আমার মোটরসাইকেল রাইডিং অভিজ্ঞতা

বন্ধুরা আমি এই প্রথম বাংলায় আমার মোটরসাইকেল রাইডিং অভিজ্ঞতা লেখার চেষ্টা করছি, তাই কিছুটা ব্যাংলিশ বা ভুল বাংলা হয়ে গেলে আশা করি ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন। যাহোক কেন যেন বাংলায় লিখতে গেলে সবকিছু কিছুটা প্যাঁচ লেগে যায়। হাহাহা...তাহলে শুরু করা যাক... আমি আসলে কোন রিভিউ লিখছি না। কারণ আমার মতে একটি মোটরসাইকেলের কি ভাল কি মন্দ তা অনেকখানে নির্ভর করে চালকের উপর। যেমন কেউ খুব হাই RPM এ চালায়,কেউ খুব রাফ চালায়,কেউ খুব আকাবাকা রাস্তায় চালাতে পছন্দ করে, কেউ সোজা রাস্তায় তুফানের মত চালাতে পছন্দ করে,কেউ চিপাচাপায় জোরে চালাতে পছন্দ করে কিন্তু খোলা রাস্তায় খুবই সাবধানে চালায়, কেউ কিছুক্ষণ জোরে চালায়…

Review Overview

User Rating: 4.9 ( 1 votes)

বন্ধুরা আমি এই প্রথম বাংলায় আমার মোটরসাইকেল রাইডিং অভিজ্ঞতা লেখার চেষ্টা করছি, তাই কিছুটা ব্যাংলিশ বা ভুল বাংলা হয়ে গেলে আশা করি ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন। যাহোক কেন যেন বাংলায় লিখতে গেলে সবকিছু কিছুটা প্যাঁচ লেগে যায়। হাহাহা…তাহলে শুরু করা যাক…

মোটরসাইকেল-রাইডিং-অভিজ্ঞতা

আমি আসলে কোন রিভিউ লিখছি না। কারণ আমার মতে একটি মোটরসাইকেলের কি ভাল কি মন্দ তা অনেকখানে নির্ভর করে চালকের উপর। যেমন কেউ খুব হাই RPM এ চালায়,কেউ খুব রাফ চালায়,কেউ খুব আকাবাকা রাস্তায় চালাতে পছন্দ করে, কেউ সোজা রাস্তায় তুফানের মত চালাতে পছন্দ করে,কেউ চিপাচাপায় জোরে চালাতে পছন্দ করে কিন্তু খোলা রাস্তায় খুবই সাবধানে চালায়, কেউ কিছুক্ষণ জোরে চালায় আবার আস্তে আবার জোরে.. মোদ্দা কথা, একই মোটরসাইকেল রাইডার ভেদে ভিন্ন পারফরমেন্স, ভিন্ন সমস্যা, ভিন্ন সুবিধা প্রদর্শন করবে। তবে তাই বলে রিভিউ-র বিরুদ্ধে আমি কিছু বলতে চাচ্ছি না কেবল আমি কেন রিভিউ বলতে চাই না তার ব্যাখ্যা দিলাম। রিভিউ অবশ্যই সাহায্য করে, কারণ অনেকেই যেই মোটরসাইকেলকে ভাল বলে তা ভাল হবার সম্ভাবণাই বেশি।

আমি Yamaha Fazer চালাই, বর্তমানে ২১০০০কিঃমিঃ এর মত চালিয়েছি। এখানে আমি এযাবৎ যত সমস্যার মুখোমুখি হয়েছি সেসব তুলে আনার চেষ্টা করব। কেউ চাইলেই একে আমার বোকামীর ইতিহাসও বলতেই পারেন। হাহাহা…

ফ্রন্ট ব্রেক প্যাড নিয়ে মোটরসাইকেল রাইডিং অভিজ্ঞতা:

ইমাহার ব্রেক প্যাড খুব দ্রুতই ক্ষয় হয়ে যাবে যদি আপনি শেষ মুহুর্তে ব্রেক করেন সবসময়। বলে রাখি, আমি স্টান্ট করি না, খুব রাফ চালাইনা, খুব দ্রুতও চালাই না।

এটাই আমার প্রথম মোটর সাইকেল। প্রথমবার যখন ফ্রন্ট ব্রেক প্যাড ক্ষয় হয়ে গিয়ে ভয়ংকর শব্দ করছিল, আমি ভেবেছিলাম বুঝি ফোর্কের বারটা বেজে গেছে। তাই আমি আরো কয়েকদিন চালিয়ে দুটার মাঝে তফাৎ বুঝতে চাইলাম। বাইকতো তখনো থামত…হাহাহাহা… পরে যখন আমার মেকানিকের কাছে নিয়ে গেলাম আসলে কি হয়েছে তা দেখানোর জন্য, সে কেবল আমার দিকে একটা শূন্য দৃষ্টি দিল যেন বলতে চাইল, “আপনি এটা কি করছেন?” আর হাত দিয়ে ব্রেক ডিস্ক দেখালো। ভাল করে তাকিয়ে দেখলাম, ডিস্ক এর নানা জায়গায় দাগের মত পড়ে গেছে।হাহাহা…

তাই যদি আপনার ব্রেক প্যাড তুলনামুলিক দ্রুত ক্ষয় হয়ে যায় তাহলে ডিস্কটি চেক করুন। যদি কোন ক্ষয়ের চিহ্ন থাকে তাহলে শুধু ব্রেক প্যাড না পরিবর্তণ করে সাথে ডিস্কটিও পালটে নিন।

যদি ডিস্ক কোণ কারনে সামান্যও বাকা হয়,আপনি সেটা সহজেই টের পাবেন কারণ আপনার হ্যান্ডেলবার কাঁপবে বা ভাইব্রেট করবে চালানোর সময়।

কোন প্রকার তেল, বিশেষ করে, ব্রেক অয়েল বা ফোর্ক ওয়েল যেন ডিস্কে না লাগে, তাহলে সামনের ব্রেক কাজ করবেই না প্যাড যতই ভাল থাকুক। তাই ফোর্ক অয়েল সিলের দিকে খেয়াল রাখুন বিশেষ করে ডান পাশেরটি।

টায়ার নিয়ে মোটরসাইকেল রাইডিং অভিজ্ঞতা:

নতুন বাইকের সাথে যে টায়ার আসে, তা আমি পরে কিনি নাই। স্টক টায়ার গ্রিপ ভাল দিলেও খুব দ্রুতই ক্ষয় হয় এবং এমনকি নিচের ছবির মত অবস্থা হতে পারে। তাই আমি আলাদা ধরনের টায়ার কিনেছিলাম।

my-motorcycle-riding-experience-with-tire

একবার আমি খুব সম্ভবত ৬০কিঃমিঃ এ চালাচ্ছিলাম, হঠাৎ টায়ার ফেটে গেল। ভাগ্যিস আমি সোজা রাস্তায় ছিলাম,তাই কোন সমস্যা হয়নি। আল্লাহ জানে,কোন টার্নের মধ্যে থাকলে কি হইত।

পরবর্তীতে আমি একজনের পরামর্শে যেই টায়ার নিলাম, সো ফার খুবই ভাল অবস্থা। বৃষ্টির দিনে একটু সাবধানে চালাইতে হয় কারণ দুই একবার স্পিন করছে কিন্তু এছাড়া গরমে তেমন সমস্যা করে নাই। এই নতুন টায়ার ব্রেক করার সময় খুবই ভাল ফিডব্যাক দেয়।

নরম কম্পাউন্ডের টায়ারে গ্রিপ ভাল হলেও ব্র্যাকের সময় খুব ডানে বামে মুভ করতে চায় কিন্তু নতুন টায়ারে বেশ স্ট্যাবল থাকে বাইক।এটা কিনছি ১৩/১৪০০০কিঃমিঃ এ থাকতে বা তারো একটু আগে।

ইঞ্জিন নিয়ে মোটরসাইকেল রাইডিং অভিজ্ঞতা:

আপনার বাইক যদি এমন অবস্থায় ইতিমধ্যে চলে আসে যখন ইঞ্জিনের কম্প্রেশান থাকছে না, তাতে আপনার মেকানিক হয়ত পিস্টন পরিবর্তণ করতে বলবে। দয়া করে তা না করে, পুরা সিলিন্ডার ব্লক পরিবর্তণ করুন। আপনি দোকান থেকে যে পিস্টন কিনবেন তা স্টক সিলিন্ডারের সাথে ম্যাচ করার জন্য সিলিন্ডারটি বোর করতে হয় যা কখনোই সঠিকভাবে হবে না বা বলতে পারেন নতুন থাকতে যেমন ছিল তেমন হবে না। তাই আগের পারফরমেন্স বা যদি ভবিষ্যৎ ঝামেলা থেকে নিজেকে মুক্ত রাখতে চান তাহলে পুরো ব্লকই পালটে ফেলুন। খরচ প্রায় একই পড়বে। আমিও একই সমস্যায় পড়ে পিস্টন পরিবর্তণ করেছি কিন্তু এখনো একই সমস্যা রয়েই গেছে প্রায়।

আর যদি পিস্টন ঠিকভাবে সিলিন্ডারে ফিট না করে তাহলে চেম্বারে তেল যাবে, এতে স্পার্ক প্লাগ শর্ট হবার সম্ভাবণা বেশি থাকে। আবার ভালভ ঠিক মত এডজাস্ট করা না হলে বা ভালভ ডেমেজ হলেও একই ব্যাপার হতে পারে আর সেক্ষেত্রে কম্প্রেসন লিকও করতে পারে।

আর ইঞ্জিন স্টার্ট করলে যদি টিকিং শব্দ হয় তাহলে টাইমিং চেইন থেকেও রকারের সমস্যা হবার চান্স বেশি। টাইমিং চেইন দীর্ঘদিন ব্যবহারে কিছুটা লম্বা হয়ে গিয়ে লুজ হয়ে যেতে পারে তাই অনেক সময় ইঞ্জিন ভাল রেসপন্স নাও করতে পারে। তার জন্য ইঞ্জিনে টাইমিং চেইন টেনশানার নামে একটা বোল্ট থাকে, তা অটোমেটিকই টেনশান ঠিক রাখে যতদিন ঠিক রাখার মত অবস্থা থাকে কিন্তু যখন আর পারে না তখনই আপনার এমন শব্দ হতে পারে যেন ইঞ্জিন ঠিক মত তেল পাচ্ছে না বা ইঞ্জিন বন্ধ হয়ে যাবার আগে যেমন শব্দ করে। এসব এই কারণে বললাম যাতে আপনি হুট করে প্রয়োজন ছাড়া স্টক টাইমিং চেইন পালটে না ফেলেন। বাজারে যেসব টাইমিং চেইন পাওয়া যায় তা থেকে স্টক টাইমিং চেইন অনেক ভালো।

স্পার্ক প্লাগ নিয়ে আমার অভিজ্ঞতা:

my-motorcycle-riding-experience-with-spark-plugবাইকের ভাল্ভ নষ্ট হবার কারণে স্পার্ক প্লাগ শর্ট হয়ে যেতে পারে। যদি আপনার এয়ার-ফুয়েল মিক্সচার ঠিক না থাকে তা আপনি প্লাগ দেখে বুঝতে পারবেন। যদি আপনার পিস্টন রিং ক্ষয় হয়ে আসে তাহলে ইঞ্জিন হাই রেভে না চালানোই ভাল।

ফুয়েল স্ক্রু এক্ষেত্রে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। বেশি তেল খরচ হয় বলে অনেকেই ফুয়েল স্ক্রু নিয়ে নাড়াচাড়া করেন। কিন্তু করার আগে অবশ্যই হিসাব করে নেবেন স্টক সেটিং। তারপর এবার যা করার করবেন। মনে রাখবেন, ঘড়ির মত করে ঘুরালে তেল কম যাবে আর উলটো দিকে ঘুরালে তেল বেশি যাবে। তেল বেশি বাতাস কম হলে রিচ মিক্সচার আর তেল কম বাতাস বেশি হলে লিন মিক্সচার। অতিরিক্ত লিন মিক্সচারে ইঞ্জিন গরম হবার প্রবণতা হতে পারে আবার অতিরিক্ত রিচ হলে প্লাগ নষ্ট হতে পারে।

মোটরসাইকেল গ্যারেজ:

যারা মোটর সাইকেল চালান তাদের জন্যে মোটর মেকানিক তথা মোটর গ্যারেজ একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। আমাদের চট্টগ্রামে যে সমস্ত মেকানিক কাজ করে বলে আমার কাছে মনে হয়েছে ভাল তাদের নাম এখানে উল্লেখ করছি, যদি আপনার কোণ ভাল মেকানিকের নাম জানা থাকে দয়া করে শেয়ার করবেন।

মোস্তফার গ্যারেজ, ফিরিঙ্গি বাজারঃ যে কোন রোডমাস্টারের জন্য…

গৌতমের গ্যারেজ, শিল্পকলার কাছেঃ কোণ মেকানিক হয়ত শুক্রবার কাজ করে না কিন্তু ওনাকে ফোন দিলে শুক্রবারো পাবেন যদি বাড়িতে চলে না যান। ফোন নম্বর ০১৮১৩৯৪৬৮১৮

বোরহান, কদমতলীর মোড়ঃ ফোন নম্বর ০১৮১৯০৬৮৩৫৩

দেলোয়ার, কদমতলীর মোড়ঃ অলস হলেও কাজের মান ভাল।

ঘোষ, দামপাড়াঃ ছোট গ্যারেজ কিন্তু যে কোন ডায়াগনোসিস খুবই ভাল মানের।

আজকে এই পর্যন্তই, আশা করি নতুন যারা মোটরসাইকেল জগতে আসছে তাদের কাজে লাগবে বা আপনারো কোন না কোণ কাজে লাগবে। ভাল থাকবেন। ধন্যবাদ।

লেখক: Crow Castle (halfscare.crow@gmail.com)

 

About Saleh Md. Hassan

আমি কোন বাতিকগ্রস্ত পথের খেয়ালী ধরনের নই…. তবে মোটরসাইকেল পছন্দ করি ও প্রয়োজনে ব্যবহার করি মাত্র…. কিছুটা ঘরকুনো বাধ্যগত চালক…. তবে মাঝে মাঝে নিজের ভেতরের যোগী-ভবঘুরে স্বত্তাকে মুক্তি দেই আমার দুইচাকার ঘোড়ার উপর চেপে বসে বিস্তৃত অদেখার পথে ছুটে যাবার জন্য…..অনেকটা বাঁধনহীন চির ভবঘুরের মতো…..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*