ইয়ামাহা এসজেড আরআর ভি২ ১৫০ টেস্ট রাইড রিভিউ

ইয়ামাহা বাংলাদেশের জাপানী মোটরসাইকেল ব্র্যান্ডের মধ্যে জনপ্রিয় ব্র্যান্ড । যদিও দামের দিক থেকে একটু বেশি । তবে প্রিমিয়াম বাইকের ক্ষেত্রে ইয়ামাহার ইনপ্রিয়তা সবচেয়ে বেশি । বর্তমানে আমরা তাদের যেসব প্রিমিয়াম বাইক দেখতে পাই তাদের মধ্যে ইয়ামাহা এফজেডএস এফ আই ভি২, ফেজার ও নতুন লঞ্চ করা ইয়ামাহা আর১৫ ভি৩ দেখতে পাই । তবে অনেকেই হয়ত বিশ্বাস করবেন না যে, ইয়ামাহা অনেক ভাল মানের কিছু কমিউটার বাইক তৈরি করেছে । যার মধ্যে ইয়ামাহা স্যালুটো অন্যতম । তবে বর্তমানে তারা নিয়ে এসেছে এসজেড আরআর ভি২। তাই আজ টিম বাইকবিডি আপনাদের জন্য নিয়ে এসেছি ইয়ামাহা এসজেড আরআর ভি২ ১৫০ টেস্ট রাইড রিভিউ । বাইকটির…

Review Overview

User Rating: 2.77 ( 9 votes)

ইয়ামাহা বাংলাদেশের জাপানী মোটরসাইকেল ব্র্যান্ডের মধ্যে জনপ্রিয় ব্র্যান্ড । যদিও দামের দিক থেকে একটু বেশি । তবে প্রিমিয়াম বাইকের ক্ষেত্রে ইয়ামাহার ইনপ্রিয়তা সবচেয়ে বেশি । বর্তমানে আমরা তাদের যেসব প্রিমিয়াম বাইক দেখতে পাই তাদের মধ্যে ইয়ামাহা এফজেডএস এফ আই ভি২, ফেজার ও নতুন লঞ্চ করা ইয়ামাহা আর১৫ ভি৩ দেখতে পাই । তবে অনেকেই হয়ত বিশ্বাস করবেন না যে, ইয়ামাহা অনেক ভাল মানের কিছু কমিউটার বাইক তৈরি করেছে । যার মধ্যে ইয়ামাহা স্যালুটো অন্যতম । তবে বর্তমানে তারা নিয়ে এসেছে এসজেড আরআর ভি২। তাই আজ টিম বাইকবিডি আপনাদের জন্য নিয়ে এসেছি ইয়ামাহা এসজেড আরআর ভি২ ১৫০ টেস্ট রাইড রিভিউ

sz rr v2 test ride ইয়ামাহা এসজেড আরআর ভি২

বাইকটির বেসড এডিশন কালার হচ্ছে ১৮৫,০০০/- টাকা, অপর দিকে এর ম্যাট গ্রীন কালার হচ্ছে ১৯০,০০০/- টাকা । ইয়ামাহা এর কমদামী বাইকের সেগম্যান্টের মধ্যে এই বাইকটি অনেক বেশি স্টাইলিশ । এছাড়া এর মাইলেজ এর দিক থেকেও অনেক ভাল ফিডব্যাক দেয় ।

ইয়ামাহা এসজেড আরআর ভি২ ১৫০ – ইঞ্জিন ও পারফর্মেন্স

এই বাইকটিতে একদম সেম ইঞ্জিন ব্যবহার করা হয়েছে, যা মুলত ব্যবহৃত হচ্ছে ইয়ামাহা এফজেডএস এফআই ভি২ বাইকের । তবে ফুয়েল সাপ্লাই সিস্টেমটা কার্বুরেট । এর ইঞ্জিন থেকে প্রায় ১১.৯ বিএইচপি @ ৭৫০০ আরপিএম এবং ১২.৮ এনএম টর্ক @ ৬০০০ আরপিএম পর্যন্ত ক্ষমতা উতপন্ন করতে পারে । বাইকটিতে কিক এবং সেলফ দু ধরনের স্টার্ট সিস্টেম রয়েছে ।

yamaha sz-rr v2 review engine

ইয়ামাহা এই বাইকের ইঞ্জিনে ব্যবহার করেছে ব্লু কোর টেকনোলজি, যা রাইডিং স্মুথ হয় বরং এর কারনে ফুয়েল ইফিশিয়েন্সি ও বেরে যায় । বাইকটি টেস্ট রাইড করার সময় আমরা প্রায় ৪২ কিমি প্রতি লিটার পেয়েছি শহর এলাকায় এবং হাইওয়েতে পেয়েছি ৪৫ কিমি প্রতি লিটার । যদিও বাইকটি স্পিডের জন্য নয় তবে আমরা ১০৫ কিমি প্রতি ঘন্টায় স্পিড তুলতে সক্ষম হয়েছি ।

বাইকটি হাই আরপিএম এ কিছুটা শব্দ করে, তবে হাই আরপিএম এর ইঞ্জিন একটুও ভাইব্রেট করে না । কিন্তু আপনি একটু ভাইব্রেশন অনুভব করবেন যখন আপনি ৭০০০ আরপিএম ক্রস করবেন । এই ভাইব্রেশন আপনি অনেক স্পিড থাকাকালীন সময়ে ম্যানেজ করে নিতে পারবেন । একটি কমিউটার মোটরসাইকেলের জন্য এর এক্সেলারেশন অনেক ভাল ।

<<<<Yamaha FZS FI Test Ride Review >>>>

ইয়ামাহা এসজেড আরআর ভি ১৫০ – ফিচার্স ও স্টাইল

এই বাইকটি ওজনে হালকা এবং ড্রাই ওয়েট হচ্ছে মাত্র ১২৫কেজি । এর ফুয়েল ট্যাঙ্ক এ প্রায় ১৪ লিটার ফুয়েল নেয়া যায় । এই বাইকটি ইয়ামাহা এর ১৫০ সিসি কমিউটার সেগম্যান্টের বাইক । এর হেডলাইট হচ্ছে হ্যালোজেন এবং এর সাথে এএইচও দেয়া হয়েছে । বাইকটিতে স্পিডোমিটার সম্পূর্ন এনালগ রেভ কাউন্টার, স্পিডোমিটার ও ফুয়েল গেজ দেয়া হয়েছে । তবে কোন ট্রিপ মিটার দেয়া নেই ।

সুইচ কোয়ালিটি ও দারুন; এই সুইচ গুলো ব্যবহৃত হয়েছে ইয়ামাহা এফজেডএস এফআই ভি২ বাইকে । আমার ২০০০কিমি টেস্ট রাইডে কালার নিয়ে কোন ইস্যু পাইনি । হ্যান্ডেলবার বেশি প্রশস্ত নয় আর এর টার্নিং রেডিয়াসও অনেক ভাল । যেহেতু বাইকটি স্লিম তাই আপনি ট্রাফিকে খুব সহজেই পার করতে পারবেন, এছাড়া এর টার্নি রেডিয়াসের কারনে খুব সহজে বিভিন্ন এঙ্গেল দিয়ে বের হয়ে যেতে পারবেন ।

sz rr price in bangladesh

>>See The Latest Price of  Yamaha SZ-RR V2<<

পিলিয়ন সিট বেশ আরামদায়ক এবং পিছনে বসার জন্য গ্রেইব রেইল দেয়া হয়েছে, যাতে লং রাইডের সময় আরাম করে বসা যায় । সিট অনেক বড় ও প্রশস্ত, তাই লং রাইডে বেশ আরামদায়ক । আমি বাইকটি অনেক ধরনের রোডে রাইড করেছি শহর এবং হাইওয়েতে, এর সাসপেনশন আমাকে ভাল ফিডব্যাক দিয়েছে । বাইকটিতে স্ট্যান্টডার্ড শারি গার্ড ও চেইন কভার দেয়া হয়েছে । মাড গার্ড অনেক বেশি প্রশস্ত যার কারনে রাইড ও পিলিয়নের পা কাদা ও ধুলাবালি থেকে রক্ষা পায় ।

ইয়ামাহা কোন সাধারন মোটরসাইকেল তৈরি করেনি । বাইকটি পেশিবহুল শার্প এজড এবং ফুয়েল টাংকের দুই পাশে এয়ার স্কুপ দেয়া হয়েছে । ইয়ামাহা বাইকটিতে স্টাইলিং এর ক্ষেত্রে কোন ভুল করেনি ।

yamaha sz rr v2 price bd

ইয়ামাহা এসজেড আরআর ভি২ ১৫০ – ব্রেক ও সাসপেনশন

সামনের দিকের ইয়ামাহা ব্যবহার করেছে ২৪৫মিমি নিশিন ক্লিপার ডিস্ক ব্রেক । রেয়ার ব্রেক হচ্ছে ড্রাম ব্রেক । আমার উচ্চতায় নিয়েও আমি খুব সহজেই রাইড করেছি । এছাড়া এর গ্রাউন্ড ক্লিয়ারেন্স অনেক ভাল । পিলিয়ন নিয়েও অনেক সহজেই রাইড করা যায় ।

আমার কাছে বাইকের সবচেয়ে বেস্ট পার্ট মনে হয়েছে এর সাসপেনশন । তারা ফ্রন্টে টেলিস্কোপিক সাসপেনশন ব্যবহার করেছে । অপরদিকে রেয়ার সাসপেনশন হচ্ছে ১০০মিমি লাইট ওয়েট স্প্রিং কয়েল সাসপেনশন । এর ব্রেক ও ব্যালেন্স এর কারনের ১০০ সেকশন টায়ার নিয়েও এই বাইকটি তার ব্যালেন্স এ তেমন সমস্যা হয় না ।

yamaha sz rr v2 brake

তবে ইয়ামাহা কে ধন্যবাদ যে তারা এলয় হুলইস ও টিউবলেস টায়ার দিয়েছে । প্রথম ৫০০ – ৬০০ কিমি রেয়ার সাসপেনশন কিছুটা হার্ড পাবেন । তবে ধীরে ধীরে সময়ের সাথে সাথে সাসপেনশন আপনাকে ভাল ফিডব্যাক দেবে ।

যদিও বাইকটি একটি কমিউটার মোটরসাইকেল, তবে ইয়ামাহা এর বিল্ড কোয়ালিটি ভাল করার জন্য অনেক সময় নিয়ে বাইকটি তৈরি করেছে । এই প্রাইস রেঞ্জ এ বিল্ড কোয়ালিটি কালার এবং ফিনিশিং অনেক দারুন হয়েছে ।

<<<Click Here For Yamaha R15 V3 Test Ride Review>>>

ইয়ামাহা এসজেড আরআর ভি ২ ১৫০ – রাইডিং অভিজ্ঞতা

এই বাইকটিতে সিটি রাইড করার অনেক মজার ও আনন্দদায়ক । আপনি খবু সহজেই রাস্তার ট্রাফিকের মধ্যে দিয়ে চলাচল করতে পরবেন এবং সাসপেনশনের কারনে অনেক খারাপ রাস্তায়ও পিলিয়ন নিয়ে রাইড করার সময় ভাল ফিডব্যাক পাবেন । এছাড়া এর গ্রাউন্ড ক্লিয়ারেন্স আপনাকে অনেক বেশি হেল্প করবে ।

টায়ারের গ্রিপ যদিও সেভাবে বেস্ট নয়, তবে আমার ফ্রন্ট ডিস্ক এর ব্যাপারে অভিযোগ আছে । হ্যা এটা সত্যি যে বাইকটির ডিস্ক ব্রেকের ক্ষেত্রে কোন ভুল নেই । তবে আমি আশা করেছিলাম এই প্রাইস রেঞ্জে ইয়ামাহা ডুয়েল ডিস্ক ব্রেক দিতেই পারত । ব্রেকিং এর ব্যালেন্স ৯০কিমি প্রতি ঘন্টা পর্যন্ত ভাল ই থাকে এর উপর চলে গেলে আপনি আত্মবিশ্বাস হারাতে পারেন ।

sz rr v2 bd

রেয়ার ব্রেক হচ্ছে ড্রাম ব্রেক এর ফিডব্যাক ও বেশ ভাল । তবে ঠিক ভাবে এডজাস্ট করা না হলে এটি কিছুটা হার্ড মনে হবে । টায়ার গুলো যদিও চিকন তবে আপনি সিটি বা হাইওয়েতে রাইড করার সময় ভাল ফিডব্যাক পাবে কারন এর সাসপেনশন ও চেসিস এর সকল সম্বনয় দারুন ভাবে একে ব্যালেন্স করেছে । টিউবলেস টায়ার হওয়ার কারনে আপনি ঝামেলাহীন ভাবে হাইওয়ে রাইড করতে পারবেন ।

আপনি হাই স্পিড কর্নারিং করতে পারবেন । হেড লাইট হচ্ছে হ্যালোজেন, তবে আমরা বলব আপনি ভাল মানের কোন ইউনিট বাল্ব ব্যবহার করুন ।

yamaha sz rr v2 bd price 2018

ইয়ামাহা এসজেড আরআর ভি২ – ভাল দিক

  • স্মুথ ইঞ্জিন
  • ফিনিশিং ভাল
  • সাসপেনশন ফিডব্যাক ভাল
  • সিটি এবং হাইওয়েতে কমফোর্টেবল ভাবে রাইড করতে পারবেন
  • ফুয়েল ট্যাঙ্ক অনেক বড়, তাই লং রাইড করতে পারবেন সহজেই
  • পেশীবহুল ডিজাইন

ইয়ামাহা এসজেড আরআর ভি২ – খারাপ দিক

  • দাম একটু বেশি । (সিবিউ কন্ডিশন)
  • ইঞ্জিন বেশি পাওয়াফুল নয়
  • ফুয়েল মিটার ভুল রিডিং দেখায়
  • হ্যান্ডলবার বেশি প্রশস্ত নয়

yamaha sz-rr v2 review

ইয়ামাহা এর অন্যতম স্টাইলিশ মোটরসাইকেল হচ্ছে ইয়ামাহা এসজেড আরআর ভি২ । এর থেকে অনেক বেশি পারফর্মেন্স আশা করা ভুল তবে দামের কথা চিন্তা করলে যদি ধরা হয় ওভারঅল কমফোর্ট অনুযায়ী একদম খারাপ নয় । এই বাইকটি তাদের জন্য যারা প্রতিদিনের চলাচলে বাইক ব্যবহার করেন এবং স্পিডের চেয়ে রাইডিং কেই বেশি গুরুত্ব দেন । এই টেস্ট রাইড রিভিউতে আমাদের পার্টনার হিসেবে ছিল রেস, গিয়ারএক্স, নিটল ইন্স্যুরেন্স ও টুরিনো টায়ার ।

About Arif Raihan opu

One comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*