Suzuki Gixxer Dual Tone Double Disc মালিকানা রিভিউ – মাহমুদুল হাসান

আমি মাহমুদুল হাসান। নিজের নিত্য দিনের প্রয়োজনের তাগিদে এবং ঘুরাঘুরির স্বপ্নগুলো পূরণ করতে আমি বাইক ব্যবহার করে থাকি। একেক জনের কাছে একেক বাইক পছন্দের, মানুষ একটি বাইক কিনে নানা দিক বিবেচনা করে, আর আমার কাছে যে কোন বাইকের রেডিপিকাপ এবং আউটলুক্স বেশি গুরুত্ব পায় । আর সেজন্য এই আমি এখন রাইড করছি Suzuki Gixxer Dual Tone Double Disc

Suzuki Gixxer Dual Tone Double Disc

আমার বাইক রাইডিং শুরু হয়েছিলো Honda 80 cc দিয়ে। এরপর গত বছরের শেষের দিকে হাতে পেলাম জিক্সার ১৫৫ সিসি এর ডুয়েল ডিস্ক । আমার পছন্দের রঙ খয়েরি তাই বাইকটি নিয়েছি খয়েরি রঙের।  এতে সিলভার রংয়ের মিশ্রণ আছে । প্রায় ২০০০+ কিলো চালিয়ে আজ আপনাদের কাছে বাইকটার ইউজার রিভিউ নিয়ে এলাম । এই ২০০০+ কি.মি এর মধ্যে ছিলো বেশ কিছু হাইওয়ে রাইড এবং সিটি রাইড । আজ আমি আমার রিভিউতে বাইকটির ভালো এবং খারাপ দিক তুলে ধরবো।

কালারঃ

Suzuki Gixxer Dual Tone ১৫৫ বাইটি লাল, নীল আর কালো,সাদা-নীল,খয়েরী-সিলভার ,এই কয়েকটি কালারের পাওয়া যায়। আমার পছন্দের রঙ যেহেতু খয়েরি তাই আমি খয়েরি রঙের বাইকটি বেছে নিয়েছি

Suzuki Gixxer SF FI First Impression Review!

ডিজাইনঃ

Suzuki Gixxer Double Disc কালারের ব্যাপারটা ছাড়া বাইকের ডিজাইন আমার কাছে এক কথায় অসাধারন লেগেছে। অন্যান্য বাইক থেকে সম্পুর্ন ব্যতিক্রম এই বাইকের ডিজাইন । উচুঁ ফুয়েল ট্যাংক বাইকটিকে নতুন একটি লুকস প্রদান করেছে। বাইকটির ডিজাইনগত কারনে বাইকটি খুব সহজে যে কারো মনে জায়গা করে নিবে। আর এই বাইকটি আকারের জন্য সিটিতে রাইড করে দারুন মজা। তবে অনেকের কাছে উচু তেলের ট্যাংক খুব বেশি ভালো নাও লাগতে পারে। বাইকটিতে ব্যবহার করা হয়েছে পাইপ হ্যান্ডেলবার, যা আমার কাছে খুব আরামদায়ক মনে হয়েছে। এর ফলে আমি সিটি এবং হাইওয়ে রাইডে দারুণ কম্ফোর্ট ফিল করি।

Suzuki Gixxer Double Disc

ব্রেকিংঃ

জিক্সার বাইকের ব্রেকিং আমার কাছে অসাধারন লেগেছে। বিশেষ করে জিক্সার এর পেছনের ডিস্ক ব্রেকটি এক কথায় অসাধারণ। চাকা প্রসস্থ হওয়ায় পিছের ব্রেকটি যে কোন পরিস্থিতিতেই অসাধারণ সাপোর্ট দিয়েছে আমাকে। জিক্সারের সামনের ডিস্ক ব্রেক টি ও আমার কাছে অসাধারন লেগেছে। দুটি ব্রেক একসাথে প্রেস করলে ভালো ফল পাওয়া যায়। বাইকের গতির সাথে তাল মিলিয়ে এর সমনের ব্রেক টি ভালো পারফর্ম করে।

ফিচারঃ

বাইকটিতে ব্যবহৃত মিটার খুবই আকর্ষণীয়। ইন্ডিকেটর লাইট,আরপিএম সিগন্যাল,ফুয়েল ইন্ডিকেটরসহ আরো কিছু ফিচার এতে দেওয়া আছে। বিশেষ করে যারা নতুন বাইকার তাদের অনেক সময় গতির সাথে গিয়ারের সাদৃশ্য রাখতে হিমশিম খেতে হয়। কিন্তু জিক্সারের মিটারে গিয়ার শো করার কারনে আমার মনে হয় এটি নতুন চালকদের জন্য গিয়ার শিফটিং এর জন্য ঝামেলামুক্ত থাকে এবং অত্যন্ত নির্ভরতার সাথে রাইডিং করতে পারে। সব মিলিয়ে এর ফিচারগুলো আমাকে স্পোর্টস বাইকের সম্পূর্ণ ফিল দেয়।

মাইলেজঃ

Gixxer 155 dual disk বাইকটির রেডি পিকাপের পাশাপাশি আমি মাইলেজটাও বেশ ভালো পেয়েছি। শুধুমাত্র সিটিতেই আমি ৪০ এবং হাইওয়েতে ৪৬ পেয়েছি।

Gixxer 155 dual disk

স্পীডঃ

বাইকের গতিটা আমি খুব পছন্দ করি,আর সেই দিক থেকে আমি খুব সন্তুষ্ট। বাইকটির রেডি পিকাপ অসাধারণ, যা সিটি এবং হাইওয়ে রাইডে আমাকে অন্যরকম আত্নবিশ্বাসী করে তোলে। মাত্র ১৩ সেকেন্ডে খুব স্মুথলি ০-১০০ উঠাতে পেরেছি এটা আমার কাছে অসাধারণ লেগেছে।আবার ০-৬০ উঠেছে ৪ সেকেন্ডে। আমি সর্বদা নিরাপদ রাইডিং এর পক্ষে। তাই আমি এখন পর্যন্ত গাড়ীটির টপ স্পীড জানার চেষ্টা করি নি।

Suzuki Gixxer Double Disc

সিটিং পজিশনঃ

বাইকটির সিট কিছুটা খাটো এবং চওড়া,যার ফলে রাইডিং এর সময়ে অন্য রকম কম্ফোর্ট পাওয়া যায়। পিলিয়ন সিটটি বেশ চওড়া হওয়ার খুব সহজেই যে কোন স্বাস্থের মানুষ এতে রিলাক্সে বসতে পারবে। তবে যাদের হাইট একটু কম তাদের জন্য চওড়া সিট সমস্যার কারন হয়ে দাঁড়ায়।

তবে যদি বাজেট স্পীড এবং অন্য সব দিক বিবেচনা করা হয় তাহলে এটা অবশ্যই সেরা একটি বাইক। আমি আমার  Suzuki Gixxer Double Disc  বাইকটির পারফর্মেন্স নিয়ে অনেক হ্যাপি । আপনি যদি এই বাজেটে লুকস, ডিজাইন ও স্টাইলিশ বাইক কিনতে চান তবে জিক্সার বাইকটি আপনার প্রথম পছন্দ হতে পারে এবং নিশ্চিন্তে বাইকটি নিতে পারেন ।

ধন্যবাদ সবাইকে ।

লিখেছেনঃ মাহমুদুল হাসান

About Ashik Mahmud

ashik.bikebd@gmail.com'

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*