হোন্ডা ড্রিম নিও বনাম হোন্ডা লিভো ১১০ তুলনামূলক রিভিউ

হোন্ডা মোটরসাইকেল বাংলাদেশ এক কথায় বাংলাদেশ প্রাইভেট লিমিটেড (বিএইচএল) আমাদের দেশের কমিউটার সেগমেন্টে বেশ বড় একটা ভূমিকা রেখেছে । আর প্রিমিয়াম এবং স্পোর্টস সেগমেন্টের বাইকে তো কোন সন্দেহ নেই যে বাইকগুলো কতটা গর্জিয়াস । উপরন্তু তারা তাদের বাইকের দাম কমিয়ে আনার ফলে অন্যান্য প্রতিদ্বন্দী বাইক কোম্পানি থেকে একটু এগিয়ে রয়েছে । তাই আজকে আমরা আপনাদের সামনে হোন্ডা ড্রিম নিও বনাম হোন্ডা লিভো ১১০ এর তুলনামূলক রিভিউ তুলে ধরব । হোন্ডা ড্রিম নিও বনাম হোন্ডা লিভো ১১০ – লুকস এবং ডিজাইন হোন্ডা মোটরসাইকেল তাদের হোন্ডা ড্রিম নিও এবং হোন্ডা লিভো ১১০ মডেলের জন্য ১১০ সিসি কমিউটার সেগমেন্টে বেশ নাম করেছে ।…

Review Overview

User Rating: 3.71 ( 4 votes)

হোন্ডা মোটরসাইকেল বাংলাদেশ এক কথায় বাংলাদেশ প্রাইভেট লিমিটেড (বিএইচএল) আমাদের দেশের কমিউটার সেগমেন্টে বেশ বড় একটা ভূমিকা রেখেছে । আর প্রিমিয়াম এবং স্পোর্টস সেগমেন্টের বাইকে তো কোন সন্দেহ নেই যে বাইকগুলো কতটা গর্জিয়াস । উপরন্তু তারা তাদের বাইকের দাম কমিয়ে আনার ফলে অন্যান্য প্রতিদ্বন্দী বাইক কোম্পানি থেকে একটু এগিয়ে রয়েছে । তাই আজকে আমরা আপনাদের সামনে হোন্ডা ড্রিম নিও বনাম হোন্ডা লিভো ১১০ এর তুলনামূলক রিভিউ তুলে ধরব ।

হোন্ডা ড্রিম নিও বনাম হোন্ডা লিভো ১১০

হোন্ডা ড্রিম নিও বনাম হোন্ডা লিভো ১১০ – লুকস এবং ডিজাইন

হোন্ডা মোটরসাইকেল তাদের হোন্ডা ড্রিম নিও এবং হোন্ডা লিভো ১১০ মডেলের জন্য ১১০ সিসি কমিউটার সেগমেন্টে বেশ নাম করেছে । বাইক দুটোর ডিজাইন দেখতে একেবারে ভিন্ন হলেও ভিতর দিয়ে প্রায় এক রকম । আমরা সেই আলোচনায় পরে আসছি । এখন আমরা বাইক দুটির লুকস এবং ডিজাইন নিয়ে আলোচনা করব ।

হোন্ডা ড্রিম নিও এর বেসিক ডিজাইনটা বেশ মার্জিত । কমিউটিং এর জন্য এবং যেকোন ধরনের এবং যেকোন বয়সের রাইডারদের জন্য খুব হিসেব করে ডিজাইন করা হয়েছে । তাই এটি যেকোন কমিউটার ব্যবহারকারীদের পারসোনালিটির সাথে বেশ ম্যাচ করে ।

honda dream neo features specification 768x426

 

টপ থেকে বটম এবং ফ্রন্ট থেকে রিয়ার সব দিক দিয়ে ড্রিম নিও দেখতে বেশ সুন্দর মোটরসাইকেল । স্টাইল এবং মর্ডান ফিচারস এর দিক দিয়ে স্টাইলিশ ফ্রন্ট, রিয়ার প্যানেল, ফুয়েল ট্যাংক এবং সাইড প্যানেল দেওয়া আছে ।

 

হোন্ডা লিভো দেখতে বেশ সুন্দর এবং এর ডিজাইন বেশ আকর্ষনীয় । বাইকটির ডিজাইন এ্যাগ্রেসিভ, শার্প এবং স্লিক । বাইকটি ডিজাইন করা হয়েছে ইয়্যাং রাইডারদের উপর নির্ভর করে এবং যারা কমিউটার বাইকে স্পোর্টি ম্যাচো লুকস চায় তাদের জন্য ।

honda livo design features specification 768x395অতএব হোন্ডা লিভো ১১০ মর্ডান লুকড কমিউটার মোটরসাইকেল । বাইকটি দেখতে বেশ স্মার্ট এবং এর ডিজাইনও বেশ আকর্ষনীয় কিন্তু বাইকটি কমিউটার । বাইকটির ফুয়েল ট্যাংক, হেড ল্যাম্প এবং কার্ভড বডি প্যানেল আরো আকর্ষনীয় করে তুলেছে বাইকটিকে ।

হোন্ডা ড্রিম নিও বনাম হোন্ডা লিভো ১১০ – ফ্রেম, হুইল, ব্রেক এবং সাস্পেনশন

ডিজাইন এর দিক দিয়ে হোন্ডা ড্রিম নিও এবং হোন্ডা লিভো একেবারে ভিন্ন মোটরসাইকেল । মোটরসাইকেলের ফ্রেম প্রায় একই রকম তাই চেসিস প্রায় একই রকম । কিছুটা পরিবর্তন রয়েছে দুইটি বাইকের মধ্যে ।

হুইলের দিক দিয়ে দুইটি মোটরসাইকেলেই একই রকম । এখানে দুইটি মোটরসাইকেলের এ্যালয় রিমস এক রকম । এছাড়াও ড্রিম নিও এবং লিভো দুটি মোটরসাইকেলের হুইলে টিউবলেস টায়ার দেওয়া আছে ।

honda dream neo vs honda livo 110 wheel brake suspension 768x446

ব্রেকিং সিস্টেম এর দিক দিয়ে মোটরসাইকেল দুইটিতে কিছুটা পার্থক্য রয়েছে ।  এখানে হোন্ডা ড্রিম নিও তে ড্রাম টাইপ ব্রেকিং সিস্টেম দুটি হুইলেই । কিন্তু হোন্ডা লিভো তে ফ্রন্টে হাইড্রোলিক ডিস্ক ব্রেক এবং রিয়ারে ড্রাম টাইপ ব্রেকিং সিস্টেম দেওয়া আছে । আবার হোন্ডা লিভো এর ড্রাম ব্রেক অপশন একদম হোন্ডা ড্রিম নিও এর মতন ।

সাস্পেনশন সিস্টেম এর দিক দিয়ে হোন্ডা ড্রিম নিও এবং হোন্ডা লিভো প্রায় একই রকম । এখানে শুধু পার্থক্যটি হল কালার, শেড এবং ডিস্ক ব্রেক এ্যাটাচমেন্ট সিস্টেম । তাই দুইটি মোটরসাইকেলে টেলিস্কোপ হাইড্রোলিক সাস্পেনশন ফ্রন্টে । আবার রিয়ারেও একই রকম যেটা হল ডাবল ইউনিট এ্যাটাচড সুইং আর্ম ।

honda drea neo 110 review feature price in bangladesh 768x389

হোন্ডা ড্রিম নিও বনাম হোন্ডা লিভো ১১০ – রাইডিং এবং কন্ট্রোলিং

হোন্ডা ড্রিম নিও এবং লিভো ১১০ দুই ধরনের মোটরসাইকেলের ফ্রেম এবং স্ট্রাকচার একই রকম । আবারো দুইটি মোটরসাইকেল ডিজাইন করা কমিউটিং এর জন্য । তাই কন্ট্রোলিং এবং রাইডিং দুইটি মোটরসাইকেলে এক ধরনের ।

দুটি মোটরসাইকেলের রাইডিং পোসচার আপরাইট । হ্যান্ডেলবার পজিশন, কন্ট্রোল লিভারস এবং ফুট পেগ পজিশন সব কিছু একই ধরনের যেটা শুধু মাত্র আপরাইট রাইডিং এর জন্য ফিচারড করা হয়েছে ।

কন্ট্রোলিং এর দিক দিয়ে মোটরসাইকেল দুটি খুব সহজ এবং কম ওজনের । কিন্তু আবারো কন্ট্রোলিং এর দিক দিয়ে হোন্ডা লিভো ১১০ কিছুটা কম এ্যডভান্সমেন্ট দেওয়া আছে হোন্ডা ড্রিম নিও এর তুলনায় । লিভো এর ডিজাইন এরোডায়নামিক এবং এর ফ্রন্ট হুইল হল ডিস্ক ব্রেক ।

honda dream neo vs honda livo 110 engine specification performance 768x300

হোন্ডা ড্রিম নিও বনাম হোন্ডা লিভো ১১০ – ইঞ্জিন স্পেসিফিকেশন এবং ফিচারস

ইঞ্জিন এবং স্পেসিফিকেশন এর দিক দিয়ে তুলনার এমন কিছু নেই । আমরা আগেই বলেছি যে দুইটি মোটরসাইকেলের ফ্রেম এবং ইঞ্জিন প্রায় একই রকম ।

এখানে দুইটি মোটরসাইকেলের ইঞ্জিন, টুইকিং এবং টিউনিং একই রকম । এখানে ইঞ্জিনের পাওয়ার এবং টর্ক রেটিং একই রকমের । তাই আপনি চোখ বন্ধ করে যে কোন একটি বাইকের উপর ভরসা করতে পারবেন ।

কমিউটার ক্যাটাগরি হিসেবে ইঞ্জিন যথেষ্ট পাওয়ারফুল এবং বাইক দুইটির ফুয়েল এফিসিয়েন্সি অনেক । যাই হোক আমরা আপনাদের জন্য দুটি মোটরসাইকেলের স্পেসিফিকেশন এর ছক তুলে ধরলাম ।

SpecificationHonda Dream NeoHonda Livo 110
EngineSingle Cylinder, Four Stroke,

Air Cooled SI Engine

Single Cylinder, Four Stroke,

Air Cooled SI Engine

Valve SystemTwo ValveTwo Valve
Displacement109.19cc109.19cc
Bore x Stroke50.0mm x 55.6mm50.0mm x 55.6mm
Compression Ratio9.9:19.9:1
Maximum Power6.20 kW (8.31BHP)@ 7,500 RPM6.20 kW (8.31BHP)@ 7,500 RPM
Maximum Torque9.09NM  @ 5,000RPM9.09NM  @ 5,000RPM
Fuel SupplyCarburetorCarburetor
IgnitionCDICDI
Starting MethodKick & Electric StartKick & Electric Start
Clutch TypeWet, Multiple-discWet, Multiple-disc
LubricationWet SumpWet Sump
Transmission4 Speed, Pattern N-1-2-3-44 Speed, Pattern N-1-2-3-4
Dimension
Frame TypeDiamondDiamond
Dimension (LxWxH)2,043mm x 737mm x 1,084mm2,020mm x 738mm x 1,099mm
Wheel Base1,285mm1,285mm
Ground Clearance179mm180mm
Saddle HeightNot FoundNot Found
Weight109Kg (Kerb)111Kg (Kerb)
Fuel Capacity:8 Liters8.5 Liters
Wheel, Brake & Suspension
Suspension (Front/Rear)Telescopic Fork/

Spring Loaded Hydraulic Double Shock Absorber

Telescopic Fork/

Spring Loaded Hydraulic Double Shock Absorber

Brake system (Front/Rear)130mm Drum Optional

/ 130mm Drum

240mm Disk (130mm Drum Optional)

/ 130mm Drum

Tire size (Front / Rear)Front: 80/100-18

Rear: 80/100-18

Both Tubeless

Front: 80/100-18

Rear: 80/100-18

Both Tubeless

Electrical & Other
Battery12V 3Ah(MF)12V 3Ah(MF)
Head lamp12V 35/35W12V 35/35W
Tail LampBulbBulb
SpeedometerDouble Pit Analog SpeedometerDouble Pit Analog Speedometer

honda dream ne vs honda livo 110 looks design comparison review 768x321

হোন্ডা ড্রিম নিও বনাম হোন্ডা লিভো ১১০ – দুটির মধ্যে কোনটি ভাল

অতএব পাঠকেরা এই ছিল হোন্ডা ড্রিম নিও বনাম হোন্ডা লিভো ১১০ এর তুলনামূলক রিভিউ । আশা করি আপনি দুইটি মোটরসাইকেলের ফিচারস সর্ম্পকে পরিষ্কার ধারনা পেয়েছেন । আপনি জানেন যে হোন্ডার বিভিন্ন ধরনের মডেলের মোটরসাইকেল রয়েছে যেটা আপনার পছন্দ হয় সেটা চয়েজ করুন । বর্তমানে হোন্ডা ড্রিম নিও এর দাম ১১৪,৫০০ টাকা এবং হোন্ডা লিভো এর দাম ১২০,০০০ (ড্রাম) এবং ১২৬,০০০ টাকা (ডিস্ক) ।

আপনারা জানেন যে মোটরসাইকেল সেগমেন্টে কমিউটার সব থেকে কম্পেটেটিভ সেগমেন্ট । তাই আপনি যদি হোন্ডা লাভার হন আর যদি হোন্ডার উপর নির্ভর করতে চান তাহলে আপনি কমিউটার চয়েস করতে পারেন । এখানে দুটি বাইক খুব সুন্দরভাবে ফিচার করা । আপনি যেটায় পছন্দ করেন না কেন সেটা ড্রিম নিও বা লিভো হোক না কেন আশা করি দুইটি বাইক আপনাকে আনন্দ দেবে ।

About Arif Raihan opu

2 comments

  1. nttanvir@gmail.com'
    নাজমুল হুদা

    বাইক কিনেছি ১৫-০৫-২০১৮ ( হোন্ডা লিভো) ।১৫-০৫-২০১৮ তে শো রুমকে টাকা দিয়েছি রেজিস্ট্রেশন করার জন্য। শুধু BRTA এর Money জমা স্লিপ পেলাম ২০-০৫-২০১৮। কিন্তু আজও ০১-০৭-২০১৮ বাইকের নাম্বার বা কোন প্রকার কাগজ পেলাম না। রাস্তায় বাইক বের করলে Sergent পুলিশ ধরে, বাইক গ্যারেজে রেখে দিয়েছি। কি করব বুঝতে পারছি না। অন্য দিকে বাস এ উঠার যে কি বিড়ম্বনা তা আর বলাম না ——। ভাই, wings bd কিছু করেন আমাদের জন্য, আমরা যেন টাকা জমা দেবার পর যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বাইকের নাম্বার টা যেন পাই। হোন্ডার মতো কম্পানির সার্ভিস এত খারাপ হবে , চিন্তাও করা যায় না। শো রুম এ ফোন দিলে তাড়া ঠিক মত কিছু বলতে পারে না, আজ না কাল দিব এভাবে দিন পার করছে।, একবার বলছে কাগজ ইন্ডিয়া থেকে আসবে, একবার বলে ২/১ দিনের ভিতর হয়ে যাবে। আমার কথা হল অন্য ইন্ডিয়ান বাইক কম্পানি কাগজ যদি এত তাড়াতাড়ি করে দিতে পারে তবে হোন্ডার মত কম্পানি কেন পারে না বুঝলাম না। এভাবে চলতে থাকলে মানুস হোন্ডা থেকে মুখ ফিরিয়ে নেবে। তখন হোন্ডা হবে Walton বাইকের মত। তাই হোন্ডা বাইক যারা কিনবেন তাদের সবাই কে বলছি, ছিন্তা-ভাবনা করবেন প্রথমে, তা না হলে আমার মত বাইক গ্যারেজে দিনের পর দিন রাখতে হবে , বাইক নিয়ে রাস্তায় বের হতে পারবেন না।

    • ajit629@gmail.com'

      আমাকে বলেছিল ৩ মাসের মধ্যে সব কমপ্লিট হবে আমি গাড় নিয়েছি ১০.০৫.১৮ তে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*