হোন্ডা সিবিআর১৫০আর ভার্স হোন্ডা সিবিআর১৫০আর এবিএস – ফিচার ও পার্থক্য

হোন্ডা মোটরসাইকেল সম্প্রতি নতুন হোন্ডা সিবিআর১৫০আর এবিএস মডেলটি বাংলাদেশের বাজারে ছেড়েছে। আগের নন-এবিএস ভার্শনটির প্রেক্ষিতে নতুন এবিএস ভার্শনটি আরো নতুন কিছু ফিচার নিয়ে এসেছে। আর তাই আমরা দুটো মডেলেরই ফিচারের পার্থক্য আজকের আলোচনায় নিয়ে এসেছি। তো চলুন যাওয়া যাক হোন্ডা সিবিআর১৫০আর ভার্স হোন্ডা সিবিআর১৫০আর এবিএস – ফিচার ও পার্থক্য আলোচনায় ।

হোন্ডা সিবিআর১৫০আর এবিএস

সিবিআর১৫০আর ভার্স হোন্ডা সিবিআর১৫০আর এবিএস – ফিচার ও পার্থক্য

নতুন হোন্ডা সিবিআর১৫০আর এবিএস মুলত: সিবিআর১৫০আর কে৪৫জি মডেলটির নতুন একটি ভার্শন। আর এই মোটরসাইকেলটিরও ডিজাইন ও ম্যানুফ্যাক্চারিং হয়েছে ইন্দোনেশিয়ায়। তবে নতুন ২০১৯ ভার্শনটিতে আগের ভার্শনটির তুলনায় নতুন কিছু ফিচার নতুন যোগ হয়েছে। তো সেকারনেই দুটো ভার্শনেই বেশ কিছু মিল ও অমিল রয়েছে।

তো আলোচনার শুরুতে প্রথমেই বলে নেয়া দরকার যে, নন-এবিএস ও এবিএস দুটো ভার্শনেরই চেসিস, ইঞ্জিন, বডি প্যানেলসহ আরো অনেক অংশই পুরোপুরি একই। সুতরাং নতুন ভিন্ন কিছু বৈশিষ্ট্য ছাড়া দু্টো বাইকই মুলত: একই। আর রং, শেড, আংশিক বডি প্যানেল ও কিছু টেকনিক্যাল ফিচারই মুলত: দু্টো বাইককে আলাদা পরিচিতি দিয়েছে। তো সেই বৈসাদৃশ্যগুলো নিয়েই আমাদের আজকের আলোচনা।

honda-cbr150r-vs-honda-cbr150r-abs-feature-&-specification

এক্সটেরিয়র ডিজাইন

হোন্ডা সিবিআর১৫০আর ভার্স হোন্ডা সিবিআর১৫০আর এবিএস, দুটো বাইকই একই ধরনের এক্সটেরিয়র  ডিজাইনের। তবে তাদের কালার ও শেড পুরোপুরি আলাদা। আর বাইকদুটোর সামনের অংশ তথা এর আলাদা হেডলাইট এ্যাসেমব্লীই এর ভিন্ন পরিচিতি নির্দেশ করে।

আগের নন-এবিএস ভার্শনটি মুলত: ছোট আর ভেন্টিলেটেড উইন্ডশীল্ড যুক্ত। সেইসাথে এর এলইইডি হেডলাইট সেটআপ অনেকটাই কম্প্যাক্ট ও ধারালো ধরনের। আর অন্যদিকে নতুন এবিএস ভার্শনটি বর্ধিত ও গোলাকার ধরনের উইন্ডশীল্ড যুক্ত। আর এর নতুন হেডলাইট কেসিংটি অনেকটাই ফোলানো ধরনের যার কারনে বাইকটিকে অনেকটাই বড়ো দেখায়।

ভিন্ন অডোমিটার

হোন্ডা সিবিআর১৫০আর কে৪৫জি বাইকটির এবিএন ও নন-এবিএস দুটো বাইকেরই অডোমিটার দুটো দেখতে একই রকম। দুটো প্যানেলই পুরোপুরি ডিজিটাল আর একই প্যারামিটার সন্নিবেশিত। তবে ভার্শনভেদে তাদের ব্যাকগ্রাউন্ড আর লাইটিং কালার আলাদা।

নন-এবিএস ভার্শনটির ওডোতে রয়েছে নীলাভ লাইটিংসহ ফটো-পজিটিভ ডিসপ্লে। আর নতুন এবিএস ভার্শনটিতে ওডোটি রয়েছে কালচে-নীল ইলুমিনেশেন সহ ফটো-নেগেটিভ ডিসপ্লে। আর বাড়তি হিসেবে এতে রয়েছে এবিএস নির্দেশক আলোকিত আইকন।

honda-cbr150r-vs-honda-cbr150r-abs-speedometer-display

লাইট ও সিগন্যাল সিষ্টেম

হোন্ডা সিবিআর১৫০আর বাইকটির দুটো ভার্শনই সম্পূর্ণ এলইডি লাইট ও সিগন্যালযুক্ত। আর তাদের ডিজাইন ও ডাইমেনশনও পুরোপুরি একই। তবে এবিএস ভার্শনটিতে বাড়তি হিসেবে রয়েছে ইমারজেন্সি স্টপ সিগন্যাল।

এই ইএসএস তথা ইমারজেন্সি স্টপ সিগন্যাল মুলত: ইমারজেন্সি ব্রেকিং এর সময় কাজ করে। চালক যখন উচ্চগতি থেকে অথবা কোন ইমারজেন্সিতে হার্ড-ব্রেক করেন তখন এই সিগন্যালটি কাজ করে। সেইসময়ে সিগন্যাল লাইটগুলো ব্রেক নাছাড়া পর্যন্ত একাধারে জ্বলতে নিভতে থাকে। আর এভাবেই ইএসএস রাস্তার অন্যান্য যানবাহনকে সতর্ক সংকেত দেয়।

হুইল ও সাসপেনশন সেটআপ

হোন্ডা সিবিআর১৫০আর ভার্স হোন্ডা সিবিআর১৫০আর এবিএস ভার্শনদুটোতে হুইল ও সাসপেনশন সিষ্টেমেও বেশ কিছু ভিন্নতা লক্ষ্য করা যায়। দুটো বাইকেই একই ডাইমেনশনের এ্যালয় রিম আর টিউবলেস টায়ার রয়েছে। তবে তাদের রিমের ডিজাইন কিছুটা আলাদা। নন-এবিএস ভার্শনটিতে রয়েছে জোড়াকৃত বাকানো ১০-স্পোক এ্যালয় রিম। আর এবিএস ভার্শনটিতে রয়েছে আলাদা আলাদা ১০-স্পোক এ্যালয় রিম।

আর সাসপেনশনের ক্ষেত্রে দুটো বাইকেরই পেছনে একই প্রো-লিংক সাসপেনশন রয়েছে। উল্লেখ্য যে, এই সাসপেনশনটি এ্যাডজাষ্টেবল টাইপের। আর দুটো বাইকেই সামনে আপরাইট টেলিস্কোপিক ফর্ক সাসপেনশন থাকলেও তা ভিন্ন ফিচার যুক্ত। নতুন এবিএস ভার্শনটির সাসপেনশন ওপরের দিকে এ্যাডজাষ্টেবল-নাট সহ এ্যাডজাষ্টেবল টাইপের। আর নন-এবিএস ভার্শনটিতে কোন এ্যাডজাষ্টেবল ফিচার নেই।

honda-cbr-150r-abs-indonesia-wheel-brake-suspension

ইঞ্জিন ফিচার ও পরিমার্জন

হোন্ডা সিবিআর১৫০আর এর ভার্শনদু্টোর ইঞ্জিন দুটো মুলত: একই সিঙ্গেল-সিলিন্ডার, ফোর-স্ট্রোক, লিকুইড-কুলড, ডিওএইচসি ইঞ্জিন। আর তারা একই ১৭.১পিএস পাওয়ার ও ১৪.৪এনএম টর্ক ডেলিভারী দেয়।

তবে নতুন এবিএস ভার্শনটির ইঞ্জিন আরো বেশি পরিমার্জিত ও সমন্বয়কৃত। পিটি-এষ্ট্রা ইন্দোনেশিয়ার মতে এটা আরো বেশি রিয়েলটাইম পারফর্মার। আর এর ফুয়েল এফিশিয়েন্সিও আরো বেশি। তাদের স্ট্যান্ডার্ড টেষ্টিং কন্ডিশনে এটার ফুয়েল ইকোনমি মোটামুটি ৩৯.৭২কিমি/লিটার এর মতো।

ব্রেকিং সিষ্টেম ও এবিএস ফিচার

হোন্ডার সিবিআর১৫০আর বাইকদুটির প্রমোশনাল ডিফারেন্স মূলত: এর ব্রেকিং সিষ্টেমের এবিএস ফিচার। দুটো বাইকের ব্রেকিং সিষ্টেম পুরোপুরি একই। এই ব্রেকগুলো একই মাপের ডিস্ক ও ক্লিপার সংযুক্ত হাইড্রলিক টাইপের।

তবে এবিএস ভার্শনটিতে বাড়তি যোগ হয়েছে ডুয়্যাল-চ্যানেল এবিএস ফিচার। আর বলা বাহুল্য যে, নন-এবিএস ভার্শনে এই ফিচারটি নেই। ওতে কেবল সলিড হাইড্রলিক ব্রেকিং সিষ্টেমই সমন্বয় করা হয়েছে।

হোন্ডা সিবিআর১৫০আর এবিএস

তো বন্ধুরা, এই ছিল হোন্ডা সিবিআর১৫০আর ভার্স হোন্ডা সিবিআর১৫০আর এবিএস ফিচার ডিফারেন্সের মোটামুটি চিত্র। আশাকরি আপনাদের বাইকদুটোর পার্থক্যের জায়গাগুলো ভালোভাবে তুলে ধরতে পেরেছি। তো আজ এটুকুই, আমাদের সাথে থাকার জন্যে সবাইকে ধন্যবাদ। সবাই ভালো থাকবেন।

About Saleh Md. Hassan

আমি কোন বাতিকগ্রস্ত পথের খেয়ালী ধরনের নই…. তবে মোটরসাইকেল পছন্দ করি ও প্রয়োজনে ব্যবহার করি মাত্র…. কিছুটা ঘরকুনো বাধ্যগত চালক…. তবে মাঝে মাঝে নিজের ভেতরের যোগী-ভবঘুরে স্বত্তাকে মুক্তি দেই আমার দুইচাকার ঘোড়ার উপর চেপে বসে বিস্তৃত অদেখার পথে ছুটে যাবার জন্য…..অনেকটা বাঁধনহীন চির ভবঘুরের মতো…..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*