CFMOTO Bangladesh - Cool Life Cruising
Our Partners:
Lifan Advertisement
CFMoto Advertisement
BikeBikroy Advertisement
ELF Advertisement

মটো ট্রাভেলিং এর জন্য বাংলাদেশের সবচেয়ে উঁচু রাস্তা

মটো ট্রাভেলিং এর জন্য বাংলাদেশের সবচেয়ে উঁচু রাস্তা
0 Add us on
Arif Raihan Opu
1 Followers
Published: August 31, 2020
Add on
No audio available

মটো ট্রাভেলিং এর জন্য বাংলাদেশের সবচেয়ে উঁচু রাস্তা কোনটি:

আমরা যারা বাইক নিয়ে ভ্রমণ করতে ভালোবাসি তাদের অনেকের মনে একটা প্রশ্ন থাকে , মটো ট্রাভেলিং এর জন্য বাংলাদেশের সবচেয়ে উঁচু রাস্তা কোনটি? আজ আমরা বাংলাদেশের সবচেয়ে উঁচু রাস্তা সম্পর্কে আলোচনা করতে চলেছি। যারা এডভেঞ্চার রাইড অনেক বেশি পছন্দ করেন তাদের জন্য এর চাইতে সেরা রাস্তা আর কি হতে পারে।

বাংলাদেশের সবচেয়ে উঁচু রাস্তা

পাহাড়ের ওপর দিয়ে এঁকে বেঁকে চলা দেশের সবচেয়ে উঁচু থানচি-আলীকদম সড়ক ( thanchi alikadam road )। বান্দরবানের সবুজের মাঝ দিয়ে নির্মিত দেশের সবচেয়ে উঁচু রাস্তা ‘থানচি-আলীকদম’ ( alikadam thanchi ) এর সৌন্দর্য্যের বর্ণনা এভাবে লিখে দেয়া সম্ভব না। বান্দরবানে পাহাড়ের ওপর দিয়ে নির্মিত থানচি-আলীকদম সড়কটি বাংলাদেশের সবচেয়ে উঁচু রাস্তা। এই রাস্তাটির কাজ শেষ করেছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। 

থানচি

সেনাবাহিনীর প্রকৌশল বিভাগের কর্মকর্তারা বলেছেন, সমুদ্র সমতল থেকে প্রায় আড়াই হাজার ফুট উচ্চতায় পাহাড়ের ওপর নির্মিত এটি বাংলাদেশের সবচেয়ে উঁচু রাস্তা। নির্মাণকাজে নিয়োজিত সেনাবাহিনীর ১৬ ও ১৭ প্রকৌশল নির্মাণ ব্যাটালিয়নের (ইসিবি) কর্মকর্তারা জানান, সাঙ্গু নদ ও মাতামুহুরী নদী উপত্যকা বিভাজনকারী চিম্বুক পাহাড়শ্রেণির ( chimbuk pahar ) ডিম পাহাড় এলাকার ওপর দিয়ে সড়কটি নির্মাণ করা হয়েছে। 

Ali kadam

২ হাজার ৫০০ ফুট উঁচুতে পাথুরে পাহাড়ের গায়ে আঁকাবাঁকা ধাপ কেটে ৩৫ কিলোমিটারের সড়কটি নির্মাণ করা হয়েছে। ২০০৬ সালে এর নির্মাণকাজ শুরু হয়। নিজের চোখে না দেখলে এই রুপ বিশ্বাস হবে না। চারিদিকে শুধু সবুজ আর সবুজ। এই মেঘ, এই রোদ, এই অসহ্য গরম, এই অস্বাভাবিক ঠাণ্ডা। আপনি বাইকে বসে পাহাড়ের মধ্যে দিয়ে আড়াই হাজার ফিট উঁচু দিয়ে এগিয়ে যাচ্ছেন হঠাৎ দেখলেন, অনেক দূরে কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত। 

এডভেঞ্চার রোড বাংলাদেশ

 

ইসিবির কর্মকর্তারা বলেন, প্রাকৃতিক পরিবেশ বজায় রেখে পাহাড়ে সড়ক নির্মাণ যেমন ব্যয়বহুল, তেমনি কষ্টসাধ্য। শুকনো মৌসুমে ৬০-৭০টি পাহাড়ের ধাপ কেটে সড়কটি নির্মাণ করা হয়েছে। এটির কোনো কোনো অংশ বর্ষায় পাহাড় ধসের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এ জন্য সড়কের একই অংশে তিন-চার বছর ধরে নির্মাণকাজ করতে হয়েছে। এভাবে এক কিলোমিটার সড়কে সোয়া তিন কোটি টাকার বেশি ব্যয় হয়েছে।

 

এটি আলীকদম হয়ে কক্সবাজারের সঙ্গে মিশেছে। থানচি-আলীকদম রাস্তার সবচেয়ে আকর্ষণীয় জায়গাটার নাম ডিম পাহাড় ( dim pahar )। পাহাড়টা দেখতে ডিমের মত বলেই এমন নাম। স্থানীয় ম্রো’রা এই পাহাড় কে ডাকে ‘ক্রাউডং’ পাহাড়। এত সুন্দর পাহাড় বাংলাদেশের অন্য কোথাও আপনি পাবেন না। আপনি যখন বাইকে করে এই পাহাড়ের উপর আসবেন অদ্ভুত একটা ঠাণ্ডা বাতাস আপনার মন পরিবর্তন করে দিবে।

  

ডিম পাহাড়ে কোন এক অজানা কারণে সবসময় ঠাণ্ডা বাতাস থাকে। ব্যাপারটা একদম সরাসরি অনুভব করা যায়। প্রচণ্ড গরমের মধ্যে ডিম পাহাড়ে পৌঁছালেই ঠাণ্ডা বাতাস। থানচি থেকে আলীকদম পুরা রাস্তাটাই সবুজের চেয়েও সবুজ। পাহাড়ি রাস্তার ধারে ধারে ফুটে আছে নানা রঙের পাহাড়ি ফুল। একটু পর পর একটা বাজার, দোকানপাট। ওদের সহজ সরল জীবনযাত্রা যে কাউকে মুগ্ধ করবে। পুরা রাস্তাটাই একটা নতুন এক্সপেরিয়েন্স। আপনি নিজে না গেলে সেটা কখনোই অনুভব করতে পারবেন না।

  

আপনি যখন আপনার প্রিয় বাইকটি নিয়ে বাংলাদেশের সবচেয়ে উঁচু রাস্তা ( highest road in bangladesh ) দেখতে যাবেন তখন অবশ্যই বেশ কিছু বিষয়ে সতর্ক থাকুন। রাস্তা ফাকা পেলে অতিরিক্ত গতিতে বাইক রাইড করতে যাবেন না এবং এমন কোন কাজ করবেন না যাতে স্থানীয় লোকেরা বাইকারদের উপরে রিরক্ত হয়। নিয়ন্ত্রিত গতিতে বাইক রাইড করুন নিরাপদে বাড়ি ফিরুন।


তথ্যসূত্রঃ প্রথম আলো , walk bangladesh      

খবর টিপস

Discussion 8 Comments