মোটরসাইকেল চালানো শেখার নিয়ম । নতুনদের জন্য

আজকে আমার লেখাটি শুধু তাদের জন্য ই নয় যারা মোটরসাইকেল চালানো শেখার নিয়ম সম্পর্কে জানতে চাচ্ছেন , তাদের জন্য ও যারা এখনও মোটরসাইকেল চালানোর সময় মনে ভয় ভয় কাজ করে , এবং আপনি বড় ভাই হিসেবে আপনার ছোট ভাই যারা নতুন মোটর সাইকেল চালাচ্ছে তাদের ও এই লেখাটি পড়তে আমন্ত্রন জানাতে পারেন ।

মোটরসাইকেল চালানো শেখার নিয়ম

আমাদের অনেকেরই সখ মোটরসাইকেল চালানোর , কিন্তু অনেক সময় ই অনেকে নতুন মোটর সাইকেল চালাতে গিয়ে নানা রকম দুর্ঘটনার সামনা সামনি হয় । ঐ সব সমস্যা থেকে নিজেকে বিরত রাখতে আমরা কি কি করতে পারি তা নিয়েই আজ লিখবো।

মোটরসাইকেল চালানো শেখার নিয়মঃ

১ । আপনার বুন্ধর মোটরসাইকেল দিয়ে চালানো শিখা থেকে বিরত থাকুন । কারন সবার মোটরসাইকেল ই নিজের পছন্দের একটি জিনিস । আপনি চালানো শিখতে গিয়ে ডানে বায়ে পড়তে ই পারেন সাইকেল এর মতো । কিন্তু আপনার বন্ধুর মোটরসাইকেল টির একটু ক্ষতিগ্রস্ততা ই আপনার বন্ধুর সাথের আপনার সম্পর্কের একটু টানা পোরা তৈরি করতে পারে । তাহলে কি দরকার বন্ধুর সাথে সম্পর্ক টি হালকা করা । কিন্তু মামা , চাচা , বাবার , টা দিয়ে শিখতে পারেন।

বাইক চালানো শেখার টিপস

২। আপনি যদি মোটরসাইকেল চালানো শিখতে চান তাহলে যেকোনো একটি ড্রাইভিং স্কুল এ ভর্তি হয়ে যান । আপনার যে এলাকাতে সুবিধা হয় ঐ এলাকাতেই যান । কোথায় ভর্তি হবেন টা নিয়ে চিন্তা করবেন না । ড্রাইভিং স্কুল প্রায় সব গুলো ই এক ।

highway ride

৩। আচ্ছা ধরুন আপনি মোটরসাইকেল চালানো শিখলেন কিন্তু এখনি কি রাস্তায় নেমে যাবেন ?? না তেমন টি করবেন না । আগে নুনতম ১৫ দিন থেকে ১ মাস আপনার এলাকায় মোটরসাইকেল চালান , কোনও মহাসড়ক বা ঢাকার বড় রাস্তায় ওঠবেন না মোটরসাইকেল নিয়ে । নিজের এলাকায় ২০-৩৫ কিমি বেগে মোটরসাইকেল চালান ।

৪। আপনি যদি হটাত করে মহাসড়কে বা ঢাকার রাস্তায় ওঠেন , তাহলে আপনি ভয় পেয়ে যাবেন । কারন অন্যান্য যানবাহন গুলোর চালানোর সম্পর্কে ধারনা পেতে আপনাকে সময় লাগবে । আর যদি তারা হুড়ো করেন তাহলে অনাকাঙ্খিত দুর্ঘটনার জন্য প্রস্তুত থাকেন এবং অন্য কাউকে দুর্ঘটনায় ফেলতে প্রস্তুত থাকেন । কারন আপনার অজ্ঞতা আরেক জনের জন্য বিপদ ডেকে আনবে ।

৫। আচ্ছা ১ মাস হয়ে গেল , তা এখন কি করবেন ? টান দিয়ে হাই ওয়ে তে গিয়ে টপ স্পীড ওঠাবেন ??? নাকি ঢাকার বা শহরের ব্যাস্ত রাস্তায় নেমে শা শা করে মোটর সাইকেল চালাবেন ?? না কিছু ই করার প্রয়োজন নেই । আগামি ৩-৬ মাস এই ব্যাস্ত রাস্তায় ৪৫ কিমি গতি তে মোটর সাইকেল চালান । রাস্তা যতো ফাকা  হোক ৪৫ কিমি গতিতে মোটর সাইকেল চালান । দেখবেন আস্তে আস্তে আপনি এই  গতি তে আপনার মোটর সাইকেল সরবোচ্চ পরিমান নিয়ন্ত্রন বাড়বে । এবং আস্তে আস্তে আপনার আত্মবিশ্বাস বাড়বে । আপনি রাস্তার সকল যানবাহনের চাল চলন বুঝতে পারবেন ।

ride safe

যদি এই সময়ে মহাসড়কে ওঠেন তাহলে ৬০কিমি এর বেশী গতি তুলবেন না । কারন আপনি অভিজ্ঞতা ও আত্মবিশ্বাস বাড়ানোর জন্য ৪৫ কিমি গতি তে এতো দিন মোটর সাইকেল চালিয়েছেন । তাই হটাত আপনি ৬০ কি মি গতি নিয়ন্ত্রন করা আপনার জন্য কঠিন হয়ে যাবে ।
আর তাছাড়া মহাসড়কের গাড়ির চাল চলন সম্পর্কে আপনার অভিজ্ঞতা ও অনেক কম । তাই রাস্তা যতো ই ফাকা থাকুক গতি ৬০ কিমি এ ই রাখুন ।

৬। রাস্তায় যতো স্পীড ব্রেকার থাকবে সবগুলোতে ব্রেক ব্যাবহার করবেন , স্পীড ব্রেকার এর একদম পাশের একটু যে খালি জায়গা থাকা ঐ দিক দিয়ে টান দিবেন না । এই ছোট্ট স্পীড ব্রেকার দিয়ে ই আপনি মোটরসাইকেল চালানোর সময় আপনার ধৈর্যের পরীক্ষা নিতে পারেন । এই স্পীড ব্রেকারটির জন্য আপনার মোটরসাইকেল এর গতি কমাতে এবং ওটা পার হয়ে আবার আগের গতিতে যেতে ৮-১৫ সেকেন্ড লাগবে ।

মোটরসাইকেল রাইডিং স্কুল

কিন্তু যদি এই ১৫ সেকেন্ড ই ধৈর্য না ধরতে পারেন তাহলে কিভাবে ৪০ মিনিট বা ৫০ মিনিট এর পুরো যাত্রা টি আপনি ধৈর্য ধরে থাকবেন ?? মোটরসাইকেল চলানোর জন্য অনেক ধৈর্যের পরীক্ষা দিতে হয় , কারন আপনার ছোট্ট একটি দুর্ঘটনার ফলাফল টা ও আপনার শরীরের ওপর দিয়ে ই যাবে ।

আজ এই টুকই

এই বিষয়ের ওপর ২য় লেখাটি আমি খুব দ্রুত আপনারদের সামনে আনবো। আশাকরি তত দিন ভালো থাকবেন । বিডি মটো রাইডার্স এর পক্ষ থেকে আপনাদের প্রতি অভিনন্দন রইল ।

ধন্যবাদ সবাইকে ।

দেখুন আমার ২য় লেখাটি এখানে। 

Shafiqul Alam Fariaz

About শুভ্র সেন

সবাইকে শুভেচ্ছা । আমি শুভ্র,একজন বাইকপ্রেমী । ছোটবেলা থেকেই মোটরসাইকেলের প্রতি আমার তীব্র আগ্রহ রয়েছে । যখন আমি আমার বাড়ির আশেপাশে কোন মোটরসাইকেলের ইঞ্জিনের শব্দ শুনতে পেতাম, আমি তৎক্ষণাৎ মোটরসাইকেলটি দেখার জন্য ছুটে যেতাম ।২ বছর ধরে গবেষণা ও পরিকল্পনার পর আমি এই ব্লগটি তৈরী করি । আমার লক্ষ্য হল বাইক ও বাইক চালানো সম্পর্কে বাংলাদেশের মানুষের কাছে সঠিক তথ্য পৌঁছে দেয়া । সবসময় নিরাপদে বাইক চালান । আপনার বাইক চালানো শুভ হোক

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*