লিফান কেপিআর১৫০ ভার্স কেপিআর১৬৫-এফআই ভার্স কেপিআর১৬৫-কার্ব ফিচার রিভিউ

লিফান কেপিআর সিরিজটি বাংলাদেশে অন্যতম একটি সফল স্পোর্টসবাইক সিরিজ। এটি লিফান মোটরসাইকেল বাংলাদেশের ফ্ল্যাগশিপ মডেল। চায়নিজ এই মোটরসাইকেল ব্র্যান্ডটির অফিসিয়াল ডিস্ট্রিবিউটর রাসেল ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড, বিভিন্ন সময়ে সিরিজটির বিভিন্ন ভার্শন বাংলাদেশের বাজারে ছেড়েছে। ২০১৫ সাল থেকে শুরু তারা কেপিআর এর একাধিক আপডেটেড মডেল বাজারে এনেছে। সেইসূত্রেই আজ আমরা নিয়ে এসেছি লিফান কেপিআর১৫০ ভার্স কেপিআর১৬৫-এফআই ভার্স কেপিআর১৬৫-কার্ব ফিচার রিভিউ।

লিফান কেপিআর১৫০ ভার্স কেপিআর১৬৫-এফআই ভার্স কেপিআর১৬৫-কার্ব ফিচার রিভিউ

কেপিআর১৫০ ভার্স কেপিআর১৬৫-এফআই ভার্স কেপিআর১৬৫-কার্ব ওভারভিউ

লিফান কেপিআর, লিফান মোটরসাইকেলের একমাত্র স্পোর্টসবাইক সিরিজ। বাংলাদেশে RIL তথা রাসেল ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড, এপ্রিল, ২০১৫ থেকে বাজারে এই রেসিং সিরিজটির বাজারজাত কার্যক্রম শুরু করেছে। এখন অবধি তারা বাজারে কেপিআর সিরিজের একাধিক ভার্শন রিলিজ করেছে। বর্তমানে আমাদের বাজারে কেপিআরের তিনটি ভিন্ন ফিচারযুক্ত ভার্শন চলছে। আর সেইসূত্রেই ভার্শনগুলির তুলনামূলক ফিচার নিয়ে আমাদের আজকের আলোচনা।

লিফান কেপিআর সিরিজটি লুক, ডিজাইন, ও এ্যাপিয়ারেন্সের ক্ষেত্রে সবকটি ভার্শনেই এখন পর্যন্ত একই আইকনিক ডিজাইন ধারন করে। এমনকি সাধারন দৃষ্টিতে মডেলগুলির এক্সটেরিয়র ও ইরগনোমিক্সও প্রায় অপরিবর্তিত রয়েছে। তবে অবশ্যই সময়ের সাথে বিভিন্ন ভার্শনের ফিচার ও এক্সটেরিয়রে প্রয়োজনীয় ইম্প্রুভমেন্ট ও আপডেট এসেছে। এভাবেই কেপিআর এর বিভিন্ন ভার্শন নতুন নতুন ফিচার নিয়ে আপডেট হয়েছে এবং গ্রাহকদের বহুমুখী চাহিদায় খাপ খাওয়াতে সক্ষম হয়েছে।

তবে যদিও কেপিআর সব ভার্শনে প্রায় একই লুক ধারন করে তবুও লিফান কেপিআর১৫০ ভার্স কেপিআর১৬৫-এফআই ভার্স কেপিআর১৬৫-কার্ব এর আইডেনটিটি আলাদা। ভার্শনগুলির এক্সটেরিয়র গ্রাফিক্স এবং কালার-স্কিমগুলি এক নয়। সুতরাং তাদের উল্লেখযোগ্য ও ভিন্ন গ্রাফিক্যাল আইডেনটি রয়েছে। এছাড়াও নতুন ভার্শনগুলিতে একজষ্ট সেটআপেও বেশ পরিবর্তন এসছে। অপরদিকে তাদের পেছনের টায়ারের ডাইমেনশনেও উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।

এখানে, লিফান কেপিআর১৫০ মূলত: আগের মডেলের একজষ্ট সিস্টেমটিই ধারণ করেছে। তবে কেপিআর১৬৫-কার্ব এবং কেপিআর১৬৫-এফআই নতুন এক্সজাস্ট সিস্টেমযুক্ত। এছাড়াও কেপিআর১৬৫-এফআই নতুন ও ডেডিকেটেড ক্যাটালাইটিক কনভার্টারযুক্ত। তবে সবমিলিয়ে বাকি অন্যান্য ডিজাইনে সবগুলো ভার্শনের কেপিআর এর লুক মূলত: একই।

লিফান কেপিআর১৫০ ভার্স কেপিআর১৬৫-এফআই ভার্স কেপিআর১৬৫-কার্ব ফিচার রিভিউ

ফ্রেম, হুইল, ব্রেক ও সাসপেনশন সিষ্টেম

কেপিআর সিরিজটির বিভিন্ন মডেল এমনকি বাংলাদেশে আসা সমস্ত ভার্শনই ডিজাইনে আইকনিক রয়ে গেছে। ফলে তাদের ফ্রেম ডিজাইন এবং ডাইমেনশনও সব মডেলে প্রায়ই একই।  সেইসূত্রে মডেলগুলির হুইল, ব্রেক এবং সাসপেনশন সিস্টেম সবই একই রকম রয়ে গেছে। তবে অবশ্যই নতুন ভার্শনগুলিতে প্রয়োজনীয় কিছু ফিচার যুক্ত হয়েছে ও প্রয়োজনীয় আপগ্রেড করা হয়েছে।

সাধারনভাবে কেপিআর এর হুইল সেটআপে সব মডেলেই অ্যালুমিনিয়াম অ্যালয়-রিম ও টিউবলেস টায়ার রয়েছে। সবকটি মডেলেই রয়েছে সামনে 90/90-17 সাইজের চাকা।  তবে নতুন মডেলগুলিতে পেছনের চাকা আগের মডেল থেকে চওড়া করা হয়েছে।  কেপিআর১৫০ তে পেছনে রয়েছে 120/80-17 সাইজ চাকা। তবে কেপিআর১৬৫-কার্ব এবং কেপিআর১৬৫-এফআই মডেলে পেছনের চাকা 130/80-17 সাইজে আপগ্রেড করা হয়েছে।

কেপিআর এর ব্রেক এবং সাসপেনশনের ক্ষেত্রে, বাংলাদেশের বাজারের সব মডেলই একইধরনের ব্রেক এবং সাসপেনশন সেটআপ রয়েছে। বাইকগুলির উভয় চাকাতেই সাধারণভাবে হাইড্রোলিক ডিস্কব্রেক সেটআপ দেয়া হয়েছে। সব মডেলই সামনে একই ধরণের 37মিমি টেলিস্কোপিক ফর্ক-সাসপেনশন এবং পেছনে মনো-সাসপেনশন ধারন করে। তবে উল্লেখ্য যে, সব মডেলেই পেছনের সাসপেনশনটি এ্যাডজাষ্টেবল টাইপ।

লিফান কেপিআর১৫০ ভার্স কেপিআর১৬৫-এফআই ভার্স কেপিআর১৬৫-কার্ব ইঞ্জিন ফিচার

লিফান কেপিআর সিরিজটি মূলত: এর চমৎকার ইঞ্জিন পাওয়ার ও পারর্ফম্যান্সের পাশাপাশি চমৎকার লুক ও ডিজাইনের কারনে অত্যন্ত জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে। ফলে ধারাবাহিকভাবে লিফান কেপিআর১৫০ ভার্স কেপিআর১৬৫-এফআই ভার্স কেপিআর১৬৫-কার্ব মডেলে ইঞ্জিন ও অন্যান্য টেকনিক্যাল সাইডে আপডেট এসেছে।

তবে সাধারণভাবে, আলোচ্য তিনটি মডেলই একই ধরণের সিঙ্গেল-সিলিন্ডার, ফোর-স্ট্রোক, ওয়াটার-কুলড, ২-ভালভ, এসওএইচসি ইঞ্জিনযুক্ত। আর সবকটি মডেলের ইঞ্জিনই রিটার্ন টাইপ ৬-স্পিড ট্রান্সমিশন এবং ইলেকট্রিক-স্টার্ট ফিচারযুক্ত। তবে পার্থক্য রয়েছে ইঞ্জিনগুলির সিলিন্ডার ডিসপ্লেসমেন্ট ও ফুয়েল ফিডিং সিস্টেমে। আর সেইসাথে নতুন ভার্শনে ইঞ্জিন-ট্যুইকিং, গিয়ার মেকানিজম, এবং একজষ্ট সিষ্টেম আপগ্রেড করা হয়েছে।

তো কেপিআর১৫০ ভার্শনটি একটি কার্বুরেটর ফুয়েল-ফিডিং ফিচারের ১৫০সিসি ইঞ্জিনযুক্ত। এটি 14.8BHP@8,500RPM পাওয়ার এবং 14NM@6,500RPM এর টর্ক রেটিংযুক্ত। আর অপরদিকে কেপিআর১৬৫-কার্ব এবং কেপিআর১৬৫-এফআই ভার্শনে রয়েছে ১৬৫সিসির নতুন NBF-2 ইঞ্জিন। তবে মডেলদুটিতে যথাক্রমে কার্বুরেটর ও ইএফআই ফুয়েল ফিডিং সিস্টেম দেয়া হয়েছে। এগুলি সর্বোচ্ছ 16.8BHP @ 8,000RPM পাওয়ার এবং 17NM @ 6,500RPM টর্ক ডেলিভারী দিতে পারে।

লিফান কেপিআর১৫০ ভার্স কেপিআর১৬৫-এফআই ভার্স কেপিআর১৬৫-কার্ব ফিচার রিভিউ

তো বন্ধুরা, লিফান কেপিআর এর ইঞ্জিনের ক্ষমতা এবং পারফরম্যান্স ফিগারগুালি সম্পর্কে আলোচনার পর প্রশ্ন আসে কেপিআর এর কোন ভার্শনটি আসলে কিরকম ফিচারের জন্যে? তো তাহলে বলতে হয়, কেপিআর১৫০ মূলত: নির্দিষ্ট বাজেটের মধ্যে পাওয়ার, এক্সিলারেশন, ও ফুয়েল ইকোনমির একটি চমৎকার সমন্বিত প্যাকেজ। বাইকটি কারবুরেটরযুক্ত হওয়ায় এমনকি খারাপ তেলেও এটি পারফর্ম করে যেতে পারে। আর পেছনে   120/80-17 সাইজের হুইল সেটআপসহ এর ব্রেক, কন্ট্রোলিংও এই সেগমেন্টে যথেষ্ট ভালো।

অপরদিকে কেপিআর১৬৫-কার্ব একটু বেশি ক্যাপাসিটির নতুন ও আপডেটেড NBF-2 ইঞ্জিনযুক্ত। ফলে বাইকটিতে পাওয়ার ও টর্ক উল্লেখযোগ্য পরিমানে বৃদ্ধি পেয়েছে। আর NBF-2 ইঞ্জিন হওয়ায় এটি তুলনামুলকভাবে আরো রিফাইনড ও পারফর্মেন্স ওরিয়েন্টেড। সেইসাথে ইঞ্জিনটির গিয়ার মেকানিজমও আপগ্রেড হয়েছে। তবে কার্বুরেটরযুক্ত হওয়ায় কেপিআর১৬৫-কার্ব এর ভালো দিক হলো এটি সচরাচর খারাপ ফুয়েলেও পারফর্ম করে যেতে পারে যেখানে ফুয়েলের সমস্যা এদেশে খুবই কমন। তবে কার্বুরেটর সেটিং ও ফুয়েলের মান অনুসারে বাইকটির ফুয়েল ইকনমিতে অবশ্যই এর প্রভাব পড়বে।

সবশেষে, কেপিআর১৬৫-এফআই, ১৬৫-কার্ব মডেলের মতোই একই NBF-2 ইঞ্জিনযুক্ত। তবে এতে নতুন ইলেকট্রনিক ফুয়েল-ইনজেকশন সিস্টেম, ডেডিকেটেড একজষ্ট ও ক্যাটালাইটিক কনভার্টার সেটআপ দেয়া হয়েছে। ফলে, কেপিআর১৬৫-এফআই মডেলটিতে ফুয়েল ইকোনমি ও পারফর্মেন্স ফিগার আরো পরিমার্জিত ও তুলনামূলকভাবে অনেকটাই স্থির। সেইসাথে এটির পাওয়ার ডেলিভারি, গিয়ার শিফটিং, সবই পরিশীলিত পারফরম্যান্সের জন্য ট্যুইক করা। তবে ভালো ও ধারাবাহিক পারফর্মেন্স পেতে হলে অবশ্যই এতে ভালো ফুয়েল ব্যবহার ও মেইনটেন্যান্সে  যত্নশীল হতে হবে। এটাই মূল বিষয়।

লিফান কেপিআর১৫০ ভার্স কেপিআর১৬৫-এফআই ভার্স কেপিআর১৬৫-কার্ব ফিচার রিভিউ

তো বন্ধুরা, এই ছিলো আমাদের আজকের লিফান কেপিআর১৫০ ভার্স কেপিআর১৬৫-এফআই ভার্স কেপিআর১৬৫-কার্ব ফিচার রিভিউ । আশা করি আমরা আপনাদের লিফান কেপিআর এর প্রতিটি ভার্শনের ফিচার ও পারফরম্যান্সের একটি স্পষ্টতর চিত্র দিতে পেরেছি। সুতরাং আপনার চাহিদা, প্রয়োজন, এবং রাইডিং প্যাটার্ণের উপর ভিত্তি করে আপনার পছন্দের মডেলটি বেছে নিন। ধন্যবাদ সবাইকে.

About Saleh Md. Hassan

আমি কোন বাতিকগ্রস্ত পথের খেয়ালী ধরনের নই…. তবে মোটরসাইকেল পছন্দ করি ও প্রয়োজনে ব্যবহার করি মাত্র…. কিছুটা ঘরকুনো বাধ্যগত চালক…. তবে মাঝে মাঝে নিজের ভেতরের যোগী-ভবঘুরে স্বত্তাকে মুক্তি দেই আমার দুইচাকার ঘোড়ার উপর চেপে বসে বিস্তৃত অদেখার পথে ছুটে যাবার জন্য…..অনেকটা বাঁধনহীন চির ভবঘুরের মতো…..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*