মোটরসাইকেলের বিক্রয় পরবর্তী সার্ভিস ও সাপোর্ট ; কি এটা অথবা এর মূল্য বা এর প্রয়োজনীয়তাই বা কি? সংক্ষেপে বলতে গেলে এটা বিক্রয়ের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। আর যখন এটি মোটরসাইকেল উপর আসে তখন তা অনেক গুরুত্বপূর্ন হয়ে ওঠে। তো আজকের আলোচনার বিষয় হল মোটরসাইকেলের পরবর্তী বিক্রয় সার্ভিস ও সাপোর্ট – ফিচার ও মান।
মোটরসাইকেলের বিক্রয় পরবর্তী সার্ভিস ও সাপোর্ট
.webp)

মোটরসাইকেলের পরবর্তী বিক্রয় সার্ভিস ও সাপোর্ট – এটা কি? মোটরসাইকেল একটি ছোট যান কিন্তু অন্যান্য যানবাহনের মতোই, এটি একটি জটিল মেশিন। অন্যান্য মেশিনের মত এটি ঠিকঠাক মেইন্টেইন না করলে এটা ধারাবাহিক ভাবে দীর্ঘ দিন সার্ভিস দিতে পারবে না। অবশ্যই সঠিক সময়ে সঠিক রিপ্লেসমেন্ট, রিপেয়ার ও পিরিওডিক মেইন্টেন্যান্স দরকার। তাই অন্যান্য যন্ত্রপাতি এবং ইলেক্ট্রনিক পণ্যের মত বাইকের ও মেইন্টেন্যান্সের প্রয়োজন। যদি আফটার সেল সার্ভিস এর কথায় আসি । তবে কোম্পানি বা ডিস্ট্রিবিউটর থেকে এটা কমিটমেন্ট থাকে যে বিক্রয়ের পর তারা বিক্রয় পরবর্তী যেসকল সেবা রয়েছে তা দিতে প্রস্তুত। এখানে কমিটমেন্ট করা হয় বিক্রয়ের পরে যদি কোন ধরনের স্পেয়ার্স পার্টস কাজ না করে তাহলে কোম্পানি যেকোন ভাবে সেটা রিপেয়ার মেইন্টেনেন্স বা সার্ভিস করে দিতে প্রস্তুত থাকবে ।

এই নীতি গ্রাহকদের জন্য প্রমোশনাল অথবা স্ট্রাটেজিক অফার । যার কারনে বিক্রেতাদের বা ডিস্ট্রিবিউটের কাছ থেকে গ্রাহকরা নিশ্চিত ভাবে , কোন দ্বিধা ছাড়াই কনফিডেন্টের সাথে যেকোন প্রোডাক্ট কিনতে সাহায্য করে এবং ব্যবহার করতেও উৎসাহিত করে। সুতরাং এর ফলে প্রোডাক্টের এর বিক্রি বেড়ে যায় । এছাড়াও এই সার্ভিসের মাধ্যমে বেশ কিছু স্পেসিফিক সার্ভিস রয়েছে যা কোম্পানি থেকে প্রদান করা হয় । এই সকল সার্ভিসের মধ্যে রয়েছে গ্যারান্টি,ওয়ারেন্টি , রিপায়ার স্পেয়ার পার্টস, চেঞ্জ পার্টস এসব । এখানে সম্পূর্ণ অথবা আংশিকভাবে যে সাপোর্ট দেয়া হয় তাকেই বিক্রয় পরবর্তী সার্ভিস এবং সাপোর্ট বলে। তাই মোটরসাইকেল বিক্রির পরবর্তী সেবা, সার্ভিস ও সাপোর্ট সব কিছু অন্যান্য পন্যের মত একই রকম । তবে কিছুটা ভিন্নতা রয়েছে । কখনও সার্ভিস ও সাপোর্ট এর বেশ একটা বড় পরিসরে করা হয়ে থাকে এবং আজ তাই আমরা এখানে তুলে ধরছি। 
মোটরসাইকেলের পরবর্তী বিক্রয় সার্ভিস ও সাপোর্ট - গ্যারান্টি এবং ওয়ারেন্টি ডিস্ট্রিবিউটের বা যারা পন্য বিক্রয় করে থাকে, তাদের কাছ থেকে সবচেয়ে আকর্ষনীয় অফার হচ্ছে গ্যারান্টি এবং ওয়ারেন্টি। বিক্রির সাথে সাথেই যে এই সার্ভিস ও সাপোর্ট পাওয়া যাবে তা নয়, যখন থেকে বিক্রয় পরবর্তী সেবা চালু হবে তখন থেকে পাওয়া যাবে। আর এজন্যই একে বিক্রয় পরবর্তী সার্ভিস এবং সাপোর্ট হিসেবেই ধরা হয়। এখানে গ্যারেন্টি বলতে এখানে নির্দিষ্ট কোন পার্টস বা তার অংশ এর জন্য নির্ভরযোগ্যতা বা ডিউরেবিলিটি এর নিশ্চয়তা দেয় । এটা একটা নির্দিষ্ট সময়ের জন্য প্রযোজ্য থাকে। এটা কিছু শর্তের উপর দেয়া হয়ে থাকে। এই গ্যারান্টি এর মাধ্যমে সেই পার্টস বা পার্টসের অংশ কতদিন সার্ভিস দেবে তার উপর গ্যারান্টি দেয়া হয় । তবে এর জন্য কিছু শর্ত দেয়া থাকে। যদি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে তা কোন সমস্যা দেখা দেয় তাহলে কোম্পানি থেকে ফ্রি- তে তার রিপ্লেস করে দেয়া হয়। যদি ওয়ারেন্টির কথায় আসা যায় তাহলে এতে কোন পণ্যের রিপ্লেস করা হয় না । কিন্তু ম্যানুফেকচারগত কোন সমস্যা হলে তা রিপ্লেস করে দেয়া হয় বা রিপেয়ার করে দেয়া হয়। এছাড়া বিক্রয় পরবর্তী যে সুযোগ-সুবিধা দেয়া যায় তার মাঝে ওয়ারেন্টি অন্যতম ভূমিকা রাখে এবং একটা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে পার্টস বা অন্যান্য অংশ ফ্রি-তে ঠিক করে দেয়। ওয়ারেন্টিতে যে শর্ত ও নির্দিষ্ট টার্মস দেয়া থাকে তখন সেই শর্ত বা টার্মস এর আন্ডারে কাস্টমাররা তাদের সমস্যা এবং অভিযোগ এর কথা জানাতে পারবেন। এখানে ওয়ারেন্টি পণ্য বিক্রির জন্য যথেষ্ট ভূমিকা রাখে।


মোটরসাইকেলের পরবর্তী বিক্রয় সার্ভিস ও সাপোর্টঃ ফ্রি অথবা প্রমোশনাল সার্ভিস এবং মেইন্টেন্যান্স বিক্রয় পরবর্তী সার্ভিসের মাঝে ফ্রি অথবা প্রমোশনাল সার্ভিস একটি, যা খুবই জনপ্রিয়। ওয়ারেন্টির আন্ডারে মোটরসাইকেলের ক্রেতারা এই ফ্রি সার্ভিস পেয়ে থাকেন। এ ধরনের ঘটনায় দেখা যায় ক্রেতারা একটু নিশ্চিন্ত থকেন তাদের সার্ভিস নিয়ে, এবং গ্রাহকদের পছন্দমত তাদের সার্ভিস নিতে পারে সেদিকে খেয়াল রাখা হয়। আর যদি কোন ভুল পাওয়া যায় তবে তা রিপ্লেসমেন্টের সুবিধা পাওয়া যায়। যখন প্রমোশনাল পিরিয়ড চলে তখন গ্রাহকরা বিভিন্ন অফার বা সুবিধা পেয়ে থাকেন। কোম্পানি সার্ভিস টিমকে ভালভাবে প্রশিক্ষন দেয়া । যাতে তারা ঠিকমত সার্ভিস দিতে পারে। এজন্য গ্রাহকরা এই সুবিধার জন্য আরো বেশি এর উপর নির্ভর করা শুরু করেছে এবং এতে করে দিনদিন এর সুনাম বেড়ে যাচ্ছে।

পিরিওডিক সার্ভিস এবং মেইন্টেন্যান্স পিরিওডিক সার্ভিস এটি একটি খুব কমন এবং গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা যা বিক্রয়ের পরবর্তী সময়ে দেয়া হয়ে থাকে। মোটরসাইকেলের যন্ত্রাংশ খুবই জটিল । তাই এর স্থায়ীত্বের জন্য এর পিরিওডিক সার্ভিস ও মেইন্টেন্যান্সের প্রয়োজন। সঠিক সার্ভিস ও মেইন্টেন্যান্স নিশ্চিত করে মোটরসাইকেলের স্থায়ীত্ব । এছাড়াও এই মডার্ন মোটরসাইকেল নিয়ে এসেছে মডার্ন ফিচার। এই ফিচারগুলোর সাথে রয়েছে জটিল পদ্ধতি ও টেকনোলোজি ব্যাক আপ করা আছে। আবার স্মরণ করিয়ে দেই প্রত্যেক মোটরসাইকেল নিজস্ব পদ্ধতিতে সার্ভিস টিমকে সার্ভিস দেয়া হয়। সুতরাং কোম্পানি নিজেদের কর্তৃত্বে তাদের টিমকে তৈরি করে গ্রাহকদের সর্বোচ্চ সেবা দেয়ার জন্য। 
মোটরসাইকেলের পরবর্তী বিক্রয় সার্ভিস ও সাপোর্ট - স্পেয়ার পার্টস, আপগ্রেড এবং সার্ভিস বিক্রয় পরবর্তী সার্ভিস ও সহায়তার মাঝে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও মূল্যবান হল স্পেয়ার পার্টসের বিষয়টি। মোটরসাইকেল শুধু একটি যন্ত্র নয় ,এটি অনেকগুলো যন্ত্রের সমন্বয়ে তৈরি একটি জটিল যন্ত্র। সুতরাং বাইকের পিরিওডিক মেইন্টেন্যান্স ও রিপ্লেসমেন্টের প্রয়োজন। মোটরসাইকেলের পার্টস আছে কিনা তা না জেনে মোটরসাইকেল কেনাটা বোকামী। তো স্পেয়ার পার্টস আছে কিনা তা জেনে রাখাটা গুরুত্বপূর্ণ। তাছড়াও দেশের সর্বস্তরে স্পেয়ার পার্ট আছে কিনা এটাও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। তাই সকল গ্রাহককে এই ব্যাপারে নিশ্চিত হতে হবে এই স্পেয়ার পার্টসের বিষয়টি নিয়ে। এছাড়াও কিছু কিছু কোম্পানি প্রয়োজনীয় জিনিস ও ফিচার আপগ্রেডের সুবিধা দিচ্ছে বিক্রয়ের পর। 
মোটরসাইকেল বিক্রয় পরবর্তী সাপোর্ট ও সার্ভিস – ফিচার ও মূল্য তো পাঠকেরা এই ছিল বিক্রয় পরবর্তী সাপোর্ট ও সহায়তা বিষয়টির ফিচার ও মূল্য। আশা করছি আপনারা বুঝতে পেরেছেন এর গুরুত্ব কতটুকু। তো আপনি যদি একজন ধৈর্যশীল ক্রেতা হয়ে থাকেন তবে আপনার মোটরসাইকেল মডেল ও বিক্রয় পরবর্তী কি সুযোগ-সুবিধা পাওয়া যায় তা নিশ্চিত হয়ে ক্রয় করার সিদ্ধান্ত নিবেন। এখানে নিশ্চিত হওয়ার পরই আপনি মোটরসাকেল কেনার জন্য অগ্রসর হতে পারেন। আশা করছি আমার কথাটি ধরতে পেরেছেন। মোটরসাইকেল পরবর্তী সার্ভিস ও সহায়তা – ফিচার ও মান এই লেখাটি পড়ার জনয এতোক্ষন সময় দেয়ার জন্য ধন্যবাদ। তো ভালোভাবে রাইড করুন , সাবধানে থাকুন; সবাইকে ধন্যবাদ।




























Discussion 8 Comments