Shares 2

ইলেকট্রিক বাইকের রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়া বাংলাদেশে

Last updated on 06-Apr-2026 , By Rafi Kabir

আপনার শখের ইলেকট্রিক বাইকটি রাস্তায় নামানোর আগে রেজিস্ট্রেশন নিয়ে অনেকের মনেই নানা প্রশ্ন থাকে। আগে হয়তো নিয়মকানুন অতটা কড়াকড়ি ছিল না কিন্তু ২০২৬ সালে এসে বিআরটিএ এখন ই-বাইকের জন্য নির্দিষ্ট নিয়ম ঠিক করে দিয়েছে। আসলে তেলের বাইকের মতো এখন ই-বাইকও একটি পূর্ণাঙ্গ মোটরযান হিসেবে গণ্য হয়। চলুন আজ একদম পানির মতো সহজ করে জেনে নেই কীভাবে আপনার ই-বাইকটি সরকারিভাবে নিবন্ধন করবেন।


কোন ধরণের বাইকের রেজিস্ট্রেশন লাগবে

সব ইলেকট্রিক বাইকের জন্য কিন্তু রেজিস্ট্রেশন লাগে না। সাধারণত যেগুলোর মোটরের ক্ষমতা খুব কম এবং যা মূলত প্যাডেল দিয়ে চালানো যায় সেগুলোর ক্ষেত্রে নিয়মে কিছুটা শিথিলতা আছে। তবে আপনি যদি এমন কোনো ইলেকট্রিক স্কুটার বা মোটরসাইকেল কেনেন যা বেশ দ্রুত চলে এবং যার মোটরের পাওয়ার ভালো তবে সেটির জন্য বিআরটিএ থেকে নম্বর প্লেট নেওয়া এখন বাধ্যতামূলক। কেনার সময় শোরুম থেকেই জেনে নেবেন আপনার মডেলটি রেজিস্ট্রেশনের আওতায় পড়ে কি না।


প্রয়োজনীয় কাগজপত্র গুছিয়ে নেওয়া

রেজিস্ট্রেশন করতে যাওয়ার আগে কিছু কাগজ আপনার সাথে থাকতে হবে। শোরুম থেকে দেওয়া ইনভয়েস এবং মুসক বা ভ্যাট পেপারগুলো খুব যত্ন করে রাখবেন কারণ এগুলো ছাড়া আবেদন করা যাবে না। এছাড়া আপনার জাতীয় পরিচয়পত্র বা এনআইডির কপি এবং বর্তমান ঠিকানার প্রমাণ হিসেবে বিদ্যুৎ বিল বা গ্যাস বিলের কপি লাগবে। সাথে কয়েক কপি পাসপোর্ট সাইজের ছবিও সাথে রাখুন। সব কাগজ ঠিক থাকলে আপনার অর্ধেক কাজ সেখানেই শেষ।


ব্যাংক ফি এবং আবেদন প্রক্রিয়া

এখন আর দালালের পেছনে দৌড়ানোর দরকার নেই। আপনি সরাসরি অনলাইনে বিআরটিএ সার্ভিস পোর্টালের মাধ্যমে আবেদন করতে পারেন। সেখানে আপনার বাইকের সব তথ্য দিয়ে ফরম পূরণ করতে হবে। এরপর নির্ধারিত ব্যাংক ফি জমা দিতে হবে। তেলের বাইকের রেজিস্ট্রেশন ফি সিসি বা ইঞ্জিনের ক্ষমতার ওপর নির্ভর করলেও ই-বাইকের ক্ষেত্রে এটি মোটরের ওয়াট বা কিলোওয়াটের ওপর ভিত্তি করে ঠিক করা হয়। সুখের বিষয় হলো ই-বাইক পরিবেশবান্ধব হওয়ায় সরকার এর রেজিস্ট্রেশন ফি তেলের বাইকের চেয়ে বেশ খানিকটা কম রেখেছে।


বাইক পরিদর্শন এবং ডিজিটাল প্লেট

টাকা জমা দেওয়ার পর আপনাকে একটি নির্দিষ্ট দিনে বাইক নিয়ে বিআরটিএ অফিসে যেতে হবে। সেখানে মোটরযান পরিদর্শক আপনার বাইকের চেসিস নম্বর এবং মোটরের তথ্যগুলো মিলিয়ে দেখবেন। সব ঠিক থাকলে আপনাকে ফিঙ্গারপ্রিন্ট এবং ছবির জন্য ডাকা হবে। এই প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার কয়েকদিন পরেই আপনি আপনার ডিজিটাল নম্বর প্লেট এবং আরএফআইডি ট্যাগ পেয়ে যাবেন। মনে রাখবেন নম্বর প্লেট ছাড়া রাস্তায় ই-বাইক চালানো এখন আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ।


স্মার্ট কার্ড বা ডিজিটাল সার্টিফিকেট

সব প্রক্রিয়া শেষ হলে আপনার ঠিকানায় ডাকযোগে বা সরাসরি অফিস থেকে স্মার্ট কার্ড ড্রাইভিং লাইসেন্সের মতো বাইকের স্মার্ট কার্ড দেওয়া হবে। এই কার্ডটি হলো আপনার বাইকের বৈধতার আসল প্রমাণ। এটি সাথে থাকলে রাস্তায় পুলিশি ঝামেলা বা অন্য কোনো আইনি জটিলতায় পড়ার ভয় থাকবে না। ডিজিটাল এই যুগে এখন অনেক কাজই মোবাইলে অ্যাপের মাধ্যমেও চেক করা যায়।


পরিশেষে বলা যায় যে রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়াটি শুরুতে একটু ঝামেলার মনে হলেও এটি আপনার বাইকের নিরাপত্তার জন্য খুব জরুরি। রেজিস্ট্রেশন করা থাকলে বাইক চুরি হলে খুঁজে পাওয়া সহজ হয় এবং আপনি একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে বুক ফুলিয়ে রাস্তায় চলতে পারেন। তেলের খরচ বাঁচিয়ে আপনি তো পকেট সাশ্রয় করছেনই সাথে সরকারি নিয়ম মেনে চললে আপনার রাইড হবে আরও আনন্দদায়ক।

Published by Rafi Kabir

Latest Bikes

Komaki X One

Komaki X One

Price: 0

YADEA MIA

YADEA MIA

Price: 86500

Walton FUSION 25J

Walton FUSION 25J

Price: 159999

View all Sports Bikes

Upcoming Bikes

Honda WN7

Honda WN7

Price: 0

Julong M-T10

Julong M-T10

Price: 0

Julong M-R6

Julong M-R6

Price: 0

View all Upcoming Bikes