Benelli TNT 150 ১৩,০০০ কিলোমিটার রাইড রিভিউ – হৃদয়

আমার নাম হৃদয়। বর্তমানে পুরান ঢাকার নারিন্দা শহরে বাস করছি। Benelli TNT 150 আমার ২য় বাইক। আমার প্রথম বাইকটি ছিল Yamaha FZ 150i (Indonesia) যা আমি ২০১৬ সালে প্রায় ২৩,০০০ কিলোমিটার চালিয়েছি। তবে আজ আমি আপনাদের সাথে Benelli TNT 150 বাইকটি নিয়ে আমার অভিজ্ঞতা শেয়ার করব।

benelli tnt 150 user review

আলহামদুলিল্লাহ, আমি আমার বাইক Benelli TNT 150 এর সাথে প্রায় কোনও বড় সমস্যার মুখোমুখি না হয়ে প্রায় ১.৫ বছর কাটিয়েছি এবং আমি আমার অভিজ্ঞতাটি সবার সাথে ভাগ করে নিতে চাই।

কেন আমি Benelli TNT 150 বেছে নিই?

Benelli হল ১০০ বছরের বেশি সময় ধরে ইতালির প্রাচীনতম মোটরসাইকেল উৎপাদনকরি সংস্থা। যেহেতু আমি ইউরোপ এবং এশিয়াতে থেকেছি ও ভ্রমণ করেছি আমি অনুভব করেছি। Benelli ইউরোপ, আমেরিকা এবং এখন এশিয়াতেও বেশ জনপ্রিয়। আমি যখন বাংলাদেশে প্রথম Benelli দেখলাম আমি তখনই বাইকটি দেখতে গেলাম। আমি Benelli দীর্ঘদিন ধরে চিনতাম কারণ তারা সর্বদা উচ্চতর সিসি বাইক তৈরি করে।

আমি Benelli TNT 150 খুব বেশি পছন্দ করি। সবার আগে এটির জন্য আশ্চর্যজনক বিল্ট কোয়ালিটি। তারা এই বাইকে কোনও সস্তা মানের অংশ ব্যবহার করে নি যা সত্যিই আমার চোখে পড়ে।

benelli tnt 150 price in bangladesh

দ্বিতীয়ত প্রাইস সেগমেন্টে এটি বাংলাদেশ এর অন্যতম সেরা বাইক বলে আমি বিশ্বাস করি। Benelli TNT 150 সিবিএস ব্রেকিংয়ের বাইক। এটি রাস্তায় ভাঙ্গার ক্ষেত্রে অনেক আত্মবিশ্বাস দেয়। আমি এর ব্রেকিং কে Suzuki Gixxer এবং Yamaha FZ এর থেকে ভাল মনে করি।

দামঃ

আমার কাছে এই বাইকটির দাম সাধ্যের মধ্যে মনে হয়েছে। Benelli TNT 150 বাইকটি ২ বছর রেজিস্ট্রেশন সহ ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা। আমি এই বাইকটি মহাখালীর স্পিডোজ লিমিটেড থেকে কিনেছি। তবে বর্তমানে Benelli বাইকের মালিকানা বাংলাদেশে নাভানা গ্রুপের।

Benelli TNT 150 Price In Bangladesh

প্রথম অনুভূতিঃ

আমি যখন প্রথম বাইকে চড়লাম তখন অনুভব করলাম কিছুটা রেডি পিকাপ এর অভাব। তবে আমি ইঞ্জিনের ৩-৪ গিয়ারের রেস্পন্স বেশ পছন্দ করি এবং এটি খুব স্মুথ। বেনেল্লির ইঞ্জিনটি খুব পাওয়ারফুল।

tnt 150 review

সময় পার হওয়ার সাথে সাথে বাইকের মসৃণ ইঞ্জিন, ব্রেকিং, কন্ট্রোলিং এবং গুনগতমানের জন্য আমি আরও বেশি প্রেমে পড়েছি। আমি এই বাইক পছন্দ করি এবং আমি ইনশাআল্লাহ এই বাইকটি চালিয়ে যাব. কারণ এটি আমাকে রাস্তায় অনেক আনন্দ এবং আত্মবিশ্বাস দেয়।

আমি এখন পর্যন্ত যে জিনিসগুলি পরিবর্তন করেছিঃ

আমি একবার ব্রেক প্যাড (পিছন এবং সামনে) পরিবর্তন করেছি। তিনবার এয়ার ফিল্টার এবং এক বার স্পার্ক প্লাগ পরিবর্তন করা হয়েছে। COVID-19 লকডাউনের কারণে ব্যাটারি ১ বার। ১৩,০০০ কিলোমিটার যাত্রায় আমি এখন পর্যন্ত এই জিনিস গুলো পরিবর্তন করেছি।

সার্ভিসঃ

একজন বাইক প্রেমিক হিসাবে আমি সবসময় আমার বাইকের যত্ন নিই। আমি সর্বদা মহাখালীর বেনেল্লির সার্ভিস সেন্টার থেকে সার্ভিস গুলো সময় মতো নিয়েছি। আমি এখন পর্যন্ত মোট ৫টি সার্ভিস নিয়েছি।

মাইলেজঃ

আমি ঢাকা শহরে ৪০ কিলোমিটার প্রতি লিটার মাইলেজ পেতাম। তৃতীয় সার্ভিস এরপরে, কিছু ভুল হয়ে গেছে এবং আমার মাইলেজটি ৩২ কিলোমিটার প্রতি লিটার এ চলে এসেছে। তবে ৫ম সার্ভিস এরপরে মাইলেজ আবার বেড়ে গেল। এখন আমি প্রায় ৫০ কিলোমিটার প্রতি লিটার মাইলেজ পাচ্ছি।

benelli user

Benelli Bike Price In Bangladesh

মেইনটেনেন্সঃ

আমি আমার বাইকের যত্ন নিই। আমি সর্বদা কোম্পানির রিকমেন্ড গ্রেড এর ইঞ্জিন অয়েল ব্যবহার করি যা আমি বাইকের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বলে বিশ্বাস করি। আমি সবসময় সময় মতো ইঞ্জিন অয়েল পরিবর্তন করি।

আমি সবসময় বাইকের চেইনটি পরীক্ষা করে পরিষ্কার করি এবং গিয়ার অয়েল ব্যবহার করি। আমি সময়মতো সার্ভিস করাই। আমি আরও ভাল মাইলেজের জন্য টায়ার প্রেসার এবং এয়ার ফিল্টারটি সবসময় পরিস্কার রাখি।

ইঞ্জিন অয়েলঃ

আমি এখনও অবধি কয়েকটি ব্র্যান্ডের ইঞ্জিন অয়েল ট্রাই করেছি । এর মধ্যে এখন পর্যন্ত সেরা মনে হয়েছে পেট্রোনাস । এটি আমার ইঞ্জিনকে অনেক স্মুথ রাখে। আমি 10w40 ফুল সিনথেটিক ইঞ্জিন অয়েল ব্যবহার করি।

মডিফিকেশনঃ

আমি ঢাকা শহরে ট্র্যাফিকের কারণে আরও ভাল রেডি পিক আপের জন্য সামনের স্প্রোকেটটি 13t থেকে 14t পরিবর্তন করেছি। রাতে আরও ভাল দেখার জন্য আমি স্টক হেডলাইটকে একটি এলইডি হেডলাইটে পরিবর্তন করেছি।

bike price in bd

টপ স্পিডঃ

যদিও আমার টপ স্পিডের প্রতি আগ্রহ কম। তাও আমি একবার বা দু’বার চেষ্টা করেছি। আমি এখন পর্যন্ত যে টপ স্পিড পেয়েছি তা ১২২ কিলোমিটার প্রতি ঘন্টা। এটা সম্প্রতি আমি ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে চেক করেছি।

বাইকের কিছু ভাল দিকঃ

  • বিল্ড কোয়ালিটি সত্যই ভাল
  • নিয়ন্ত্রণ এবং কর্নারিং এর ক্ষমতা
  • ব্রেকিং ভাল
  • মাইলেজ দারুন
  • ভাইব্রেশন ছাড়া সুপার স্মুথ ইঞ্জিন
  • খুব ভাল সিটং পজিশন। ভ্রমণ এবং হাইওয়ে যাত্রায় উপযুক্ত ।

বাইকের কিছু খারাপ দিকঃ

  • রেডি পিক কম
  • রিয়ার সাসপেনশন এতটা ভাল নয়
  • অন্যান্য স্পোর্টস বাইকের মতোই পিলিয়ন সিট দীর্ঘ সফরের জন্য খুব আরামদায়ক নয়
  • স্টক হেডলাইট খুব পাওয়ারফুল নয়
  • কোন কিক স্টার্ট নেই

bike tour

দীর্ঘ ভ্রমণ অভিজ্ঞতাঃ

সম্প্রতি, আমি ঢাকা-টাঙ্গাইল থেকে একদিনে প্রায় ৩২৫ কিলোমিটার ভ্রমণ করেছি। আমি দেখতেছিলাম যে এই বাইকটি কীভাবে হাইওয়েতে তার ভারসাম্য এবং নিয়ন্ত্রণ রেখে চলে। এটি একটি দুর্দান্ত ভ্রমণ ছিল। TNT 150 একটি পারফেক্ট হাইওয়ে মেশিন।

মতামতঃ

আমি বাংলাদেশ এ এই সেগমেন্ট এর অনেক বাইক চালিয়েছি, তবে এই বাইকটি আমার সব থেকে বেশি ভালো লেগেছে। আমি কেবল আমার Benelli TNT 150 বাইকটি চালাতে পছন্দ করি। আমার মনে হয় না আমি Benelli TNT 150 এর মত কনফিডেন্স অন্য কোন বাইকে পাবো।  এই বাইক আমার ভালোবাসা। রিভিউটি পড়ার জন্য ধন্যবাদ।

 

লিখেছেনঃ হৃদয়

 

আপনিও আমাদেরকে আপনার বাইকের মালিকানা রিভিউ পাঠাতে পারেন। আমাদের ব্লগের মাধ্যেম আপনার বাইকের সাথে আপনার অভিজ্ঞতা সকলের সাথে শেয়ার করুন! আপনি বাংলা বা ইংরেজি, যেকোন ভাষাতেই আপনার বাইকের মালিকানা রিভিউ লিখতে পারবেন। মালিকানা রিভিউ কিভাবে লিখবেন তা জানার জন্য এখানে ক্লিক করুন এবং তারপরে আপনার বাইকের মালিকানা রিভিউ পাঠিয়ে দিন articles.bikebd@gmail.com – এই ইমেইল এড্রেসে।

About Arif Raihan opu

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*