সকল বাইক রাইডারদের জন্য সেফ ও স্মার্ট ব্রেকিং টিপস

সাধারণত কোন বাইক বা মোটর যান কেনার সময় আমরা এর পারফরমেন্স , স্পীড , মাইলেজ প্রভৃতি দেখে কিনে থাকি , কিন্তু যেটা একটা মোস্ট ইমপর্ট্যান্ট বিষয় যেটা আমরা বা সাধারণ পাবলিক স্কিপ করে যাই সেটা হল কোন বাইকের ব্রেকিং । অনেক রাইডারই বাইকের সেফ ও প্রোপার ইউজ করতে জানেন না । কিন্তু , একটা কথা আছে যে , “কন্ট্রোলিং ব্যাতীত পাওয়ার কোন কাজেই লাগে না” ।

যেকোন যানবাহন কন্ট্রোল করাটা সবসময়ই এক প্রকার আর্ট । যারা বাইক স্ট্যান্ট করে থাকেন তারা এই আর্টটা ভাল জানলেই তবে তারা ভাল স্ট্যান্টার হয়ে থাকেন । এখন আমরা যেটা দেখি , সেটা হল ব্রেক সব যানবাহনেরই একটা অন্তরঙ্গ অংশ । এটাকে বাদ দিয়ে কোন কিছূ ভাবার কোন চান্স নেই । বেশীরভাগ এক্সিডেন্টই এই ব্রেকিং এর ব্যাবহার সঠিক ভাবে না জানার কারণে হয়ে থাকে ।

শহরে বাইক রাইডিং এর ক্ষেত্রে যে ভুলটা সচারআচার হয়ে থাকে সেটা হল সামনের ব্রেকের ভুল ব্যাবহার , যেটা সামনের চাকাকে লক করে দেয় এবং এইভাবে বাইক বেশীরভাগ টাইমেই পড়ে যায় বা অন্য কোন যানবাহনের সাথে কলিশন করে । বর্তমানে সব বাইক বা অন্যান্য যেকোন যানবাহনই ভাল এবং বিশ্বাসযোগ্য ব্রেকিং সিস্টেমের সাথে মার্কেটে আসে । কিন্তু , তারপরেও এক্সিডেন্ট প্রায়ই ঘটে থাকে । আপনারা হয়ত শুনলে অবাক বা বিস্মিত হতে পারেন যে , যে সব যানবাহনে গিয়ার আছে , সেসব যানবাহনে ৩ ধরণের ব্রেক রয়েছে ।

এখন আপনার প্রশ্ন হল কীভাবে বা কোথায় ? আপনি যদি বেশ অভিজ্ঞ রাইডার হয়ে থাকেন তাহলে নিশ্চই খেয়াল করবেন যে, বাইক যথন অনেক হাই স্পীডে থাকে তখন যদি আপনি গিয়ার চেঞ্জ করে লো গিয়ারে নিয়ে আসেন , তাহলে বাইক বা অন্য যেকোন যানবাহন অটোমেটিকলি স্লো হয়ে যায় । বেশীরভাগ রেসাররা বা অভিজ্ঞ রাইডাররা স্মার্ট ব্রেকিং এর জন্য এই টেকনিকটার প্রোপার ইউজ করে থাকেন ।

মূলত , বাইকের ব্রেকিং ফোর্সটা বাইকের স্পীডের উপর ডিপেন্ড করে একটা অনুপাতে প্রয়োগ করা উচিৎ । জেনারেলি হাইয়ার স্পীডে বাইকের রেয়ার ব্রেকের সাথে ফ্রন্ট ব্রেক ইউজ করাটাই সবার উচিৎ । বর্তমানে প্রায় সব মর্ডান বাইকে এবং স্পোর্টস বাইকে ডিস্ক ব্রেক ইউজ করা হয় যেটা বাইকের স্টপিং পাওয়ার অনেক বাড়িয়ে দিয়েছে যেটা ড্রাম ব্রেক কখনওই করতে পারত না । কিন্তু , এখানেও একটা সমস্যা থেকেই যায় । আপনি হয়ত দেখে থাকবেন বৃষ্টির সময় ডিস্ক ব্রেক সাধারণ অবস্থার মত কাজ করে না ।

বৃষ্টির সময় ডিস্ক ব্রেক ইউজ করলে এটা প্রায় সময়ই চাকাকে লক করে দেয় যেটা আবার এক্সিডেন্টের ঝুকি বাড়িয়ে দেয় । এই সমস্যাটা ঘটে থাকে কারণ যখন ডিস্ক ব্রেকের ব্রেকিং প্যাড ভিজে যায় , ফলে এটা এর চাকার স্টপিং পাওয়ার কমিয়ে দেয় , ফলে ব্রেকিংটা অনেক কম কাজ করে । এই ক্ষেত্রে আপনি আপনার বাইকের ডিস্ক ব্রেক একটু লাইট ভাবে ধরে দেখতে পারেন । এটা বেশ ভাল কাজে দেয় । আর , এখানে পেছনের চাকার ড্রাম ব্রেক অনেক ভাল কাজ করে , কারণ ,এটার ব্রেক প্যাড হিসেবে সাধারণত রাবার, চামড়া বা অ্যাসবেসটস জাতীয় দ্রব্য দ্বার তৈরী করা হয় । তার ফলে এটা ভেজা অবস্থায় বেশ ভালই কাজ করে ।

Drum Brakes

Drum Brakes

কিন্তু পরপর পৃথিবীর পরিবেশের কথা চিন্তা করে ড্রাম ব্রেক এর ইউজ পরপর কমে আসছে । কারণ যে সব ম্যাটেরিয়াল দ্বারা ড্রাম বেৃক তৈরী হয় যেমন , এসবেসটস বা লেদার যেগুলো পরিবেশের ক্ষতি করে থাকে এবং প্রচুর পরিমাণে ডাস্ট উৎপন্ন করে । তাই ডিস্ক ব্রেকের চাহিদা দিন দিন বেড়ে যাচ্ছে । কিন্তু , খরচের কথা চিন্তা করে অনেক বাইকেরই ড্রাম ব্রেক এ বদলে ডিস্ক ব্রেক ইনটিগ্রেট করা যাচ্ছে না । তারপরও সর্বাত্মক চেষ্টা চলছে ড্রাম ব্রেকের পরিবর্তে ডিস্ক ব্রেককে সহজলভ্য করে তুলতে ।

ডিস্ক ব্রেকের ব্যাবহার অনেক ভাল এবং বাইকের কন্ট্রোল সহ সবকিছূই বেটার হয় ডিস্ক ব্রেক ইউজ করলে । কিন্তু এখানে সমস্যাও আছে । যদি অনভিজ্ঞ কেউ ডিস্ক ব্রেকের কোন বাইক রাইড করতে যান তাহলে প্রথমে বিভিন্ন পরিস্থিতিতে বিপদে পড়তে পারেন । দুটি ব্রেকই একসাথে ব্যাবহারের অভ্যাস গড়ে তুলে এক্সিডেন্ট এড়ানো সম্ভব । রাইডারের উচিৎ বাইকের ব্রেকিংটা প্রাকটিসের মা্যমে শেখা । কারণ , এই সম্পর্কে টিপস নিলে শুধু হবে না , আপনাকে প্রাকটিক্যালি ডিস্ক ব্রেক এর ইউজেজটা শিখতে হবে ।

এজন্য আপনি কোন ফাকা রাস্তা ববা কোন বড় খোলা স্থান বেছে নিতে পারেন । এভাবে রেগুলার প্রাকটিসের মাধ্যমে ডিস্ক ব্রেকিং এর সম্পর্কে ভালভাবে বোঝা ও ডিস্ক ব্রেকের ইউজিং ভালভাবে আয়ত্ত করা সম্ভব । আপনাকে এটাও শিখতে হবে কখন কখন ব্রেক চাপতে হয় এবয কোন সময় কতটা হার্ড ববা সফটভাবে ব্রেকিং করতে হয় । এভাবে সময়ের ব্যাবধানে একসময় আপনি ডিস্ক ব্রেকিং এর ব্যাবহার ভালভাবেই আয়ত্ত করতে পারবেন । যদি এটা না শিখে কোন রাইডার সবসময় হার্ড ব্রেকিং করে থাকে তাহলে সে যেকোন সময়ই বিপদে পড়তে পারে ।

একজন রাইডারের সবসময় মাথায় রাখা উচিৎ যে , স্পীড সব সময়ই এক্ষেত্রে একটা বড় ফ্যাক্ট । কারণ , হাই স্পীডে বাইকের ওজন ডাউনফোর্সের কারণে কিছুটা বেড়ে যায় যেটা ঘটে থাকে বাতাসের জন্য ।

ব্রেকিং

আসলে ব্রেকিং প্যাটার্ন পরিমাপের জন্য আলাদা কোন টুলস নেই । কিন্তু বিচার বিবেচনা করে আমরা ব্রেকিং রেশিও সমন্ধে জানতে বা বুঝতে পারি । এজন্য প্রথমেই আপনার যেটা করা দরকার সেটা হল , ব্রেকিং এর লিমিটটা বুঝতে চেষ্ট করা । মানে , কতটুকু ব্র্রেক ধরলে বাইক কেমন স্লো হবে , বা কতটুকু ব্রেক ধরলে বাইকের চাকা লক হয়ে যাবে , বা কোন সময় কেমন প্রেশারে ব্রেকিং করা উচিৎ ইত্যাদি । তবে এগুলো একটু শুকনো ও ফাকা জায়গায় করলেই ভাল হয় । অন্যদের বা আপনার বিপদের সম্ভাবনা কমে যায় ।

চাকার লক হয়ে যাওয়া অনেক উপায়ে কন্ট্রোল করা যায় । সবসমযেই আপনাকে ফোর্সের সাথে ব্রেকিং এর পাওয়ারের রেশিওটা বুঝতে হবে । এটা একটু কষ্টকর ও সময় সাপেক্ষ হবে , কিন্তু এটা শেখা উচিৎ । যদি সামনের চাকা লক হয়েও যায় , তখনই আস্তে করে ব্রেকটা ছেড়ে দিন , চাকা আবার স্বাভাবিক হয়ে যাবে । এভঅবে চেষ্টা করতে থাকুন ও বুঝতে চেষ্টা করুন । আপনার বেৃকিং স্কিল হাই হতে বাধ্য ।

আর গিয়ারের কথাটা ভুলে যাবেন না । ওটাও একটা মেইন ফ্যাক্ট । মাথা ঠান্ডা করে গিয়ারের কথাটা মনে রাখুন বিপদের সময় ।

সেফ রাইডিং এবং এনজয় ব্রেকিং……………….

About শুভ্র সেন

সবাইকে শুভেচ্ছা । আমি শুভ্র,একজন বাইকপ্রেমী । ছোটবেলা থেকেই মোটরসাইকেলের প্রতি আমার তীব্র আগ্রহ রয়েছে । যখন আমি আমার বাড়ির আশেপাশে কোন মোটরসাইকেলের ইঞ্জিনের শব্দ শুনতে পেতাম, আমি তৎক্ষণাৎ মোটরসাইকেলটি দেখার জন্য ছুটে যেতাম ।২ বছর ধরে গবেষণা ও পরিকল্পনার পর আমি এই ব্লগটি তৈরী করি । আমার লক্ষ্য হল বাইক ও বাইক চালানো সম্পর্কে বাংলাদেশের মানুষের কাছে সঠিক তথ্য পৌঁছে দেয়া । সবসময় নিরাপদে বাইক চালান । আপনার বাইক চালানো শুভ হোক

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*