Yamaha R15 v3 Indo নিয়ে ৭,০০০কিলোমিটার – এ আর আবদুল্লাহ

আমি এ আর আবদুল্লাহ । ঢাকা মিরপুরে থাকি । আসলে ছোট বেলা থেকে যে বাইকের প্রতি ভালোবাসা ছিল সেটা না, কারণ আমি ছোট বেলা থেকে ক্লাস ৬ পর্যন্ত বাংলাদেশের বাহিরে থেকেছি। আমি সৌদিআরব থাকতাম । সেখানে আব্বুর গাড়িতে বেশি ওঠা হতো । আর সৌদিতে বাইক তুলনামূলক কম । আজ আমি আপনাদের আমার Yamaha R15 v3 Indo ভার্সন নিয়ে কিছু অভিজ্ঞতা শেয়ার করব ।

yamaha r15 v3 indo bangladesh

তবে আর আগে আমার বাইকের প্রতি আকর্ষণ কিভাবে আসল সেটাও বলা দরকার । যখন আমি ক্লাস সেভেন এ পড়ি, তখন আমি যখন বাংলাদেশে আসি । তখন থেকে বাইকের প্রতি একটা আকর্ষণ সৃষ্টি হয় । আর এখন তো বাইক ই সব হয়ে গেছে । আমি যখন ক্লাস ৮ এ, তখন বড় কাকার বাইক দিয়ে বাইক চালানো শিখি । তখন থেকে বাইক চালানো শুরু এবং নিজের যখন বাইক হয় তখন আমি ইন্টার ২য় বর্ষে পড়ি ।

ইন্টার সেকেন্ড ইয়ারে থাকতে আমি প্রথম বাইক কিনি ,সেটা ছিল সুজুকি জিক্সার 155 সিসি । কিন্তু আমি সেটা মাত্র ৫-৬ মাস চালিয়েছি । এরপর আমি Yamaha R15 V2 বাইকটি ক্রয় করি । যখন আমি জিক্সার কিনি তখন থেকেই আরওয়ান ভাইভ ভি২ এর প্রতি আমার আকর্ষন ছিল । বাইকটি ৩ বছরে ৩৭০০০ কিমি রাইড করি এবং আরওয়ানফাইভ এর প্রেমে পরে যাই ।

yamaha r15 v3 indo bangladesh price

চলুন তাহলে বর্তমানে আমার সাত হাজার কি মি চালানো Yamaha R15 v3 Indo বাইকটির সম্পর্কে কিছু কথা বলি । আমি প্রথম থেকেই শুরু করি আমার Yamaha R15 v3 পর্যন্ত আশা কিভাবে হয়েছে ।

বাংলাদেশে Yamaha R15 v3 Indo ভার্সন আসার পর আমি বাইকটির প্রতি একটা আকর্ষণ অনুভব করি। প্রথম দিন বাইকটির লুকস দেখেই বলে উঠি এটা আমার চাই। এরপর আমি আরো জানতে পারি এর ফিচার গুলোর সম্পর্কে। এটি বাংলাদেশে প্রথম কোন বাইক যে বাইকে ভিভিএ আছে এবং সেই সাথে স্লিপার ক্লাচ দেওয়া হয়েছে ।

আমি ইন্টারনেটে খুজি এই নতুন দুই টেকনলোজির ব্যাপারে এবং জানতে পারি এর সম্পর্কে । আর R15 v3 Indo কেনার স্বপ্ন দেখতে শুরু করি ।

r15 v3 price in bangladesh

২০১৯ এর ২০ মে আমি আমার আর ওয়ান ফাইভ ভি ২ বাইকটি বিক্রি করে দেই । এরপর আমি ২০১৯ সালের ১৭ জুন মিরপুর ক্রিসেন্ট এন্টারপ্রাইস থেকে পেপার্স সহ ৫ লক্ষ ৩১ হাজার টাকায় Yamaha R15 v3 Indo ভার্সনের বাইকটি কিনি ।

বর্তমানে আমার বাইকটি ৭০০০+ কি মি চলতেছে । প্রথম যেদিন কিনেছি অনুভুতি টা ছিল অসাধারন । আলহামদুলিল্লাহ্‌ প্রথম যখন চালানো শুরু করি তখন বুঝলাম এর প্রকৃত অনুভুতি । বাইকটি শুরুতেই খুব স্মুথ মনে হচ্ছিল এবং ভি২ এর থেকে গিয়ার সিফটিং অনেক বেশি স্মুথ লাগতেছিল । আর এটার প্রধান কারন স্লিপার ক্লাচ ।

ব্রেকিং পার্ফরমেন্স ছিল অসাধারন, টায়ার সাইজ ভি২ এর থেকে বড় হওয়াতে বেশ ভালো কনফিডেন্স পাচ্ছিলাম । বাসায় আসা পর্যন্ত অনুভুতিটা ছিল অসাধারন ।

r15 v3 speedometer

এবার কথা বলা যাক Yamaha R15 v3 Indo এর কিছু ভালো দিক নিয়েঃ

  • স্টাইল
  • সিটিং পজিশন
  • ডিউরিবিলিটি
  • ২৮২ এবং ২২০ এম এম ডিক্স এর ব্রেকিং পার্ফমেন্স
  • বড় সাইজের টায়ার
  • অসাধারন ব্যালেন্সিং
  • লিকুয়েড কুল সিস্টেম
  • সার্ভিস

এটা আমার ব্যক্তিগত মতামত অনেকের মত ভিন্ন ও থাকতে পারে । তবে ভালো যেমন আছে তেমন খারাপ ও থাকবে এটাই স্বাভাবিক ।

আমার কাছে খারাপ লাগার দিক গুলো হচ্ছেঃ

  • হেডলাইটের আলো অনেক কম
  • বাংলাদেশের রোড কন্ডিশনের জন্য খুব বেশি এডজাস্ট হচ্ছেনা
  • আপ সাইড ডাউন সাস্পেন্সন যেটা ভাংগা রাস্তায় কম কাজ করে
  • এবিএস দেওয়া উচিৎ ছিল
  • টারনিং রেডিয়াস কম

yamaha r15 v3 user review

আমি বাইকটি প্রথম ফ্রি সার্ভিস করাই ১০০০ কিমি তে ক্রিসেন্ট এন্টারপ্রাইজ থেকেই । সার্ভিস এর মান খুব ভালো ছিল ,আর আমি বাইরের দোকান থেকে কাজ করাইনা । এখন পর্যন্ত কম্পানির ফ্রি সার্ভিস ই নিচ্ছি । এর বেশি দরকার হয়নি । কারন এখন পর্যন্ত আমার বাইকে বড় ধরনের কোন সমস্যা হয়নি ।

২৫০০ কিলোমিটার পর মাইলেজ এর ব্যাপারে বলতে গেলে ওইভাবে সঠিক কখনো হিসাব করা হয়নি তবে ব্রেকিং এ আনুমানিক ৩৫-৩৭ পেতাম প্রতি লিটারে । আর এখন পাচ্ছি ৪০-৪৪ । যেটা এই বাইকের ক্ষেত্রে অনেক ভালো একটা দিক বলা যায় । সিটিতে মাইলেজ আপ ডাউন করলেও হাইওয়েতে পারফেক্ট মাইলেজ থাকে ।

Yamaha R15 v3 Review – Most Powerful Bike In Bangladesh

বাইকটি নিয়ে আমি বেশ কিছু হাইওয়ে ট্যুর করি । ঢাকা থেকে নড়াইল আমার গ্রামের বাড়িতে প্রায়ই বাইক রাইড করেই যাওয়া হয় । হাইওয়েতে এর পার্ফরমেন্স অসাধারন । স্লিপার ক্লাচ এর গিয়ার শিফটিং ওভারটেকিং এ বেশ ভালো কনফিডেন্স দেয় । খুব স্মুথলি স্পিড উঠে যায় এবং খুব দ্রুত ব্রেক করা যায় ।

yamaha r15 v3 price bd

বাইকটির ইঞ্জিন হচ্ছে ১৫৫ সিসি । ৬ টি গিয়ার । লিকুয়িড কুল ইঞ্জিন । ভিভিএ এবং স্লিপার ক্লাচ এর নতুন টেকনলজি ব্যাবহার করা । অসাধারন লুকস এবং ডিজেইন । খুবি ভালো পার্ফরমেন্স এর একটি বাইক ।

আমি প্রথম থেকেই মতুল ইঞ্জিন অয়েল ব্যবহার করি । প্রথম ১০০০ কিলোমিটার পর্যন্ত 20w40 মিনারেল ইঞ্জিন অয়েল ব্যবহার করেছি । প্রথমে ২৫০ ,৫০০,৮০০ তারপরে ১০০০ এ পরিবর্তন করি । এরপর থেকে এখন পর্যন্ত মতুল ৩০০ভি ফুল সেন্থেটিক 10w40 ব্যবহার করতেছি, যা আমি ২০০০-২২০০ কিমি তে পরিবর্তন করি । আর প্রতিবার ৮৫০ এমএল করে ইঞ্জিন অয়েল দেই । যখন অয়েল ফিল্টার পরিবর্তন করি তখন ৯০০ এমএল অয়েল দেই ।

r15 v3 price

বাইকে এখন পর্যন্ত কোন মডিফাই করিনি । ৫৫০০ কিমি তে ব্রেক প্যাড দুইটা চেঞ্জ করেছি । এছাড়া কিছু চেঞ্জ করিনি । ভালো তেল নেওয়ার চেষ্টা করি । নিয়মিত ইঞ্জিন ওয়েল সঠিক সময়ে চেঞ্জ করি । কুলেন্ট এর রিজার্ভ ট্যাংক টপ আপ করি । বাইকের চাকার সঠিক হাওয়ার প্রেশার রাখি । চেইন সঠিক টাইমে এডজাস্ট করি ।

আমার বাইকের টপ স্পিড এখন পর্যন্ত ১৪৫ গোপালগঞ্জ হাইওয়েতে । ১৩০+ এ বাইকে খুব বেশি ভাইব্রেশন অথবা কন্ট্রলিং এ প্রব্লেম ফিল হয়নি ।

আর কি বা বলবো অনেক কিছুই তো বললাম ,আমার লাইফের ৩য় বাইক এটা আমার নিজের আর ওয়ান ফাইভ সিরিজের ২য় আর ওয়ান ফাইভ ।এটা একটি অসাধারন মেশিন । ক্রিসেন্ট এন্টারপ্রাইজ এসিআই মটরস থেকে খুব ভালো সার্ভিস পাচ্ছি ।

r15 v3 in bd

এটার দাম কিছুটা বেশি কিন্তু কথায় আছে দাম যার বেশি জিনিষ সেটা কিছুটা হলেও ভালো । তাই দাম একটু বেশি হলেও আমার কাছে এটা বাংলাদেশ এর সেরা স্পোর্টস বাইক । যাদের বাজেট বেশি তারা ইনশাআল্লাহ্‌ এই বাইকটি কিনলে বাইকটি কোন দিক থেকে আপনাকে নিরাশ করবেনা । আমি কোন বাইক নিয়ে এই প্রথম রিভিউ দিলাম । ভুল গুলো ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন । ধন্যবাদ ।

লিখেছেনঃ এ আর আবদুল্লাহ

About Arif Raihan opu

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*