ইলেকট্রিক বাইক কেনার আগে ১০টি বড় ভুল এড়িয়ে চলুন

This page was last updated on 13-Apr-2026 03:17pm , By Rafi Kabir

রাস্তায় জ্যাম আর পেট্রোলের দামের কথা ভাবলেই এখন সবার আগে ইলেকট্রিক বাইকের কথা মাথায় আসে। তেলের খরচ বাঁচানোর জন্য অনেকেই আজকাল ই বাইক কেনার দিকে ঝুঁকছেন। কিন্তু নতুন প্রযুক্তির এই বাইকটি কেনার আগে অনেকেই না বুঝে বেশ কিছু ভুল করে বসেন যার মাশুল পরে গুনতে হয়। চলুন আজ এমন দশটি বড় ভুলের কথা জেনে নিই যেগুলো ই বাইক কেনার আগে অবশ্যই এড়িয়ে চলা উচিত।


১. ব্যাটারির ধরন যাচাই না করা

অনেকেই দাম কম দেখে লিড এসিড ব্যাটারির বাইক কিনে ফেলেন। কিন্তু লিথিয়াম আয়ন ব্যাটারি অনেক বেশি টেকসই এবং হালকা হয়। লিড এসিড ব্যাটারি বারবার পরিবর্তন করতে গিয়ে পরে আপনার খরচ উল্টো আরও বেড়ে যায়। তাই কেনার আগে অবশ্যই ব্যাটারি কোন ধরনের সেটা নিশ্চিত হয়ে নিন।


২. কোম্পানির বলা মাইলেজ পুরোপুরি বিশ্বাস করা

শোরুম থেকে হয়তো বলা হবে বাইকটি একবার চার্জে ১০০ কিলোমিটার চলবে। কিন্তু বাস্তব রাস্তায় ট্রাফিক আর ওজনের কারণে মাইলেজ কিছুটা কম পাওয়া যায়। তাই কোম্পানির বলা হিসাবের চেয়ে অন্তত ১৫ বা ২০ কিলোমিটার কম ধরে আপনার প্রতিদিনের হিসাব করা উচিত।


৩. চার্জ দেওয়ার জায়গার কথা ভুলে যাওয়া

বাইক কিনে ফেললেন কিন্তু আপনার গ্যারেজে বা পার্কিংয়ে চার্জ দেওয়ার কোনো প্লাগ নেই। তখন কিন্তু বড় বিপদে পড়তে হবে। ই বাইক চার্জ হতে বেশ কয়েক ঘণ্টা সময় লাগে। তাই কেনার আগে কোথায় এবং কীভাবে চার্জ দেবেন সেই ব্যবস্থা অবশ্যই পাকা করে রাখবেন।


৪. মোটরের পাওয়ার বা ওয়াট না দেখা

শুধু বাইকের লুক দেখলেই হবে না পেছনের মোটরের পাওয়ার কত সেটাও জানা খুব জরুরি। মোটর যদি দুর্বল হয় তবে পেছনে আরেকজন বসিয়ে ওভারপাস বা উঁচু রাস্তায় উঠতে বাইকটির অনেক কষ্ট হবে। অন্তত ১০০০ বা ১২০০ ওয়াটের মোটর হলে শহরের রাস্তায় বেশ আরামেই চলা যায়।


৫. আফটার সেলস সার্ভিস নিয়ে খোঁজ না নেওয়া

রাস্তায় চলতে গেলে বাইকের সমস্যা হতেই পারে। কিন্তু আপনি যে ব্র্যান্ডের বাইক কিনছেন তাদের পার্টস এবং ভালো মেকানিক হাতের কাছে পাওয়া যায় কি না সেটা আগে জানা দরকার। অপরিচিত কোনো ব্র্যান্ডের বাইক কিনে পরে পার্টস না পেলে বাইকটি ঘরে ফেলে রাখা ছাড়া আর কোনো উপায় থাকবে না।


৬. বাইক পুরোপুরি ওয়াটারপ্রুফ ভাবা

অনেক বিক্রেতাই বলে থাকেন তাদের বাইক ১০০ ভাগ ওয়াটারপ্রুফ। এটা একটা বড় ভুল ধারণা। ই বাইক সাধারণত পানি নিরোধক বা ওয়াটার রেজিস্ট্যান্ট হয়। বৃষ্টির পানিতে কোনো সমস্যা না হলেও জমানো গভীর পানিতে বা জলাবদ্ধ রাস্তায় বাইক চালালে মোটর ও ব্যাটারিতে পানি ঢুকে বড় ক্ষতি হয়ে যেতে পারে।


৭. টেস্ট ড্রাইভ না করেই কিনে ফেলা

বাইক দেখতে যতই সুন্দর হোক না কেন চালানোর সময় বসার পজিশন আরামদায়ক কি না তা চালিয়ে দেখা ছাড়া বোঝা সম্ভব নয়। সাসপেনশন কেমন কাজ করছে বা ব্রেক কতটা মজবুত সেটা বুঝতে অবশ্যই কেনার আগে ভালোভাবে টেস্ট ড্রাইভ করে নেওয়া উচিত।


৮. বডি ও চেসিসের মান যাচাই না করা

অনেক ই বাইকের বাইরের প্লাস্টিক বা ভেতরের চেসিস বেশ দুর্বল হয়। আমাদের দেশের রাস্তার যে অবস্থা তাতে মজবুত চেসিস না হলে কিছুদিন পরই বাইকের বিভিন্ন অংশ থেকে আওয়াজ আসতে শুরু করবে। তাই বডি পার্টস কতটা টেকসই সেটা হাত দিয়ে নেড়েচেড়ে দেখা ভালো।


৯. ওয়ারেন্টির শর্তগুলো পরিষ্কার না হওয়া

ব্যাটারি এবং মোটরের ওপর কতদিনের ওয়ারেন্টি আছে এবং সেই ওয়ারেন্টি পেতে কী কী শর্ত মানতে হবে সেটা অনেকেই কেনার সময় খেয়াল করেন না। পরে কোনো পার্টস নষ্ট হলে ওয়ারেন্টি ক্লেইম করতে গিয়ে অনেক হয়রানির শিকার হতে হয়। তাই কাগজপত্রে সব শর্ত পরিষ্কারভাবে লেখা আছে কি না তা পড়ে দেখুন।


১০. বেশি রিসেল ভ্যালু আশা করা

তেলের বাইকের মতো ই বাইকের রিসেল ভ্যালু বা পুরোনো বাইকের দাম আমাদের দেশে এখনো ততটা ভালো নয়। তাই এক দুই বছর চালিয়ে ভালো দামে বেচে দেব এমন চিন্তা করে ই বাইক কিনলে পরে হতাশ হতে হবে। যদি অন্তত তিন বা চার বছর তেলের খরচ বাঁচিয়ে চালানোর ইচ্ছা থাকে তবেই এই বাইক কেনা আপনার জন্য লাভজনক।


এই ছোট কিন্তু জরুরি বিষয়গুলো মাথায় রাখলে একটি ভালো ইলেকট্রিক বাইক কেনা আপনার জন্য অনেক সহজ হয়ে যাবে। নিজের প্রয়োজন এবং বাজেট মিলিয়ে সঠিক বাইকটি বেছে নিন আর নিশ্চিন্তে রাস্তায় বেরিয়ে পড়ুন।