বাইক রাইডিং সম্পর্কে ৭ টি ভুল ধারণা ও আসল তথ্য

বাংলাদেশে বাইকারদের ভেতর অনেক ধরণের ভুল ধারণা দেখা যায় । অনেকে বাইক রাইডিং বা বাইকের বিভিন্ন ব্যাপারে অনেক ভুল মতামত দিয়ে থাকেন। কিন্তু এ্ই ধারণাগুলো মূললত কোন কাজেই আসে না এবং এইসব ধরণার কোন ভিত্তিও নেই । আর এমন কিছু প্রচলিত ভুল ধারণা নিয়েই আজকের এই পোষ্ট। আমরা আজ বাইক সম্পর্কে প্রচলিত বিভিন্ন ভুল ধারণা গুলো খখুজে বের করার চেষ্ট করেছি এবং সেটার সম্পর্কে সঠিক তরথ্য আপনাদের সামনে তুলে ধরছি। এক্সিডেন্টের সময় আপনার বাইক ছেড়ে দেওয়া উচিৎ বাইক এক্সিডেন্টের সময় বাইক থেকে লাফ দেওয়া বা বাইক এর কন্ট্রোল ছেড়ে দেওয়া অনেকে সাজেস্ট করে থাকেন । কিন্তু , এটা সম্পূর্ণ একটা…

Review Overview

User Rating: 4.75 ( 2 votes)

বাংলাদেশে বাইকারদের ভেতর অনেক ধরণের ভুল ধারণা দেখা যায় । অনেকে বাইক রাইডিং বা বাইকের বিভিন্ন ব্যাপারে অনেক ভুল মতামত দিয়ে থাকেন। কিন্তু এ্ই ধারণাগুলো মূললত কোন কাজেই আসে না এবং এইসব ধরণার কোন ভিত্তিও নেই । আর এমন কিছু প্রচলিত ভুল ধারণা নিয়েই আজকের এই পোষ্ট। আমরা আজ বাইক সম্পর্কে প্রচলিত বিভিন্ন ভুল ধারণা গুলো খখুজে বের করার চেষ্ট করেছি এবং সেটার সম্পর্কে সঠিক তরথ্য আপনাদের সামনে তুলে ধরছি।

বাইক রাইডিং সম্পর্কে ৮ টি ভুল ধারণা ও আসল তথ্য

এক্সিডেন্টের সময় আপনার বাইক ছেড়ে দেওয়া উচিৎ

বাইক এক্সিডেন্টের সময় বাইক থেকে লাফ দেওয়া বা বাইক এর কন্ট্রোল ছেড়ে দেওয়া অনেকে সাজেস্ট করে থাকেন । কিন্তু , এটা সম্পূর্ণ একটা ভ্রান্ত ধারণা । কারণ , এক্সিডেন্টের সময় রাইডার ডিসিশনই নিতে পারেন না যে কী করতে হবে । ফলে এমন ভুলভাল কাজ করাটাও তার পক্ষে সম্ভব হয় না । আর কোন রাইডার এটা করলেও বিপদের সম্ভাবনা আরও বেড়ে যায় । তাই , এই কাজটা ভুলেও করবেন না । শেষ পর্যন্ত আপনার বাইককে কন্ট্রোল করতে চেষ্টা করুন । বাইকের দুইটা ব্রেক একসাথে ধরে বাইককে থামাতে চেষ্ট করে যান । কিন্তু , বাইকের কন্ট্রোল ছেড়ে দিয়ে নিজে বাচার চেষ্ট করলে বিপদের সম্ভাবনা আরও বেড়ে যায় ।

রেস টায়ারগুলো আপনাকে রোডে আরও ভাল পারফরমেন্স দিবে

.অনেকে এই কথাটা বলে থাকে । কিন্তু আসল কথা হল রেসিং এর জন্য যে টায়ারগুলো তৈরী হয় সেগুলো সম্পূর্ণ আলাদা এবং ভিন্ন সব উপাদান দিয়ে তৈরী হয় যাতে করে এই টায়ারগুলো প্রচন্ড গরম হয়ে গেলেও এর গ্রিপ ভাল থাকে । আপনি বাজারে রেস টায়ার পাবেন বলে মনে হয় না , আর পেলেও , সেটা আপনার বাইকে সেট করার পর আপনি সম্ভবত এটা রাইড করার সময় প্রথমবার পড়ে যেতে পারেন । তাই , বাইকে সবসময় রোড টায়ারই ইউজ করুন ।

এটা আমার সাথে কখনই ঘটবে না

অনেকে ভেবে থাকেন যে আমি যেহেতু এতদিন রাইডিং এর পরও এক্সিডেন্টের সম্মুখীন হইনি , তাই আমার এক্সিডেন্টের কোন সম্ভাবনা নেই । কিন্তু , আপনি যেকোন সময় এক্সিডেন্ট করতে পারেন । বরং যারা অনেকবার এক্সিডেন্ট করেছেন তারা এক্সিডেন্টের ওই ,ূহুর্ত গুলোর সাথে অনেক পরিচিত । তাই , তাদের এক্সিডেন্টের ঝুকি বরং কম থাকে । তাই , সবসময়ই সাবধানে রাইডিং করুন এবং মনে রাখবেন যে অন্যমনস্ক হলেই বা যেকোনভাবে কোন ত্রুটি ঘটলেই আপনি এক্সিডেন্ট করতে পারেন ।

ট্রাকশন কন্ট্রোল আপনাকে দ্রুত রাইডিং এ সাহায্য করবে

অনেকে মনে করে থাকেন যে বাইকের উপর অতিরিক্ত মনোযোগ দিলেই বেশী স্পীডে রাইডিং সম্ভব । এটার উত্তর হ্যা অথবা না যেকোন একটি হতে পারে । আপনি যদি কোন নতুন রাইডার হয়ে থাকেন তাহলে আপনার এটা অবশ্যই দরকার । কিন্তু আপনি কোন হার্ডকোর রাইডার হলে বাইকের প্রতি খুব বেশী মনোযোগ দিলে আপনার স্পীড কমে যেতেও পারে । আর আপনি যদি এই দুই ধরণের মধ্যবর্তী পর্যায়ে থাকেন তাহলে বাইকের প্রতি আপনাকে অবশ্যই সেফটির জন্য মনোযোগ দিতে হবে এবং বেশী স্পীডে বাইক রাইডিং এর প্রাকটিস করতে হবে ।

নতুন টায়ারগুলো একটা কোটিং এর সাথে আসে যেটা কয়েক মাইল কম প্রেশারে রাইড করলে রিমুভ করা যায়

অনেকে বলে থাকেন যে নতুন টায়ার লাগানোর পর কয়েক মাইল টায়ারের প্রেশার কমিয়ে রাইড করা উচিৎ কারণ , নতুন টায়ারগুলো এক ধরণের কোটিং সহ বাজারে আসে এবং সেটা তুলে ফেলার জন্য এটা করার দরকার । কিন্তু , এটা করলে আপনি নিশ্চিতভাবে কোন এক্সিডেন্টের সম্মুখীন হবেন এবং মারাও যেতে পারেন । টায়ারে যে কোটিং টা থাকে সেটা হল কোম্পানী থেকে টায়ারগুলো যে পাতে ফেলে তৈরী করা হয় তার দাগ । এর জন্য আপনাকে টায়ারের প্রেশার কমানোর কোনই দরকার নেই । বা , এই দাগগুলো তুলতে টায়ারের উপরের অংশে কোন ঘষা দেবারও কোন প্রয়োজন নেই ।

১৮-২৫ বছরের ছেলেদের এক্সিডেন্টের সম্ভাবনা সবখেকে বেশী

একটা ভুল ধারণা সবার ভেতর প্রচলিত আছে যে ১৮-২৫ বয়সী লোকজন বেশী পরিমাণে এক্সিডেন্ট করে থাকে । কিন্তু এটা একটা ভুল ধারণা । একটা জরিপে দেখা যায় যে আমেরিকাতে যেসব লোকজন মোটরসাইকেল এক্সিডেন্টে মারা যান তাদের একটা খুব বড় অংশ হল ৪০-৫৫ বছর বয়সের মানুষরা । NHTSA(National Highway Transport Safety Administration) একটা জরিপে দেখে যে , গত ১০ বছরে আমেরিকাতে যত লোক বাইক এক্সিডেন্টে মারা গেছে তাদের ভেতর ৪০% এর ই বয়স হল ৪২ বছর । তাই , এই ধারণা নিয়ে যদি আপনি বাইক রাইডিং বন্ধ করেন তাহলে এটা আপনার বোকামী ।

আপনি যদি সবসময় এক্সিডেন্টের কথা ভাবেন তাহলেই আপনি এক্সিডেন্ট করবেন

এটা একটা বোকামী ছাড়া আর কিছুই না । কারণ , আপনি যদি বাইক রাইডিং এর সময় সচেতন না থাকেন তাহলে যেকোন সময় আপনার একেসিএডন্টের ঝুকি রয়েছে । আপনার আশেপাশে কী ঘটছে বা কোন যানবাহন আছে কীনা এটা না লক্ষ্য করলে আপনি যেকোন সময় এক্সিডেন্ট করতে পারেন ।

About শুভ্র সেন

সবাইকে শুভেচ্ছা । আমি শুভ্র,একজন বাইকপ্রেমী । ছোটবেলা থেকেই মোটরসাইকেলের প্রতি আমার তীব্র আগ্রহ রয়েছে । যখন আমি আমার বাড়ির আশেপাশে কোন মোটরসাইকেলের ইঞ্জিনের শব্দ শুনতে পেতাম, আমি তৎক্ষণাৎ মোটরসাইকেলটি দেখার জন্য ছুটে যেতাম ।২ বছর ধরে গবেষণা ও পরিকল্পনার পর আমি এই ব্লগটি তৈরী করি । আমার লক্ষ্য হল বাইক ও বাইক চালানো সম্পর্কে বাংলাদেশের মানুষের কাছে সঠিক তথ্য পৌঁছে দেয়া । সবসময় নিরাপদে বাইক চালান । আপনার বাইক চালানো শুভ হোক

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*