কিনবো স্বপ্ন দেখতে শুরু করলাম তখন বাইকের দাম আকাশচুম্বী হতে শুরু করলো, ২-৩ দফায় লাফিয়ে লাফিয়ে দাম হলো ১,৫৩,০০০ টাকা। ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার প্রাণকেন্দ্র কাউতলী বাজাজ ইলেক্ট্রো ফেয়ার শোরুম থেকে ১৫৩০০০ টাকায় আমার স্বপ্নের বাজাজ ডিসকভার ১২৫ সিসি বাইকটা ক্রয় করি।

যখন আমি বাইক ক্রয় করি আমার বিশ্বাস হচ্ছিলো নাহ যে আসলেই আমার নিজের বাইক হলো। প্রথমবার যখন ডিসকভার বাইকে উঠি তখন মনে হচ্ছিলো আহা আরও একটা স্বপ্ন পূরণ হলো, জীবিকা নির্বাহের জন্য হলেও একটা মোটরসাইকেল আমার হলো। মূলত আমার চাকরির ক্ষেত্রে বাইকিং এর জগতে আসা,চাকরিকে ঘিরেই সব।

এই বাইকটিতে ১২৪.৫ সিসির এয়ার কুলড ইজ্ঞিন রয়েছে, ইজ্ঞিনের ধরণ ৪ স্ট্রোক সিঙ্গেল সিলিন্ডার টুইন স্পার্ক ডিটিএসআই ইজ্ঞিন, রয়েছে ৫ টি গিয়ার বক্স, বাইকটির ওজন ১২৩ কেজি, বাইকটিতে সামনের চাকা ১০০/৮০-১৭ এবং পিছনে ১০০/৯০-১৭ সাইজের চাকা ব্যবহার করা হয়েছে,যার কারণে পিছন থেকে দেখতেও সুন্দর একটা লুক আসে এবং বাইক কন্ট্রোলিং এ কনফিডেন্স পাওয়া যায়।

সামনে টেলিস্পোপিক সাসপেনশন পেছনে নাইট্রক্স রিয়ার শক অ্যাবজরবার সাসপেনশন ব্যবহার করা হয়েছে। বাজাজ শোররুম থেকে ৪ টি ফ্রি সার্ভিস এবং ৪ টি পেইড সার্ভিস প্রদান করে। এর মাঝে আমি ৩ টি ফ্রি সার্ভিস গ্রহণ করি। আজকে পর্যন্ত আমার বাইক চলছে প্রায় ৪৯০০+ কিলোমিটার।

১ম সার্ভিস করাই ৭০০ কিলোমিটারে ,২য় সার্ভিস ২৫০০ কিলোমিটারে , ৩য় সার্ভিস ৪৬০০ কিলোমিটারে। আলহামদুলিল্লাহ বাজাজের আফটার সেলস সার্ভিসে আমি সন্তুষ্ট, সবাই ফ্রি এবং পেইড সার্ভিস গুলা গ্রহণ করবেন তাতে আপনার মোটরসাইকেলও ভালো থাকবে এবং আপনার মোটরসাইকেলের ২০০০০ কিলোমিটার পর্যন্ত ইঞ্জন ওয়ারেন্টি পাবেন।

Also Read: Bajaj Discover 150S Price In Bangladesh

২০০০ কিলোমিটার / ব্রেকিং পিরিয়ডে আমি সর্বোচ্চ গতিসীমা ৪০ এ রাখতাম, ব্রেকিং পিরিয়ডে মাইলেজ পেতাম সিটিতে ৪৫-৪৬। আলহামদুলিল্লাহ এখন ৫০-৫২ মাইলেজ পাচ্ছি। এখন পর্যন্ত আমি ৬ টি ইজ্ঞিন অয়েল পরিবর্তন করেছি ,১ম বার ৪০০কিলোমিটারে , ২য় বার ৯০০ কিলোমিটারে , এরপর ১ হাজার কিলোমিটার পর পর পরিবর্তন করি।

প্রত্যেকবারই Bajaj DTSi 20w50 গ্রেডের ইজ্ঞিন অয়েল ব্যবহার করে থাকি, বাজাজ শোরুমে এটার মূল্য ৬৮০ টাকা। প্রত্যেক ২বার ইজ্ঞিন অয়েল পরিবর্তন করার সময় একটা অয়েল ফিল্টার পরিবর্তন করি, যার মূল্য ১৭৫ টাকা। আপাতত আর কোনো পার্টস পরিবর্তন করা লাগেনি। এখন পর্যন্ত বাইক নিয়ে আমি বেশি দূরে কোথায় যায়নি, দুইবার ব্রাহ্মণবাড়িয়া টু কুমিল্লা শর্ট ট্যুর দিয়েছিলাম, একদিনে সর্বোচ্চ ১০০ কিলোমিটার রাইড করা হয়েছে। বাজাজ ডিসকভার ১২৫ সিসি দিয়ে এখন পর্যন্ত আমি সর্বোচ্চ ৯৮ স্পিড তুলেছিলাম এরপর সামনে অটো আসায় থ্রোটল ছেড়ে দিয়েছিলাম।


Bajaj Discover 125 বাইকের কিছু ভালো দিক - 

Bajaj Discover 125 বাইকের কিছু খারাপ দিক - 

বাজাজ ডিসকভার ১২৫ সিসি সাধ্যের মধ্যে নিজের শখ, নিজের প্রয়োজন মিটানোর একটি নাম। আমাদের দেশে বাইকের জনপ্রিয়তা অনেক আগে থেকেই। সব বয়সের মানুষের সাথে এটা মানায়। অবশেষে বলতে চাই যদি কোন বাইক অনেক দিন চালানোর ইচ্ছা থেকে বাইক কিনেন তাহলে বাজাজ ডিসকভার নিতে পারেন। তেল সাশ্রয়, অধিক টেকসই, নজরকাড়া লুক সবকিছুই পাবেন এই বাইকে। ধন্যবাদ ।

 

লিখেছেনঃ আলশাহরিয়া জুনাঈদ

আপনিও আমাদেরকে আপনার বাইকের মালিকানা রিভিউ পাঠাতে পারেন। আমাদের ব্লগের মাধ্যেম আপনার বাইকের সাথে আপনার অভিজ্ঞতা সকলের সাথে শেয়ার করুন! আপনি বাংলা বা ইংরেজি, যেকোন ভাষাতেই আপনার বাইকের মালিকানা রিভিউ লিখতে পারবেন। মালিকানা রিভিউ কিভাবে লিখবেন তা জানার জন্য এখানে ক্লিক করুন এবং তারপরে আপনার বাইকের মালিকানা রিভিউ পাঠিয়ে দিন articles.bikebd@gmail.com – এই ইমেইল এড্রেসে।

বাজাজ স্ট্যান্ডার্ড বাইক মোটরসাইকেল মালিকানা রিভিউ ১২৫সিসি

Discussion 8 Comments