এবার জেনে নিন মোটরবাইকের টায়ারের আসল বয়স এবং টায়ার ক্রয়ের সময় যে বিষয় মাথায় রাখা দরকার

মোটরবাইকের টায়ার বাইকের খুবই একটা গুরুত্বপূর্ণ অংশ । তাই , মোটরবাইকের টায়ারের সম্পর্কে সবার ভালভাবে জানা উচিৎ । এখন আমাদের টপিক হল টায়ারের উৎপাদন তারিখ সম্পর্কে । টায়ার কবে , কোথায় উৎপন্ন হয়েছে সেটা সবারই জানা উচিৎ । আর এটা জানার পদ্ধতিটাও খুবই সহজ । যেরকম সকল প্রোডাক্টেরই বডিতে একটা সিরিয়াল নম্বর বা উৎপাদন তারিখ থাকে , ঠিক তেমনভাবেই বাইকের টায়ারের ক্ষেত্রেও একটা আইডেন্টিফিকেশন নম্বর থাকে । এই আইডেন্টিফিকেশন নম্বর হল টায়ারটি কবে , কোন সপ্তাহে বা কোন বছর উৎপাদিত হয়েছে তার একটা প্রতীক বা চিহ্ন । তো , আমরা আজ দেখব কীভাবে এই আইডেন্টিফিকেশন নম্বর ইউজ করে বা দেখে আমরা…

Review Overview

User Rating: 2.8 ( 2 votes)

মোটরবাইকের টায়ার বাইকের খুবই একটা গুরুত্বপূর্ণ অংশ । তাই , মোটরবাইকের টায়ারের সম্পর্কে সবার ভালভাবে জানা উচিৎ । এখন আমাদের টপিক হল টায়ারের উৎপাদন তারিখ সম্পর্কে । টায়ার কবে , কোথায় উৎপন্ন হয়েছে সেটা সবারই জানা উচিৎ । আর এটা জানার পদ্ধতিটাও খুবই সহজ । যেরকম সকল প্রোডাক্টেরই বডিতে একটা সিরিয়াল নম্বর বা উৎপাদন তারিখ থাকে , ঠিক তেমনভাবেই বাইকের টায়ারের ক্ষেত্রেও একটা আইডেন্টিফিকেশন নম্বর থাকে । এই আইডেন্টিফিকেশন নম্বর হল টায়ারটি কবে , কোন সপ্তাহে বা কোন বছর উৎপাদিত হয়েছে তার একটা প্রতীক বা চিহ্ন । তো , আমরা আজ দেখব কীভাবে এই আইডেন্টিফিকেশন নম্বর ইউজ করে বা দেখে আমরা কোন টায়ারের উৎপাদন তারিখ বা বছর জানতে পারি । তো চলুন , আজ আমরা এই বিষয়ের উপর একটা অলোচনা করি ।

tourino tyres

ইউএস ডিপার্টমেন্ট অফ ট্রান্সপোর্ট (DOT) এবং ন্যাশনাল হাইওয়ে ট্রাফিক সেফটি এডমিনিস্ট্রেশন এই টায়ারের আইডেন্টিফিকেশন নম্বর চালু করে । এটার নিয়ম হল , এই আইডেন্টিফিকেশন নম্বর হবে DOT এবং ১১-১২ টি লেটার বা নম্বর যেটা টায়ারের উৎপাদন স্থান , তারিখ , বছর সপ্তাহ , টায়ারের সাইজ ইত্যাদি নির্দেশ করবে । এর ভেতর আবার বিভিন্ন সাল থেকে বিভিন্ন ভাবে প্রকাশ করা হয় । সেটা আমরা জেনে নিই ।

যেসব টায়ার ২০০০ সালের পর উৎপাদিত :

২০০০ সারের পর যেসব টায়ার উৎপাদন হয়েছে তাদের উৎপাদনের সপ্তাহ এবং বছর আইডেন্টিফিকেশন নম্বরের শেষ চারটি কোড দ্বারা বোঝা যায় । শেষ ৪ ডিজিটের ২ ডিজিট দ্বারা উৎপাদন সপ্তাহ এবং অন্য ২ ডিজিট দ্বারা উৎপাদন বছর হিসাব করা হয় । এর ভেতর একদম শেষের ২ টা ডিজিট বছর নির্ধারণ করে আর তার আগের ২ টা ডিজিট সেই বছরের কোন সপ্তাহে টায়ার উৎপাদিত হয়েছে সেটা নির্দেশ করে ।

 

tire age

 

নীচের ছবির উদাহরণটা হল ২০০০ সালের পর উৎপাদিত টায়ারের আইডেন্টিফিকেশন কোড বা নম্বর ।

উপরের উদাহরণের কোডটা হল: DOT U2LL LMLR 5107 । 51 : বছরের ৫১তম সপ্তাহে টায়ারটি তৈরী করা হয়েছে । 07 : ২০০৭ সালে টায়ারটি তৈরী হয়েছে

 যেখানে আগে বাইকের টায়ারের এক সাইডে শুধু টায়ারের পুরো আইডেন্টিফিকেশন নম্বর লেখা থাকত , এখন নতুন নিয়মে টায়ারের অপর পাশেও শুধুমাত্র DOT এবং আইডেন্টিফিকেশন নম্বরের প্রথম অংশটুকু লেখা থাকে । সে কারণে প্রথমে যেকোন এক সাইডে দেখলে আপনি হয়ত অসম্পূর্ণ আইডেন্টিফিকেশন নম্বরটা দেখতে পারেন , তাই তখন টাযারের অপর সাইডেও আইডেন্টিফিকেশন নম্বরটা চেক করে দেখুন ।

Another Side

উপরের চিত্রে যেমন টায়ারের একপাশে অসম্পূর্ণ আইডেন্টিফিকেশন নম্বর দেখছেন , এটা সপ্তাহ বা বছর এর কোড ছাচে ফেলে তৈরী করার সময় টেকনিশিয়ানের ইনজুরির ঝুকি কমিয়ে দেয় ।

২০০০ সালের আগে উৎপাদিত টায়ার :

২০০০ সালের আগে উৎপাদিত টায়ারগুলো ক্ষেত্রে নিয়ম ছিল যে, টায়ারগুলো ১০ বছরের বেশী ইউজ করা যাবে না । তাই ওই টায়ারগুলোর আইডেন্টিফিকেশন নম্বর ও সেই ভাবে জেনারেট করা হয়েছে । কিন্তু , সেই টায়ারগুলোও বতূমান টায়ারগুলোর মত সেম ইনফরমেশন প্রোভাইড করে । তবে , এর উৎপাদন সাল বা সপ্তাহ আইডেন্টিফিকেশন কোডের শেষ তিনটি ডিজিট দ্বারা বোঝানো হয় । এই টায়ারের ক্ষেত্রে টায়ারটি কোন দশকের কোন বছরে উৎপন্ন হয়েছে সেটা শুধু আইডেন্টিফিকেশন কোডের লাস্ট একটা ডিজিট দ্বারা বোঝানো হয় , এবং তার আগের দুটি ডিজিট দ্বারা সেই বছরের কোন সপ্তাহে টায়ারটি উৎপন্ন হয়েছে সেটা বোঝানো হয় ।

নীচের ফটোটি ২০০০ সালের আগে উৎপাদিত টায়ারের আইডেন্টিফিকেশন নম্বরের একটা উদাহরণ :

উপরের উদাহরণের কোডটি: DOT EJ8J DFM 408 । 40 : বছরের ৪০ তম সপ্তাহে টায়ারটি তৈরী হয়েছে । 8 : কোন দশকের অষ্টম বছরে টায়ারটি তৈরী হয়েছে ।

এই ক্ষেত্রে ২০০০ সালের আগের মোটরবাইকের টায়ারের ক্ষেত্রে টায়ারটি কোন দশকের কোন সালে উৎপাদিত হয়েছিল সেটা বোঝা সম্ভব , কিন্তু , সেটা নির্দিষ্ট কোন দশকে উৎপাদন করা হয়েছে বা নির্দিষ্ট কোন সালে উৎপাদন করা হয়েছে সেটা বোঝা সম্ভব নয়।

মোটরবাইকের চাকা সম্পর্কে বিস্তারিত এবং চাকার ফুল এবং ফাইনাল মেইনটেইন্স 

 

tubeless tires bangladesh

 

এখন , সবশেষে আপনার টায়ার কেনার বিষয়ে আসা যাক । বেশীরভাগ টায়ার ম্যানুফ্যাকচার কোম্পানী টায়ার কেনার পর থেকে ৪ বছর অথবা তাদের উৎপাদন সপ্তাহ থেকে ৫ বছর ওয়ারেন্টি দিয়ে থাকে । এখন , আপনি যদি ২ বছর আগে তৈরী হওয়া কোন টায়ার কিনে থাকেন , তাহলে আপনি টোটাল কোম্পানীর কাছ থেকে ৬ বছরের ওয়ারেন্টি পেয়ে যাবেন যদি আপনি কেনার রশিদ ঠিক মত রাখতে পারেন । আর আপনি যদি রশিদ হারিয়ে ফেলেন তাহলে কোম্পানীর নিয়ম অনুযায়ী আপনি টোটাল ৩ বছর ওয়ারেন্টি পাবেন , কারন কোম্পানী তাদের উৎপাদন সপ্তাহ থেকে ৫ বছর পর্যন্ত ওয়ারেন্টি দিয়ে থাকে ।

তাই , টায়ার কেনার আগে যে টায়ারগুলো রিসেন্টলি তৈরী হয়েছে এমন টায়ার কিনুন । আপনার রশিদ হারিয়ে গেলেও আপনি অনেক বেশী সময় ওয়ারেন্টি ভোগ করতে পারবেন।

About শুভ্র সেন

সবাইকে শুভেচ্ছা । আমি শুভ্র,একজন বাইকপ্রেমী । ছোটবেলা থেকেই মোটরসাইকেলের প্রতি আমার তীব্র আগ্রহ রয়েছে । যখন আমি আমার বাড়ির আশেপাশে কোন মোটরসাইকেলের ইঞ্জিনের শব্দ শুনতে পেতাম, আমি তৎক্ষণাৎ মোটরসাইকেলটি দেখার জন্য ছুটে যেতাম ।২ বছর ধরে গবেষণা ও পরিকল্পনার পর আমি এই ব্লগটি তৈরী করি । আমার লক্ষ্য হল বাইক ও বাইক চালানো সম্পর্কে বাংলাদেশের মানুষের কাছে সঠিক তথ্য পৌঁছে দেয়া । সবসময় নিরাপদে বাইক চালান । আপনার বাইক চালানো শুভ হোক

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*