মোটরসাইকেল রাইড করার অসুবিধাসমূহ!

মোটরসাইকেল রাইড করার কিছু অসুবিধা রয়েছে। মোটরসাইকেল রাইড করার অবশ্যই আনন্দদায়ক, তাছাড়া মোটরসাইকেলের মত এডভেঞ্চার, থ্রিল যা বলি না কেন এর সাথে অন্য কোন বাহনের তুলনা হয় না। এসব ছাড়াও মানুষ প্রতিদিনের যাতায়াতসহ নানা কাজে মোটরসাইকেল ব্যবহার করে থাকেন।

সময় বাচানোর সবচেয়ে সহজ পন্থা হচ্ছে মোটরসাইকেলে যাতায়াত করা। এখানে অগনিত সুবিধা রয়েছে মোটরসাইকেল রাইড করার ক্ষেত্রে। তবে কিছু কিছু ক্ষেত্রে মোটরসাইকেল রাইড করার অসুবিধাও রয়েছে। চলুন সেই অসুবিধা গুলো কি তা জেনে নেয়া যাক।

disadvantages-of-riding-a-motorcycle মোটরসাইকেল রাইড

মোটরসাইকেল রাইড করার অসুবিধাসমূহ –

  • মোটরসাইকেল রাইড করার জন্য অবশ্যই অভিজ্ঞতার প্রয়োজন রয়েছে। এছাড়া দক্ষতা এবং বাইকের সম্পর্কে বিস্তারিত জ্ঞান থেকে দরকার সেফ রাইড করার। এছাড়া রাইডিং এর সময় রাস্তা এবং আসে পাশে পূর্ন মনযোগ দেয়া উচিত। যেহেতু মোটরসাইকেল দুই চাকার বাহন তাই ব্যালেন্স, কন্ট্রোল এবং রাইডিং সব কিছুই অন্য বাহন থেকে আলাদা। সব মিলিয়ে বাইক বা মোটরসাইকেল অন্য বাহনের চেয়ে অনেক বেশি ঝুঁকিপূর্ণ বাহন।
  • মোটরসাইকেল হচ্ছে দুই চাকার বাহন, তাই একে ব্যালেন্স ও কন্ট্রোল করতে তিন চাকার বা চার চাকার বাহনের চেয়ে বেশি মনোযোগী হতে হয়। তার উপর মোটরসাইকেল হচ্ছে নেকেড বাহন, মানে এতে রাইড পুরোপুরি বাইরেই থাকেন। মোটরসাইকেলে না কোন কেবিন রয়েছে, না এয়ার ব্যাগ, অথবা এমন কিছু যা রাইডার কে সেভ করবে বড় দুর্ঘটনা থেকে। তাই বলা যায় বাহন হিসেবে মোটরসাইকেল অনেক বেশি ঝুঁকিপূর্ন।
  • অন্য যানবাহনের তুলনায় মোটরসাইকেল অনেক ছোট একটি বাহন। এর সিটিং পজিশন, বসার স্থান ও প্যাসেঞ্জার নেয়ার ক্যাপাসিটি অনেক সীমিত। তার উপর মোটরসাইকেল সেভাবে কোন স্টোরেজ বা ক্যারিং ক্যাপাসিটিও নেই বা বলা যায় কিছু নেয়ার বা রাখার স্টোরেজ ক্যাপাসিটিও অনেক সীমিত।
  • যেহেতু ডাইমেনশন, মানে দৈর্ঘ্য প্রস্থের দিক থেকে অন্য যানবাহনের চেয়ে মোটরসাইকেল কিছুটা ছোট, তাই রাস্তায় এটি নজরে খুব কম আসে। অপর দিকে হাইওয়েতে অন্যান্য যানবাহনের চেয়ে মোটরসাইকেল খুব বেশি নজরে আসে না, কারণ ছোট বাহন হবার কারণে এর ভিজিবিলিটি অনেক কম হয়ে থাকে। যেহেতু এর ভিজিবিলি কিছুটা কম সেই দিক থেকে এর ঝুঁকি কিছুটা বেশি বলা যায়।
  • গাড়ি বা চার চাকার বাহনের মত মোটরসাইকেলে কভার বা ছাদ নেই; এখানে রাইডার কে সরাসরি খারাপ আবহওয়া এবং অনেক বিপদ আপদের সম্মুখীন হতে হয়। আবহওয়ার ক্ষেত্রে রাইডার কে বৃষ্টি, ঝড়, ঠান্ডা, তুষারপাত, এবং এমন কি অনেক গরমের সম্মুখীন হতে হয়। এছাড়া ধুলোবালি, কাদা-ময়লা এবং সূর্যের গরম রোদের সম্মুখীন প্রতিদিন ই করতে হয়।
  • মোটরসাইকেল রাইড করার ক্ষেত্রে একদম কম করে হলেও কিছু সেফটি গার্ড মেইন্টেইন করা দরকার বা পরা উচিত। এছাড়া আবহওয়া ও পরিবেশ অনুযায়ী রাইডার কে বৃষ্টির জন্য আলাদা, ঠান্ডার জন্য আলাদা, অথবা গরমের জন্য আলাদা সেফটি গিয়ার বা কাপড় পরা উচিত। অপর দিকে অন্যান্য যানবাহনের ক্ষেত্রে চালকদের অতিরিক্ত কোন গিয়ার পরতে হয় না।
  • মোটরসাইকেল এর ক্ষেত্রে বেশির ভাগ সুইচ, গিয়ার্স এবং কন্ট্রোলিং এর অন্যান্য যন্ত্রাংশ খোলাই থাকে মানে হচ্ছে সব কিছুই দেখা যায় এমন। তো এগুলোতে ধুলো ময়লা পানির সংস্পর্শের আসার কারণে দ্রুত নষ্ট হয়, যা অন্য কোন যানবাহনে হয় না। তাই মোটরসাইকেল এর মেইন্টেনেন্স এর দরকারও হয় অনেক বেশি।
  • যদিও মোটরসাইকেল অনেক ছোট একটি বাহন তবুও এটি রাইড করার জন্য অনেক বেশি অভিজ্ঞতা, দক্ষতা ও মনোযোগের দরকার। মোটরসাইকেল এর জন্য আলাদা ভাবে ড্রাইভিং লাইসেন্স এর প্রয়োজন হয়ে থাকে।

এই ছিল মোটরসাইকেল রাইড করার কিছু অসুবিধা। তবে রাইড করার সুবিধা রয়েছে। আসলে প্রতিটি বাহনের সুবিধা ও অসুবিধা রয়েছে। এটা আপনার উপর নির্ভর করে থাকে যে আপনি কোনটি বেশি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করবেন।

We will be happy to hear your thoughts

Leave a reply

BikeBD
Logo