হোন্ডা সিবিআর১৫০আর মালিকানা রিভিউ – ক্যাসপার রিচার্ড রয়

আমি ক্যাসপার রিচার্ড রয়। আমি থাকি মিরপুরে । বাইকের প্রতি আগ্রহ সবসময় ছিলো, কিন্তু পড়াশোনা অবস্থায় বাইক কেনাটা যৌক্তিক মনে করেনি আর পরিবার থেকে টাকা নেয়ার ইচ্ছা ছিলো না। বাইক কিনবো নিজের অর্জিত টাকায় এবং ২০১৫সালের নভেম্বরে ঠিক তাই করলাম। বর্তমানে আমি হোন্ডা সিবিআর১৫০আর (ইন্দো) বাইকটি চালাচ্ছি। গতি আমাকে সবসময় আকৃষ্ট করতো, আর সবসময় মনে হতো নিজের একটা বাহন থাকা মানে সর্বোচ্চ স্বাধীনতা। আমি ভালো সাইকেল চালাই, কিন্তু বাইক কখনো চালাইনি, এমনকি বন্ধুদের কাছ থেকেও না, কারন আমি জেনেছি, একজন বাইকার কখনোই চায়না সে ছাড়া অন্য কেউ সেটা চালাক, সুতরাং শিখতে হলেও নিজের কেনা বাইক-ই চালানো উচিত। এই ভেবে, অনেক…

Review Overview

User Rating: 3.78 ( 4 votes)

আমি ক্যাসপার রিচার্ড রয়। আমি থাকি মিরপুরে । বাইকের প্রতি আগ্রহ সবসময় ছিলো, কিন্তু পড়াশোনা অবস্থায় বাইক কেনাটা যৌক্তিক মনে করেনি আর পরিবার থেকে টাকা নেয়ার ইচ্ছা ছিলো না। বাইক কিনবো নিজের অর্জিত টাকায় এবং ২০১৫সালের নভেম্বরে ঠিক তাই করলাম। বর্তমানে আমি হোন্ডা সিবিআর১৫০আর (ইন্দো) বাইকটি চালাচ্ছি।

হোন্ডা সিবিআর১৫০আর ইন্দো honda cbr150r indo

গতি আমাকে সবসময় আকৃষ্ট করতো, আর সবসময় মনে হতো নিজের একটা বাহন থাকা মানে সর্বোচ্চ স্বাধীনতা। আমি ভালো সাইকেল চালাই, কিন্তু বাইক কখনো চালাইনি, এমনকি বন্ধুদের কাছ থেকেও না, কারন আমি জেনেছি, একজন বাইকার কখনোই চায়না সে ছাড়া অন্য কেউ সেটা চালাক, সুতরাং শিখতে হলেও নিজের কেনা বাইক-ই চালানো উচিত। এই ভেবে, অনেক গবেষণার পর, অভিজ্ঞদের সাথে কথা বলে সিদ্ধান্ত নিলাম ইয়ামাহা ফেজার নেয়ার।

কারন সমূহঃ ১। ব্যালেন্স ২। কন্ট্রোল ৩। মাইলেজ ৪। এপিয়ারেন্স

বাইক কিনতে যাওয়ার অভিজ্ঞতাটা অনেক মধুর ছিলো। অফিস শেষে আমার এক অভিজ্ঞ বন্ধু-কলিগকে নিয়ে বাংলামটর রওনা হলাম। সন্ধ্যা ৭টায় অনেক জ্যাম ঠেলে গেলাম ইউনিভার্সাল মটর্সে। যেহেতু আগে থেকেই ঠিক করে রেখেছিলাম Fazer কিনবো তাই খুব বেশী সময় লাগলো না।

honda cbr150r price in bangladesh

কিনলাম ইয়ামাহা ফেজার ২০১৬ ভার্সন। রং ছিল ব্ল্যাক ও সিলভার।  বাইক কেনা শেষ, এখন বাসায় ফেরার পালা, কিন্তু আমিতো বাইক চালাতে পারিনা। একদিকে নতুন বাইক কিনে ফেলার আনন্দ আর অন্যদিকে না চালাতে পারার কষ্ট। তাই নতুন বাইকের চাবিটা বন্ধুর হাতে দিয়ে বললাম বাসায় পোঁছে দিতে। আর নতুন বাইকের পিছনে বসে বাসায় ফিরলাম।

যেহেতু বাইকের কাগজ এবং লাইসেন্স পেতে ১-২ মাস লাগবে; সেক্ষেত্রে মেইন রোডে যাওয়ার আগে ভালো ভাবে শেখার কিছু সময় পাওয়া গেলো। প্রতিদিন সকাল ৬টায় উঠে বের হয়ে যেতাম খালি রাস্তায় চালানো জন্য। এভাবে ৫-৬দিন পর কিছুটা ব্যস্ত রাস্তায় যাওয়া শুরু করলাম, এবং ১৫দিনের মধ্যে বাইকে বেশ কন্ট্রোল চলে আসলো। এখনো পর্যন্ত, যখনি বাইকে বসি নিজেকে স্বাধীন মনে হয়।

honda cbr price

১৪মাসে ১৫,৩০০কিলো চালানোর পর ২০১৬এর ফেব্রুয়ারী তে ইয়ামাহা ফেজার বিক্রি করে নিলাম হোন্ডা সিবিআর১৫০আর , রেড রেসিং ২০১৬ ভার্সন। বাইকটা কেনার আগে থেকে এর এগ্রেসিভ লুকের প্রতি ফিদা ছিলাম যা এখন আরো বেশী এর কন্ট্রোলিং-এর জন্য। বাজারে যতো বাইক আছে, সিবিআর১৫০আর ইন্দো ২০১৬ এর এই ভার্সনের লুক এখনো আনবিটেবল।

হোন্ডা সিবিআর১৫০আর – ফিচার

হোন্ডা সিবিআর১৫০আর এর ফিচার নিয়ে কথা বলতে গেলে সিবিআর১৫০আর একটি ট্র্যাক বাইক।  তারপরেও রেসিং লুক ছাড়াও এই বাইকটিতে আছে শক্তিশালী ইঞ্জিন (১৭.১ বিএইচপি; ১৪.৪টর্ক), চমতকার ব্যালেন্স, এরোডায়নামিক ডিজাইন, ফুল ডিজিটাল স্পিডোমিটার এবং গিয়ার ইন্ডিকেটর, টুইন এলইডি হেডলাইট এবং টেল লাইট।

>> হোন্ডা সিবিআর১৫০আর (ইন্দো) টেস্ট রাইড রিভিউ << 

এখনো পর্যন্ত ইঞ্জিনে কোন প্রকার ভাইব্রেশন পায়নি। বাইকটির ওজন ১৩৫ কেজি এবং তেল ধারণক্ষমতা ১২ লিটার। এটির সামনে ১০০/৮০- ১৭ এবং পিছনে ১৩০/৭০- ১৭ সাইজের টায়ার ব্যবহার করা হয়েছে।

honda cbr speedometer

হোন্ডা সিবিআর১৫০আর – যত্ন

প্রথম বাইক হিসাবে ফেজারের এর উপর অনেক অত্যাচার করেছি। তখন বাইকের ক্ষতিগুলো সম্পর্কে আইডিয়া হয়েছিলো, তাই CBR150r (indo) কেনার পর এর প্রতি যত্ন অনেকটা বেশী ছিলো। ২৫০০কিলো পর্যন্ত কখনো বাইকের আরপিএম ৫,০০০ এবং স্পিড ৬০কিমি এর উপর যায়নি। ব্রেক ইন পিরিয়ডে টপস্পিডের চেষ্টাও করিনি।

যতটা সম্ভব হয়েছে বাইকটাকে যত্নের সাথে চালিয়েছি। শুরু থেকেই মটুল 7100 10w40 100% সিন্থেটিক ব্যবহার করেছি। প্রতি ২০০০-২২০০কিলো পরপর মবিল চেঞ্জ করেছি। আর এখন মবিল ১ 10w40 ফুল সিন্থেটিক ব্যবহার করছি।

হোন্ডা সিবিআর১৫০আর – সার্ভিসিং

১ম বারঃ ২৫০০কিলো, ২য় বারঃ ৭৫০০কিলো, ৩য় বারঃ ১২,৮০০কিলো। এখন পর্যন্ত এয়ার ফিল্টার চেঞ্জ করেছি ২বার, ফ্রন্ট ব্রেক প্যাড ৫বার, প্লাগ ১বার। বিশেষ করে বৃষ্টির কারনে ব্রেক প্যাড চেঞ্জ করতে হয়েছে বেশী।

honda cbr 150r price bd

হোন্ডা সিবিআর১৫০আর – ভ্রমন

বাইক নিয়ে বেশ কয়েকবার ঢাকার বাইরে গিয়েছি, তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে – কুমিল্লা, ময়মনসিংহ, মানিকগঞ্জ, টাঙ্গাইল, শ্রীমঙ্গল এবং নারায়নগঞ্জ। ঢাকা-ময়মনসিংহ রোডে প্রথমবারের মতো টপ স্পিড তুলেছিলাম ১৪৮।

হোন্ডা সিবিআর১৫০আর ভালো-মন্দ

সত্যি বলতে বাইকের সবকিছুই আমার বেশ ভালো মনে হয়, বিশেষ করে এর কন্ট্রোলিং, এক্সসেলারেশন, এগ্রেসিভ লুক, সিটিং পসচার এবং স্মুদ গিয়ার সিফটিং। খারাপ বলতে গেলে, প্রথমত পিলিয়ন সিট-খুবই আনকম্ফোর্টেবল।  পিছনের চাকা আরেকটু মোটা হলে কর্ণারিং-এ এডভান্টেজ পাওয়া যেতো।

honda cbr

আগে মাইলেজ ভালো পেতাম ৪১-৪৫; ইদানিং ৩৬-৩৮ মাইলেজ পাচ্ছি। হেডলাইট এলইডি হলেও আলো কম। বিশেষ করে আরপিএম ১০-এ লকড হওয়ায় কমপ্লিট স্যাটিসফেকশন আসছে না।

সর্বশেষে বলতে হয়, হোন্ডা সিবিআর১৫০আর (ইন্দো) আমার চালানো সবচেয়ে কন্ট্রোল্ড বাইক এবং যতদিন হোক না কেনো, এইটা কোনভাবেই বিক্রি করার ইচ্ছা নাই। আমি মুগ্ধ !!

 

লিখেছেনঃ ক্যাসপার রিচার্ড রয়

About Arif Raihan opu

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*