Yamaha R15 V3 ৪০,০০০ কিলোমিটার মালিকানা রিভিউ – ফাহিম

আমার নাম কাজী ফাহিম,রাজধানী ঢাকার বেইলী রোড এলাকায় বসবাস করি। আজ আমি আমার ৪০,০০০ কিমি রাইড করা Yamaha R15 V3 (indonesian) বাইকটি নিয়ে কিছু অভিজ্ঞতা শেয়ার করবো।

yamaha r15 v3 at baijid link road

আমার জীবনের প্রথম বাইক কিনেছিলাম ৪ বছর আগে, যেটি ছিল Yamaha Fz-s Fi। ২০১৯ সাল পর্যন্ত এই বাইকটি আমি ২৮,০০০ কিলোমিটার চালিয়েছিলাম। তারপর ভাবলাম একটা স্পোর্টস বাইক কিনবো। ৭ দিন পরে কিনে ফেললাম Yamaha R15 V3 । বাইকটি ক্রিসেন্ট এন্টারপ্রাইজ থেকে  ৫,২৫,০০০ টাকা দিয়ে কিনেছিলাম।

Click To See Yamaha R15 V3 Price In Bangladesh

বাজারে CBR 150R এবং GSX-R 150 থাকতেও আমার R15 পছন্দ করার কারন এর লুকস এবং পাওয়ার। যদিও প্রথম ১৫-২০ দিন চালানোর পর আমার হাতে প্রচুর ব্যাথা হচ্ছিল। কিন্তু আস্তে আস্তে বাইকটার মজা পেতে শুরু করলাম এবং ৩ মাসের মধ্যে Fz-s Fi বিক্রি করে দিলাম।

yamaha r15 v3 bandarban

আমার উচ্চতা ৫ ফুট ৮ ইঞ্চি, এবং আমি মনে করি বাইকটি আমার জন্য পুরোপুরি পারফেক্ট। এই দুই বছরে একবারের জন্যও মনে হয় নি বাইকটি বিক্রি করে দেই। কারন বাইকটার কিছু কিছু বিষয় খুবই ভালো ।

যেমন মাইলেজের কথাটাই বলা যাক। স্পোর্টস বাইকের মাইলেজ অনেক কম কিন্তু R15 এর ক্ষেত্রে এটা পুরোপুরি ভিন্ন। আমার বাইকে আমি সিটিতে ৪৮কিমি/লিটার এবং হাইওয়ে তে ৫৫+ কিমি/লিটার মাইলেজ পাচ্ছি।

 

আমার বাইকের টপ স্পিড ১৫৩কিমি/ঘন্টা পর্যন্ত পেয়েছি ।বাইকটি নিয়ে প্রচুর ট্যুর করার সৌভাগ্য হয়েছে। পার্ফরমেন্সের দিকে থেকে বাইকটি কখনোই আমাকে হতাশ করেনি।

Click To See All Yamaha Bike Price In Bangladesh

 

Yamaha R15 V3 বাইকটির কিছু ভাল দিক সম্পর্কে বলি-

  • এরোডায়নামিক্স এতোই ভাল যে হাই স্পিডে বাইকটা খুবই স্টেবল থাকে।
  • হুইলবেস একটু বড় হওয়ার কারনে কর্নারিং করে অনেক মজা এবং স্টেবিলিটি পাওয়া যায়।
  • সামনে পিছনে ওয়াইড টায়ারের জন্য ব্যালেন্স এবং ব্রেকিং অনেক সুন্দর।
  • মাইলেজ খুব ভালো।

 

Yamaha R15 V3 বাইকটির কিছু খারাপ দিক সম্পর্কে বলি-

  • এই বাইকের সাইজ একটু বড়।
  • শহরে ট্রাফিক জ্যামের মধ্যে মুভ করা একটু সময়সাপেক্ষ।
  • স্পেয়ার পার্টসের দাম আমার কাছে একটু বেশি মনে হয়েছে।
  • সিটিং পজিশন একটু বেশী স্পোর্টি হওয়ায় অল্প সময় রাইড করলেই হাতে,ঘারে এবং কোমরে ব্যাথা হয়।

yamaha r15 v3 bike picture

মেইনটেইনেন্স-

প্রথম ৪০০০ কিলোমিটার পর্যন্ত মিনারেল ইঞ্জিন অয়েল ব্যবহার করেছি। তারপর Motul 300v ব্যবহার করা শুরু করেছি। এখন পর্যন্ত Motul 300v ব্যবহার করছি। প্রতি ২৫০০ কিলোমিটার পর পর আমি ইঞ্জিন অয়েল(300v) এবং অয়েল ফিল্টার পরিবর্তন করি।

Click To See All Bike Price In Bangladesh

৫০০০ কিলোমিটার পর পর ব্রেক প্যাড, ১০,০০০ কিলোমিটার পর পর এয়ার ফিল্টার, রেডিয়েটর কুলেন্ট ইত্যাদি পরিবর্তন করে থাকি।

Yamaha R15 V3 back light

প্রতি ৫০০০ কিলোমিটার পর পর আমি বাইকের মাস্টার সার্ভিস করাচ্ছি এবং কোন ট্যুরে যাওয়ার আগে জেনারেল সার্ভিস করিয়ে নেই। প্রথম ১৮,০০০ কিলোমিটারে আমি টায়ার এবং চেইন সেট পরিবর্তন করি।

 

টায়ার পরিবর্তন করে লাগিয়েছিলাম Michelin Pilot Sporty । ৩৮,০০০ কিলোমিটারে আবার টায়ার পরিবর্তন করে লাগিয়েছি MRF Masseter.

yamaha r15 v3 bike

মডিফিকেশন-

শখের বাইক একটু মডিফাই না করলেই নয়। ছোটবেলা থেকেই আমার সবচেয়ে পছন্দের বাইক Yamaha YZF R1M. দেশে সিসি লিমিটেশনের জন্য এই বাইক চালানোর স্বপ্ন টা স্বপ্নই থেকে গেছে। তবে চেষ্টা করেছি আমার R15 টা কে একটু R1M এর মতো লুক দেওয়ার।

 

আমাদের দেশের এক কারিগরের কাছ থেকে R1M এর মতো হেড বানিয়ে নিয়েছিলাম গ্লাস ফাইবার দিয়ে। তারপর সেটিকে বাইকে বসিয়ে পুরো বাইকে নতুন পেইন্ট করা হলো। নতুন গ্রাফিক্স করা হলো। গ্রাফিক্সের কনসেপ্ট ছিল BumbleBee । এখন বাইকটাকে দেখতে কিছুটা হলেও R1M এর মতো দেখায়। এছারাও কিছু আফটারমার্কেট এক্সেসরিজ লাগানো হয়েছে।

 

এই বাইকটার ভাল দিক গুলো এনজয় করছি এবং খারাপ দিক গুলোর সাথে মানিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছি। কারন কোন বাইকই স্বয়ং সম্পুর্ণ নয়। কিছু না কিছু খারাপ দিক প্রত্যেকটা বাইকেরই থাকে। ওভারঅল এই বাইকটাকে আমি রেটিং দিব ৮.৫/১০।

yamaha r15 v3

যারা Yamaha R15 V3 কিনবেন বলে ভাবছেন, তাদের প্রতি আমার পরামর্শ-

অনেকেই অনেক কথা বলবে যে R15 এ হাত অনেক ব্যাথা করে, মাইলেজ অনেক কম, পার্টসের দাম অনেক বেশী, ইত্যাদি।  আপনার পছন্দের বাইক যদি হয় R15 v3 তাহলে এসব দিকে কান না দিয়ে নিশ্চিন্তে কিনতে পারেন বাইকটি।

 

প্রপার মেইনটেইনেন্স করলে বাইকটি আপনাকে অবিশ্বাস্য পার্ফরমেন্স দিবে। যখনই মেইনটেইনেন্সে ঘাটতি পড়বে তখনই বাইকটা আপনাকে অনেক ধরনের ভোগান্তি দিবে। ধন্যবাদ ।

 

 

লিখেছেনঃ কাজী ফাহিম

 

আপনিও আমাদেরকে আপনার বাইকের মালিকানা রিভিউ পাঠাতে পারেন। আমাদের ব্লগের মাধ্যেম আপনার বাইকের সাথে আপনার অভিজ্ঞতা সকলের সাথে শেয়ার করুন! আপনি বাংলা বা ইংরেজি, যেকোন ভাষাতেই আপনার বাইকের মালিকানা রিভিউ লিখতে পারবেন। মালিকানা রিভিউ কিভাবে লিখবেন তা জানার জন্য এখানে ক্লিক করুন এবং তারপরে আপনার বাইকের মালিকানা রিভিউ পাঠিয়ে দিন articles.bikebd@gmail.com – এই ইমেইল এড্রেসে।

We will be happy to hear your thoughts

      Leave a reply

      BikeBD
      Logo