Electric Motorcycle | কেন বাংলাদেশে জনপ্রিয় নয় ?

পৃথিবীর পরিবর্তিত শক্তির দিকে ধাবিত হচ্ছে - যার কারনে ইলেক্ট্রিক যানবাহন দিন দিন অনেক দেশেই জনপ্রিয় হচ্ছে । অন্যান্য ইলেক্ট্রিক যানবাহনের মত, ইলেক্ট্রিক মোটরসাইকেলও মোটরসাইকেল মার্কেট এর ক্ষেত্রে অনেক পরিবর্তন নিয়ে এসেছে । তবে বাংলাদেশের ক্ষেত্রে ইলেক্ট্রিক মোটরসাইকেল এর বিষয়টি একটু ভিন্ন, আজ আমরা বাংলাদেশে Electric Motorcycle এর প্রেক্ষাপট নিয়ে আলোচনা করব । Electric Motorcycle পুরো বিশ্ব জুড়েই জনপ্রিয়, এমনকি বাংলাদেশেও এর জনপ্রিয়তা রয়েছে । তবে বেশির ভাগ Electric Motorcycle গুলো হচ্ছে স্কুটার টাইপের, কিছু কিছু মডেল রয়েছে যেগুলো থ্রি হুইলার টাইপের । সেদিক থেকে যদি বলা হয়, তাহলে বাংলাদেশে খুব কম সংখ্যক Electric Motorcycle রয়েছে যাদের একদম পুরোপুরি ইলেক্ট্রিক…

Review Overview

User Rating: 4.9 ( 2 votes)

পৃথিবীর পরিবর্তিত শক্তির দিকে ধাবিত হচ্ছে – যার কারনে ইলেক্ট্রিক যানবাহন দিন দিন অনেক দেশেই জনপ্রিয় হচ্ছে । অন্যান্য ইলেক্ট্রিক যানবাহনের মত, ইলেক্ট্রিক মোটরসাইকেলও মোটরসাইকেল মার্কেট এর ক্ষেত্রে অনেক পরিবর্তন নিয়ে এসেছে । তবে বাংলাদেশের ক্ষেত্রে ইলেক্ট্রিক মোটরসাইকেল এর বিষয়টি একটু ভিন্ন, আজ আমরা বাংলাদেশে Electric Motorcycle এর প্রেক্ষাপট নিয়ে আলোচনা করব ।

electric motorcycles

Electric Motorcycle পুরো বিশ্ব জুড়েই জনপ্রিয়, এমনকি বাংলাদেশেও এর জনপ্রিয়তা রয়েছে । তবে বেশির ভাগ Electric Motorcycle গুলো হচ্ছে স্কুটার টাইপের, কিছু কিছু মডেল রয়েছে যেগুলো থ্রি হুইলার টাইপের । সেদিক থেকে যদি বলা হয়, তাহলে বাংলাদেশে খুব কম সংখ্যক Electric Motorcycle রয়েছে যাদের একদম পুরোপুরি ইলেক্ট্রিক মোটরসাইকেল বলা যায় । সেসব মডেলের সংখ্যা এত ই কম যে সেটাকে কোন সংখ্যার মাঝে ধরা নাও যেতে পারে । কিন্তু ইলেক্ট্রিক মোটরসাইকেল পছন্দ না করার পিছনেও অনেক গুলো কারন রয়েছে ।

ইলেক্ট্রিক মোটরসাইকেল – রেঞ্জ

সব দিক থেকে বিবেচনা করলে এটাকে মিথ মনে হতে পারে, তবে বাংলাদেশের ক্ষেত্রে এটি সত্য । বাংলাদেশের মার্কেটে যেসব ইলেক্ট্রিক স্কুটার পাওয়া যায় সেসব কোম্পানি দাবী করে থাকে যে তারা সারা দিন এবং দীর্ঘ সময় কমিউটিং এর জন্য প্রযোজ্য হবে । তবে বাস্তবতা হচ্ছে এমন কিছুই তারা এখন পর্যন্ত দিতে পারেনি । এছাড়া বাংলাদেশের রাস্তা গুলো স্মুথ না হওয়াতে, এর দীর্ঘস্থায়ীত্ব অনেক কম হয় । যদিও শহরের মধ্যে তাদের একটা দীর্ঘ সময় কমিউটিং এর নিশ্চয়তা দিয়ে থাকে । তবে বাংলাদেশে সর্বোচ্চ ৫০ – ৭০ কিমি পর্যন্ত চলতে পারে ।

ইলেক্ট্রিক মোটরসাইকেল – দাম

এটি একটি ভাল কারন, যার জন্য মানুষ ইলেক্ট্রিক মোটরসাইকেল পছন্দ করে না । এই বাইকের দাম খুব বেশি না হলেও পেট্রল বাইকের দামের সম পর্যায়ে বা কাছাকাছি । যদি কিছু কিছু মডেল রয়েছে যার দাম খুবই সস্তা । তবে সেক্ষেত্রে দিন শেষে ব্যাকআপ হিসেবে রেঞ্জ, দীর্ঘস্থায়ীত্ব, সার্ভিস এবং সব দিক থেকে লস ই হবে ।

electric motorcycle engine

ইলেক্ট্রিক মোটরসাইকেল – চার্জিং

অন্যান্য ইলেক্ট্রনিকস ডিভাইসের মত, ইলেক্ট্রিক টু-হুইলার ও প্রতিনিয়ত চার্জ দিতে হয় । আর সমস্যাটা এখানে শুরু হয় । আমাদের দেশে যে সমস্ত ইলেক্ট্রিক মোটরসাইকেল রয়েছে পুরোপুরি চার্জ করার জন্য তাদের অনেক দীর্ঘ সময় ধরে চার্জ দিতে হয় । যদিও আপনার চার্জ অনেক বেশি দেখাবে, তারপরও আপনি ভাল রেঞ্জ কাভার পাবেন না ।

বেশির ভাগ সময় এই বাইক সারারাত চার্জ দিতে হয় ব্যাটারির ক্যাপাসিটি অনুযায়ী, না হলে ব্যাটারি পুরোপুরি ভাল ফিডব্যাক দেয় না । আর ব্যবহার করার সময় চার্জের সময় ও বাড়তে থাকে, যখন বাইকটি পুরাতন হতে থাকে ।

ইলেক্ট্রিক মোটরসাইকেল – ব্যাটারি

এই সমস্যাটি সবচেয়ে বড় সমস্যা ইলেক্ট্রিক মোটরসাইকেল বা স্কুটারের ক্ষেত্রে, বিশেষ ভাবে বাংলাদেশে । বাংলাদেশের বাজারে যেসমস্ত বাইক পাওয়া যাচ্ছে তাদের বেশির ভাগ খুব সস্তায় তৈরি করা হয় । যদিও কিছু কিছু বাইকের চেসিস এবং মোটর ভাল মানের হয়, তবে ব্যাটারি ততটা ভাল মানের হয় না । সর্বোচ্চ এক বা দুই বছর ব্যাটারি ব্যবহার উপযোগী থাকে ।  আর সে কারনেই ব্যাটারির ওয়ার গুলো তারা নষ্ট হয়ে যায়, যার কারনে বাইকারের অন্য কোন অপশন থাকে না ব্যাটারি রিপ্লেস করা ছাড়া । এটি বাইকারের জন্য এক বড় ধরনের ক্ষতি । আর্থিক ক্ষতির সাথে সাথে বাইকারের জন্য একটা ঝামেলার বিষয় ও বটে ।

harley davidson

ইলেক্ট্রিক মোটরসাইকেল – রেজিস্ট্রেশন

এটাই সম্ভবত সবচেয়ে বড় এবং গুরুত্বপূর্ন কারন, যেখানে কোন বৈধতা না থাকার কারনে কেউ ভাল ও উন্নত মানের ইলেক্ট্রিক মোটরসাইকেল বাংলাদেশে আমদানী করে না । ইলেক্ট্রিক বাইকের ক্ষেত্রে বিআরটিএ থেকে কোন বৈধতা না থাকার কারনে বাংলাদেশের রাস্তায় বৈধ ভাবে চলার অনুমতি নেই । তাই মাঝে মাঝেই বৈধ কাগজপত্র না থাকার দরুন অনেক ইলেক্ট্রিক মোটরসাইকেল রাস্তা থেকে সরাসরি ডাম্পিং এ দিয়ে দেয়া হয় । আর এটাও অন্যতম কারন, ইলেক্ট্রিক মোটরসাইকেল না কেনার কারন ।

ইলেক্ট্রিক মোটরসাইকেল – এক্স ফ্যাক্টর

যদিও ইলেক্ট্রিক মোটরসাইকেল রাইড করা সহজ, তবে সব সময় একটি কিছু মিসিং থেকেই যাচ্ছে । বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে কিছু একটা মিসিং থেকে যাচ্ছে যা ইলেক্ট্রিক মোটরসাইকেল দিতে পারে না । একটি বাইকের অনুভূতি এবং রাইডের যেই অনুভূতি সেটা কখনই একটা ইলেক্ট্রিক বাইক দিতে পারে না । অজানা কে জানার যেই অনুভূতি সেটা ইলেক্ট্রিক বাইক তা দিতে পারে না, এছাড়া ইঞ্জিনের পাওয়ার ও পারফর্মেন্স দুটোই অনুভব করা যায় না ।

দিন শেষে ফুয়েল রিসোর্স হচ্ছে সীমিত এবং ইলেক্টিক বা অন্য শক্তির যানবাহন হচ্ছে সমাধান । অন্যান্য দেশ গুলোতে কিছু ভাল এবং উন্নত মানের Electric Motorcycle রয়েছে । যাদের মধ্যে জিরো মোটরসাইকেল, ইনারজিকা, ব্রুটাস সহ অনেক । আশা করা যাচ্ছে বাংলাদেশের আমদানীকারকরা কিছু ভাল ও উন্নত মানের ইলেক্ট্রিক মোটরসাইকেল খুব শীঘ্রই বাংলাদেশে আমদানী করবে ।

 

<<ইংরেজিতে পড়তে এখানে ক্লিক করুন>>

About Arif Raihan opu

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*